Home তোমাদের গল্প পাখিদের জয় ফয়সাল হোসেন মাসুদ

পাখিদের জয় ফয়সাল হোসেন মাসুদ

খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছেলে তানসিপ, সারাদিন টোটো করে বন বাগানে ঘুরে বেড়ায় সে। একটি পাখিও বোধ হয় তার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কোন পাখি কোথায় ডিম পাড়ে আর কোথায় বাসা বাঁধে সব কিছু তার মুখস্থ।
কখনো, কখনো পাখির পিছনে ঘুরতে ঘুরতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে যায় তানসিপের হুঁশই থাকে না।
এলাকার সব ছেলেই তাকে পাখি বিক্রেতা বলেই ডাকে।
তার সবচেয়ে বড় কাস্টমার প্রভাত, রাকিব ও রিসাত। তারাও মাঝে মাঝে তানসিপের সাথে উঁকি দেয় পাখিদের বাসায়। পাখি বাচ্চা ফোটায় উদ্বিগ্ন থাকে কখন শিকারি তানসিপের কালো চোখে পড়ে তাদের বাচ্চা।
যখন পাখিরা বাচ্চা দেয় না তখন মা পাখিদের দিকে তীর নিক্ষেপ করেই আঘাত করে তানসিপ। কোন কোন পাখি মারা যায় আবার কোনটা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পেটের ক্ষুধায় ধুঁকে ধুঁকে মরে।
হেমন্ত-শীতকালীন সময়ের অতিথি পাখিরাও রক্ষা পায় না শিকারি তানসিপের হাত থেকে।
হঠাৎ একদিন সকল পাখি তানসিপদের এলাকা ছেড়ে চলে গেছে দূরের এক অরণ্যে।
সেখানে সব পাখি মিলে সভা ডাকলো। সব পাখি বললো যেভাবে শিকারি তানসিপ আমাদেরকে হত্যা করে ধ্বংস করছে এমনি চলতে থাকলে এক সময় আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
সব পাখি মিলে চিন্তা করলো কী করা যায় শিকারির হাত থেকে বাঁচতে কিন্তু কেউ কোন উপায় বের করতে পারলো না। সর্বশেষ সব পাখি বললো আজকের মত সভা শেষ করা যাক। আমরা সবাই কালকে আবার সভায় বসবো এবং কী করা যায় দেখবো।
সব পাখি দূরের এই বনে শান্তিতে ঘুমালো ও সকালে সব পাখিরা যথাসময়ে চলে এলো সভায় ও কিচিরমিচির করে চেঁচামেচি করে কথা বলা শুরু করলো।
সবার প্রথমে কথা বললো চড়ুই। সে বললো গত রাত আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্নে একজন লোক আমাকে এসে বললো তোমরা ওই শিকারির হাত থেকে বাঁচতে চাও তাহলে তোমরা আমার কথা শুনো।
এই বনের সবচেয়ে বড় গাছের নিচে দু’টা বিষাক্ত পিঁপড়া আছে। সেখান থেকে একটা পিঁপড়াকে তোমরা ঠোঁটে করে নিয়ে শিকারি তানসিপের শোয়ার ঘরে রেখে আসবে তখন এই বিষাক্ত পিঁপড়ার নিঃশ্বাসে ছেলেটির হাত দু’টি অকেজো হয়ে যাবে এবং সে আর তোমাদের ধ্বংস করতে পারবে না।
একে একে দোয়েল, ময়না, বাবুই, টুনটুনি সবাই বললো আমরাও একই স্বপ্ন দেখেছি।
তখন পাখিরা বলতে লাগলো শিকারির শোয়ার ঘরে পিঁপড়া রেখে আসবে কে?
সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো ছোট্ট পাখি টুনটুনি এই দায়িত্ব পালন করবে।
স্বপ্নের ব্যাখ্যা অনুসারে টুনটুনি পাখিটি একটা পিঁপড়া নিয়ে শিকারি তানসিপের শোয়ার ঘরে রেখে এলো। যেই চাওয়া সেই কাজ তানসিপ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলো ও আস্তে আস্তে তানসিপের হাত দু’টি অবশ হয়ে গেল।
তানসিপের পিতা-মাতা ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেল এখন ছেলেকে নিয়ে কী করা যায়।
তানসিপের পিতা-মাতা কান্নাকাটি করতে লাগলো।
সেই দিন রাত তানসিপের আম্মু স্বপ্নে দেখলো এক লোক এসে বলছে ‘আপনার সন্তান পাখিদের কষ্ট দিত, পাখির বাচ্চা নষ্ট করতো তখন পাখিদের মায়েরও ভীষণ কষ্ট হয়েছিল, যেভাবে আজ আপনি কষ্ট পাচ্ছেন। তবে আপনার ছেলে ভালো হয়ে যাবে। আপনাদের বাগানের সবচাইতে বড় গাছের নিচে একটা পিঁপড়া আছে। সেই পিঁপড়াটাকে তানসিপ স্পর্শ করলে তার হাত ভালো হয়ে যাবে। তবে আর কখনো পাখি মারলে সে আর কখনো সুস্থ হবে না।’
সকাল বেলা তানসিপের মা খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলো এবং ছেলেকে সব কথা বললো।
ছেলে মাকে বললো মা আমি আর কখনো কোন পাখির বাসা থেকে বাচ্চা নিবো না। কখনো কোন পাখিকে তীর নিক্ষেপ করবো না। তারপর তার মা পিঁপড়া তার কাছে আনতেই সে আগের মতো ভালো হয়ে উঠলো।
সে বাগানে গিয়ে দেখলো ভোরে পাখির মিষ্টি সুরের গান ভেসে আসছে। পাখিদের কলকাকলিতে ভরে যাচ্ছে বাগান। আর মনে হচ্ছে যেন এটা দুনিয়ার স্বর্গ।
তানসিপ স্লোগান লিখলো-
পাখিদের জয়
আমাদের জয়।

SHARE

Leave a Reply