Home আইটি কর্নার ওয়াইফাই রাউটারের গতি বাড়ানোর উপায় শরীফ তাজওয়ার

ওয়াইফাই রাউটারের গতি বাড়ানোর উপায় শরীফ তাজওয়ার

ইন্টারনেট পুরো পৃথিবীটাকেই হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। আর ওয়াইফাই প্রযুক্তি ইন্টারনেটকে করেছে সহজসাধ্য। তবে এর গতির ভিন্নতা থাকে। কখনো কম, কখনো বেশি। ওয়াইফাইয়ের স্পিড নানা কারণে কমে যেতে পারে। আর রাউটারের ওপর অনেকাংশেই ইন্টারনেটের স্পিড নির্ভর করে। এ ছাড়াও গোপনীয়তা রক্ষার অভাবেও অনেক সময় অনেক তথ্য অন্যের কাছে চলে যেতে পারে। এখন ওয়াইফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে এবং কী করলে শক্তিশালী হবে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক তা নিয়ে আলোচনা করবো।
পুরনো অনেক রাউটারই ধীরগতিতে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। আর এ সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য প্রয়োজন দ্রুতগতির রাউটার। এক্ষেত্রে রাউটারের গতি দেখে নিতে হবে। এটি যদি ইন্টারনেটের লাইনের তুলনায় কম গতির হয় তাহলে রাউটার পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে।
ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর সবচেয়ে কাছাকাছি স্থানে কোনো বাধা ছাড়া রাউটার রাখতে হবে। বাড়িতে বহু ভারি ফার্নিচার থাকলে সেগুলোর আড়ালে নয় বরং সেগুলোর ওপরে রাউটার বসানো উচিত। এতে বাধামুক্তভাবে রাউটার ডিভাইসগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে। এছাড়া বাড়ির এক প্রান্তে না রেখে তা বাড়ির মাঝামাঝি স্থানে বসানোই যুক্তিসঙ্গত।
* রাউটারের ফ্রিকোয়েন্সি অন্য যন্ত্রপাতির ফ্রিকোয়েন্সির সঙ্গে কনফ্লিক্ট করছে কি না, তা জেনে রাখা দরকার। রাউটার যদি ২.৪ গিগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে তাহলে তা কর্ডলেস ফোন, মাইক্রোওয়েভ, ব্লুটুথ, সিসিটিভি ইত্যাদির সঙ্গে কনফ্লিক্টের সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে ৫ গিগাহার্জ কিংবা ভিন্ন কোনো ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
* রাউটারের সঙ্গে ডিভাইসের মাঝে দ্রুত যোগাযোগের পথে বহু জিনিসই বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এসব বাধার মধ্যে রয়েছে ধাতব দরজা, অ্যালুমিনিয়াম কাঠামো, ওয়াল ইনসুলেশন, পানির ট্যাংক বা অ্যাকুরিয়াম, আয়না, হ্যালোজেন লাইট, গ্লাস ও কংক্রিট। এ ধরনের বাধাগুলো যেখানে সবচেয়ে কম সেখানেই প্রয়োজনীয় যন্ত্র বা রাউটার স্থাপন করতে হবে।
* রাউটার ও ইন্টারনেট সরবরাহের কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন সফটওয়্যার নিয়মিত আপগ্রেড হয়। একটু খেয়াল রেখে রাউটার ও মোবাইল ডিভাইস বা পিসির সফটওয়্যার আপডেট করে নিলে ইন্টারনেটের ভালো গতি পাওয়া যেতে পারে।
* নেটওয়ার্ক বাড়ানোর জন্য এক্সটেন্ডার পাওয়া যায়। ওয়াইফাই রাউটার থেকে দূরে কোথাও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে এক্সটেন্ডার ব্যবহার করতে পারো।
* ইন্টারনেটের সংযোগ কোনো প্রতিবেশী ব্যবহার করলে এতে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই প্রতিবেশীদের থেকে সাবধান। অবশ্য কয়েকজন প্রতিবেশী মিলে একটি গতিশীল ইন্টারনেট নিয়ে তা শেয়ার করে ব্যবহার করাও একটি ভালো বুদ্ধি।
* ওয়াইফাই ইন্টারনেটের জন্য ডঊচ বাদ দিয়ে কিছুটা নিরাপদ ডচঅ/ডচঅ২ ব্যবহার করুন। এটি ইন্টারনেট ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনও প্রয়োজনীয়।
* ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে নাম ও ডিভাইসের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তার বদলে সাংকেতিক নাম ও অত্যন্ত গোপনীয় পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত।
* ওয়াইফাই রাউটারের অ্যান্টেনার বাইরে ডিশ অ্যান্টেনার মতো বা অন্য কোনো উপায়ে টিনের ফয়েল ব্যবহার করে সিগন্যাল বাড়ানো সম্ভব। অন্য উপায়গুলো কাজ না করলে এটি ব্যবহার করা যায়।

এ বিষয়গুলো মেনে চললে আশা করা যায়- ওয়াইফাই রাউটারের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে।

SHARE

Leave a Reply