Home কুরআন ও হাদিসের আলো রহমের দৃষ্টি

রহমের দৃষ্টি

সকাল থেকেই সাহিলের মন আজ ভীষণ ঝরঝরে। অনেক দিন পর, নানাবাড়ি যাচ্ছে সে। সাথে আব্বু-আম্মু, ভাই-বোন সবাই। নানা-নানুর প্রিয়মুখ বারবার ভেসে উঠছে চোখের পর্দায়। ছোটবেলার আদুরে স্মৃতিগুলো হাতছানি দিয়ে ডাকছে কেবল। আচ্ছা, নানাবাড়ির স্মৃতি এত মধুর- এত আবেগমাখা হয় কেন?

সাহিল এ ঘর থেকে ও ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একবার আম্মুর কাছে, একবার আপুর কাছে। সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সাহিলের যেন আর দেরি সইছে না। ইস! ঘড়ির কাঁটাটাও কি থেমে আছে?
হঠাৎ আব্বু এসে সামনে পড়লেন। বললেন- মাশাআল্লাহ! তুমি তো দেখছি প্রস্তুত হয়েই আছো। সবুজ পাঞ্জাবি, সাদা পাজামায় তোমাকে দারুণ লাগছে! ‘কখন বের হবো আমরা?’- জানতে চাইল সাহিল। আব্বু বললেন- এই তো, একটু পরেই। বসো, আমরা ততক্ষণ একটু গল্প করি।
‘গল্প? এখন তো কিছুই শুনতে ইচ্ছে করছে না’- সাহিলের জবাব। আব্বু বললেন- ঠিক গল্প নয়, ছোট্ট একটি হাদিস!

মহানবী (সা) বলেছেন- ‘তিন ধরনের মানুষের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না! তাদের দিকে তাকাবেনও না! তাদের পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি!’ এত কঠিন কথা যাদের ব্যাপারে, তারা কারা আব্বু? খুব কৌতূহলের সাথে জানতে চাইল সাহিল। আব্বু বললেন- তারা হলো, ‘যারা গোড়ালির নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে, দান করে খোঁটা দেয় এবং মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে!’ (মুসলিম)।
সাহিল মনে মনে ভাবতে লাগল- হঠাৎ করে এ হাদিস শোনালেন কেন আব্বু! মাথা নিচু করে নিজের পাজামার দিকে খেয়াল করল সে। হ্যাঁ, গোড়ালির নিচে নেমে আছে! সাহিল নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ঠিক করে নিচ্ছি আব্বু! কী ঠিক করে নিচ্ছো?- আব্বু বললেন। সাহিল হেসে উঠল। হেসে উঠলেন আব্বুও।
সাহিল বলল, সামান্য একটি বিষয়কে অবহেলা করে আল্লাহ তায়ালার রহমের দৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করতে চাই না। আব্বু পরম আদরে সাহিলকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলেন।
– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply