Home চিত্র-বিচিত্র আদুরে খরগোশ জাহিদ ইকবাল

আদুরে খরগোশ জাহিদ ইকবাল

খরগোশ পরিচিত প্রাণী। শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের জন্য অনেকের পছন্দের প্রাণী খরগোশ। খরগোশের কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। আজ পরিচয় করিয়ে দিব এমন একটি প্রজাতির খরগোশের সাথে যা দেখতে খুব তুলতুলে। এই খরগোশ প্রজাতির নাম আঙ্গোরা।
বিশেষ এই প্রজাতির খরগোশ খুবই তুলতুলে হয়, কেননা এদের সারা দেহ ঘন লোমে আবৃত থাকে। আর এই কারণে খরগোশগুলোর মধ্যে এরাই সব থেকে জনপ্রিয়। ইতিহাস থেকে দেখা যায় গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে এরা বেশ পুরনো। এই খরগোশের আদিবাস তুর্কির আনকারা অঞ্চলে।
আঙ্গোরা প্রাণীটি খরগোশের অন্যতম একটি প্রাচীন প্রজাতির। তাদের প্রজনন তুরস্কে শুরু হয়েছিল। এই প্রাণীদের আসল নাম ছিল তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার নাম, যা আগে আঙ্গোরা নামে পরিচিত।
প্রাথমিকভাবে, আঙ্গোরা খরগোশরা আভিজাত্যের পোষা প্রাণী হিসাবে ইউরোপে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই খরগোশগুলো শুধু মাত্র ফ্রান্স রাজবংশ লালন পালন করত রাজকীয় গৃহপালিত পশু হিসেবে।
পরবর্তীতে আঠারো শতকের শেষের দিকে এই খরগোশ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যেতে থাকে আর ২০ শতকের প্রথম দিকে তা চলে আসে আমেরিকাতেও। এভাবেই সারা বিশ্বে এক সময় পরিচিত হয়ে ওঠে আঙ্গোরা।
আঙ্গোরা খরগোশের দেহ এবং মাথা গোলাকার, কিছুটা প্রসারিত। কানগুলো ছোট, খাড়া হয়। এদের আকার সাধারণ খরগোশের চেয়ে কিছুটা বড় হয়। আঙ্গোরা খরগোশের ওজন দুই থেকে ছয় কেজি হতে পারে। তেমনিভাবে যতেœর ওপর নির্ভর করে আয়ু পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত হয়। প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীদের শরীরে পশমের পরিমাণ দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়।
বিভিন্ন সবজি এদের প্রধান খাবার। এরা বাঁধাকপি, গাজর, দুগ্ধজাতীয় পণ্য, তাজা ঘাস খেয়ে থাকে। তাছাড়া এরা ফলমূল, খড়, কচি ডাল পছন্দ করে।
আঙ্গোরা খরগোশ খুবই প্রাণবন্ত। এরা খেলাধুলা করতে পছন্দ করে। আদর, যত্ন পেলে এরা খুব সহজেই পোষ মানায়। তাই পুরো পৃথিবীতেই চাহিদা রয়েছে এই তুলতুলে আদুরে প্রাণীটির।

SHARE

Leave a Reply