Home স্বাস্থ্য কথা দাঁতের যত্ন রবিউল হক

দাঁতের যত্ন রবিউল হক

সুন্দর একটি হাসি দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সুন্দর দাঁত। তাই তো প্রয়োজন দাঁতের যত্ন। এ জন্য আজকে আমি আলোচনা করব দাঁতের কিভাবে রোগ হয় এবং আমাদের কিভাবে এর যত্ন নিতে হবে।

দাঁতের ক্ষয় রোগ
দাঁতের ক্ষয় রোগ বয়স্ক এবং শিশু উভয়ের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ সমস্যা। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে প্রায় ৬০-৯০% শিশুর দাঁতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। দাঁতের ক্ষয়জনিত সমস্যা আকস্মিকভাবে হয় না। প্রথমদিকে দাঁতের উপরিভাগে এনামেল নষ্ট হতে থাকে। এটি সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না, কেননা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুইটি দাঁতের মধ্যবর্তী অংশে এই ক্ষতি হয়ে থাকে, যা ধীরে ধীরে ছড়াতে থাকে ও দাঁতের অন্যান্য অংশ, অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে আরো দুর্বল ও সংবেদনশীল অংশের ক্ষতি করে। এনামেল পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে গেলে দাঁত ক্ষয় হতে শুরু করে এবং মাড়ি ও দাঁতের গোড়া বা মূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দাঁতের যত্ন না নিলে ও নিয়মিত ব্রাশ না করলে এ সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে দাঁতে ব্যথা, ইনফেকশন, এমনকি দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।
কারণ
আমাদের দাঁত ও মাড়িতে একধরনের স্বচ্ছ ও আঠালো পদার্থ জমতে দেখা যায়, যাকে আমরা প্লাক বলে থাকি। এই প্লাকে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা আমাদের গ্রহণ করা খাদ্যবস্তুতে উপস্থিত সুগার বা চিনির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। ব্যাকটেরিয়া থেকে একধরনের এসিড তৈরি হয় যা আমরা খাবার খাওয়ার ২০ মিনিট বা এর অধিক সময় ধরে দাঁতের ক্ষতি করতে থাকে। এই এসিডের প্রভাবে এনামেল নষ্ট হয় ও দাঁত ক্ষয়ে যায়।

অন্যান্য যেসকল কারণে দাঁতের ক্ষয় রোগ দেখা দেয় সেগুলো হলো:
-নিয়মিত ফ্লসিং ও ব্রাশ না করলে। এ ছাড়াও নির্দিষ্ট সময় পর পর দাঁত পরিষ্কার ও চেক-আপ না করালে।
-চিনিযুক্ত ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বেশি খেলে।
-ফ্লুরাইডের অভাব দেখা দিলে এই সমস্যা হয়ে থাকে কারণ ফ্লুরাইড এসিড ও প্লাকের হাত থেকে দাঁতকে সুরক্ষিত রাখে এবং ক্ষয় প্রতিরোধ করে।
-মুখের লালা শুকিয়ে গেলে: লালা দাঁতে আটকে থাকা খাদ্যকণা ও ক্ষতিকর সুগার প্রতিরোধ করে এবং দাঁতকে ক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচায়। সাধারণ মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে ও নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের ব্যবহারে মুখের লালা শুকিয়ে যায়। বয়স্কদের এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস থাকলে। সিগারেট, সিগারেটের ধোঁয়া ও তামাক ব্যবহারের কারণে। বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যাদের দাঁত এখনো পুরোপুরিভাবে ওঠেনি, তাদের এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। কেননা এ অবস্থায় দাঁতে মিনারেলের পরিমাণ কম থাকে। ফলে খুব দ্রুত দাঁত নষ্ট হতে শুরু করে।

লক্ষণ
চিকিৎসকরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখতে পান-
দাঁতের ব্যথা, মাড়িতে ব্যথা, মুখমণ্ডলে ব্যথা, পায়ে পানি আসা, কানের ব্যথা, মুখে ব্যথা, চোয়াল ফুলে যাওয়া, ত্বক ফুলে যাওয়া, ত্বকের জ্বালাপোড়া, অস্থিরতা, চোখে ব্যথা হওয়া।

দাঁতের সঠিক যতেœ কিছু করণীয়
১. আপনার টুথব্রাশ প্রতি তিন মাস পর পর বদলান।
২. প্রতিদিন দুধ পান করার চেষ্টা করুন, এটি আপনার ক্যালসিয়াম বাড়ায়। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে।
৩. টুথব্রাশ এমন হতে হবে যেন সহজেই তা বাঁকানো যায়। একটি ছোট বৃত্তাকার গতিতে আপনার দাঁতের ভেতরে, বাইরে, ওপরে এবং নিচে ব্রাশ করুন। কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং চিনিযুক্ত খাবার আপনার দাঁত থেকে দূরে রাখুন।
৪. খুব শক্ত ব্রাশ আপনার মাড়িতে আঘাত করে রক্ত ঝরাতে পারে আর খুব নরম ব্রাশ প্লাক দূর করতে পারে না। তাই মাঝারি ধরনের ব্রাশ ব্যবহার করুন।
৫. যখন আপনার সামনের দাঁতের ভেতর পাশ ব্রাশ করবেন, প্রথমে টুথব্রাশকে আপনার দাঁতের ডান পাশের ওপর রাখুন। এরপর ব্রাশ নিচে এবং উপরের দিকে সরিয়ে প্রতিটি দাঁত ব্রাশ করবেন। এই পদ্ধতি প্রতিটি দাঁতের জন্য বেশ কয়েকবার করে করুন।
৬. দাঁত ব্রাশ করার পরে মুখে মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।
৭. আপনার জিহবা ব্রাশ করতে ভুলবেন না, সেই সাথে আপনার মুখের ওপরের তালু।

ব্যাকটেরিয়া আমাদের একটা অংশ, এটা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। প্রত্যেকের মুখেই লক্ষ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যার কোনো উদ্দেশ্য নেই। এটি দাঁতের পৃষ্ঠের চারপাশে নিজেদের স্থান করে নেয় এবং আমাদের দাঁতে ‘প্লাক’ সৃষ্টি করে অদৃশ্যভাবে আমাদের দাঁত ক্ষয় করতে থাকে। এটা খুব স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং দ্রুত ঘটে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার জিহবা আপনার দাঁতের ওপর চালালেই এই অনুভূতি অনুভব করতে পারবেন। তাই অবহেলা না করে সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন নিন। দাঁতের সঠিক যতেœ এই কাজগুলো করুন, আশা করি সুস্থ থাকবে আপনার দাঁত।

SHARE

Leave a Reply