Home দেশ-মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর্জেন্টিনা মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর্জেন্টিনা মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকার একটি রাষ্ট্র। সরকারি নাম আর্জেন্টাইন প্রজাতন্ত্র। বুয়েনস আইরেস দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশের প্রায় পুরোটা জুড়ে অবস্থিত আর্জেন্টিনা। আয়তনের দিক থেকে এটি দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম রাষ্ট্র। আন্দেস পর্বতমালা দেশটির পশ্চিম সীমানা নির্ধারণ করেছে, যার অপর পার্শ্বে চিলি অবস্থিত। দেশটির উত্তরে বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে, উত্তর-পূর্বে ব্রাজিল, পূর্বে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর এবং দক্ষিণে ড্রেক প্রণালী।
আর্জেন্টিনার আয়তন ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ বর্গ কিলোমিটার (১০,৭৩,৫১৮ বর্গ মাইল)। জনসংখ্যা ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৯ হাজার ১১৮ জন। জাতিগত গ্রুপের মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ও মেসটিজো (বহুলাংশে ইতালীয় ও স্প্যানিশ অধস্তন বংশধর) মোট জনসংখ্যার ৯৬.৭ শতাংশ, আমেরিন্ডিয়ান ২.৪ শতাংশ, এশীয় ০.৫ শতাংশ এবং আফ্রিকান ০.৪ শতাংশ। প্রধান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে খ্রিষ্টান ৭৯.৬ শতাংশ, হিন্দু ৪ শতাংশ, মুসলিম ২ শতাংশ এবং অন্যান্য ১.২ শতাংশ। এ ছাড়া অধার্মিক প্রায় ১৩.২ শতাংশ।
আর্জেন্টিনার জাতীয় ভাষা স্প্যানিশ। এ ছাড়া অন্যান্য স্বীকৃত ভাষার মধ্যে রয়েছে গুয়ারানি, কুয়েচুয়া, উইচি ও ওয়েলশ। এদেশের মুদ্রার নাম আর্জেন্টাইন পেসো।
আর্জেন্টিনার ভূ-প্রকৃতি ও আবহাওয়া বিচিত্র। উত্তরের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণের মেরু-উপদেশীয় অঞ্চল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিস্তার। এর মধ্যেই আছে রুক্ষ আন্দেস পর্বতমালা ও তার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আকোনকাগুয়া। তবে বেশির ভাগ লোক দেশটির মধ্যভাগে অবস্থিত বিশাল উর্বর প্রেইরি সমভূমি পাম্পাসের শহরগুলোতে বাস করে। পাম্পাসেই দেশটির অধিকাংশ কৃষিসম্পদ উৎপন্ন হয় এবং এখানেই দক্ষিণ আমেরিকার বিখ্যাত কাউবয় ‘গাউচো’-দের আবাসস্থল। আর্জেন্টিনায় আরও আছে অরণ্যভূমি, মরুভূমি, তুন্দ্রাভূমি, সুউচ্চ সব পর্বতশৃঙ্গ, নদ-নদী এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আটলান্টিক মহাসাগরীয় উপকূলভূমি। এ ছাড়া দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের অনেকগুলো দ্বীপ আর্জেন্টিনা নিজেদের বলে দাবি করে, যার মধ্যে ব্রিটিশ-শাসিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম। আর্জেন্টিনীয়রা এগুলোকে মালবিনাস দ্বীপপুঞ্জ বলে থাকে। এর বাইরে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের একটি অংশও আর্জেন্টিনা নিজের বলে দাবি করে।
আর্জেন্টিনায় আদি প্রস্তর যুগে মানববসতির নিদর্শন পাওয়া গেছে। আধুনিক আর্জেন্টিনার ইতিহাস ১৬ শ’ শতকে স্প্যানীয় ঔপনিবেশীকরণের মাধ্যমে সূচিত হয়। ১৭৭৬ সালে এখানে স্প্যানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে রিও দে লা প্লাতা উপরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এই উপরাজ্যের উত্তরসূরি রাষ্ট্র হিসেবে আর্জেন্টিনার উত্থান ঘটে। প্রায় তিন শতাব্দী ধরে ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৮১০ সালে আর্জেন্টিনা স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৮১৮ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধ বিজয় শেষ হয়। আর্জেন্টিনার জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীরা দক্ষিণ আমেরিকার অন্যত্রও বিপ্লবে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এরপরে দেশটিতে অনেকগুলো গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। শেষ পর্যন্ত ১৮৬১ সালে অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেশন হিসেবে দেশটি পুনর্গঠিত হয়, যার রাজধানী নির্ধারিত হয় বুয়েনস আইরেস। এর পরে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং ইউরোপ থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর আগমন ঘটে, যার ফলে সাংস্কৃতিক ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে দেশটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ১৯ শ’ শতকের শেষ ভাগ থেকে আর্জেন্টিনা প্রচুর পরিমাণে কৃষিদ্রব্য যেমন গোশত, পশম, গম ইত্যাদি রফতানি শুরু করে। দক্ষিণ আমেরিকায় আর্জেন্টিনায়ই প্রথম শিল্পায়ন শুরু হয় এবং এটি বহুদিন ধরে এই মহাদেশের সবচেয়ে ধনী দেশ ছিল। সে সময় এখানকার অধিবাসীরা ইউরোপীয় দেশগুলোর সমমানের জীবনযাত্রা নির্বাহ করত। ব্যাপক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে দেশটি বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বের সপ্তম ধনী দেশে পরিণত হয়।
আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক ইতিহাস সংঘাতময়। দেশটির সবচেয়ে বিখ্যাত প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন শ্রমিক শ্রেণী ও দরিদ্রদের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু তিনি ছিলেন একজন একনায়ক এবং সমস্ত বিরোধিতা কঠোর হাতে দমন করতেন। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ১৯৫৫ সালে পেরনের পতন ঘটে। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনের সময় বহু আর্জেন্টিনীয়কে বিচার ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর আর্জেন্টিনায় আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
আর্জেন্টিনা ল্যাটিন আমেরিকায় একটি আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াদিতে দেশটি তার ঐতিহাসিক মধ্যম শক্তির মর্যাদা বজায় রেখে চলেছে। আর্জেন্টিনা জি-১৫ ও জি২০ এর সদস্য। এ ছাড়া দেশটি জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, মারকোসার, কমিউনিটি অব ল্যাটিন আমেরিকান অ্যান্ড ক্যারিবিয়ান স্টেটস এবং অর্গানাইজেশন অব ইবারো-আমেরিকান স্টেটস এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
আর্জেন্টিনায় ফেডারেল প্রেসিডেন্সিয়াল সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত। এদেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফারনান্দেজ। পার্লামেন্টের নাম ন্যাশনাল কংগ্রেস। ন্যাশনাল কংগ্রেস দ্বিকক্ষ-বিশিষ্ট: সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ। সিনেটের সদস্য সংখ্যা ৭২ এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য সংখ্যা ২৫৭। আর্জেন্টিনা ২৩টি প্রদেশ এবং একটি স্বায়ত্তশাসিত নগরী (বুয়েনস আইরেস) নিয়ে গঠিত। প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রদেশগুলো ডিপার্টমেন্ট ও মিউনিসিপালিটিতে বিভক্ত। অপরদিকে বুয়েনস আইরেস সিটি কমিউনে বিভক্ত।
পাম্পাস এবং বিস্তীর্ণ ঊষর পাতাগোনীয় ভূপ্রকৃতির রোমান্টিক হাতছানি সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা মূলত একটি নগরকেন্দ্রিক রাষ্ট্র। দেশটির রাজধানী বুয়েনস আইরেসকে ঘিরে থাকা আধুনিক ও ব্যস্ত শহরতলিগুলো পাম্পাসের পূর্ব অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। বুয়েনস আইরেস দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটিকে প্রায়ই প্যারিস ও রোমের সাথে তুলনা করা হয়। ১৯ শ’ শতকের শেষভাগে ও ২০ শ’ শতকের শুরুর দিকে ইতালি, স্পেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ অভিবাসী এখানকার শিল্প-কারখানাগুলোতে জীবিকা নির্বাহ করার লক্ষ্যে দেশান্তরী হন। বৃহত্তর বুয়েনস আইরেস এলাকায় আর্জেন্টিনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগণ বাস করে। দেশটির অন্যান্য প্রধান শহরগুলোর মধ্যে আছে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলস্থিত মার দেল প্লাতা, লা প্লাতা ও বাইয়া ব্লাঙ্কা এবং দেশের অভ্যন্তরভাগে অবস্থিত রোসারিও, সান মিগেল দে তুকুমান, কর্দোবা ও নেউকেন।
আর্জেন্টিনার আকোনকাগুয়া এশিয়ার বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত, যার উচ্চতা ৬ হাজার ৯৬০.৮ মিটার (২২,৮৩৭ ফুট), এবং দক্ষিণ গোলার্ধের সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে দেশটির স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ৩৭৬ কিলোমিটার (৫,৮২৬ মাইল)। রিও দে লা প্লাতা ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে দেশটির তটরেখার দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ১১৭ কিলোমিটার (৩,১৮০ মাইল)। মেন্দোসা প্রদেশে অবস্থিত আকোনকাগুয়া আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ পর্বত। এটি সমুদ্রতল থেকে ৬ হাজার ৯৫৯ মিটার (২২,৮৩১ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। এ ছাড়াও আকোনকাগুয়া দক্ষিণ গোলার্ধ ও পশ্চিম গোলার্ধের সর্বোচ্চ পর্বত। আর্জেন্টিনার সর্বনিম্ন স্থান হচ্ছে সান্তা ক্রুস প্রদেশে অবস্থিত লাগুনা দেল কার্বন, যা সান হুলিয়ান বৃহৎ অবনমনের একটি অংশ। এটি সমুদ্র সমতল থেকে ১০৫ মিটার (৩৪৪ ফুট) নিচে অবস্থিত। এ ছাড়াও এটি দক্ষিণ গোলার্ধ ও পশ্চিম গোলার্ধের সর্বনিম্ন স্থান এবং পৃথিবীর ৭ম সর্বনিম্ন স্থান।
আর্জেন্টিনার উত্তরতম স্থানটি রিও গ্রান্দে দে সান হুয়ান ও রিও মোহিনেতে নদী দুটির সঙ্গমস্থলে, হুহুই প্রদেশে অবস্থিত। দেশটির দক্ষিণতম স্থান হলো তির্য়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশের সান পিও অন্তরীপ। সর্বপূর্ব স্থানটি মিসিওনেস প্রদেশের বেরনার্দো দে ইরিগোইয়েন শহরের উত্তর-পূর্বে এবং সর্বপশ্চিম স্থানটি সান্তা ক্রুস প্রদেশের লোস গ্লাসিয়ারেস জাতীয় উদ্যানের মধ্যে পড়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ৬৯৪ কিলোমিটার (২,২৯৫ মাইল); এর বিপরীতে পূর্ব থেকে পশ্চিমে দেশটির সর্বোচ্চ প্রশস্ততা প্রায় ১,৪২৩ কিলোমিটার (৮৮৪ মাইল)।
আর্জেন্টিনার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পারানা নদী ও উরুগুয়াই নদী (নদী দুটি একত্র হয়ে রিও দে লা প্লাতা নদী গঠন করেছে), সালাদো নদী, রিও নেগ্রো নদী, সান্তা ক্রুস নদী, পিকোমাইয়ো নদী, বের্মেহো নদী ও কোলোরাদো নদী। এই সব নদীর পানি আর্জেন্টিনীয় সাগরে গিয়ে পড়েছে। আটলান্টিক সাগরের যে অগভীর অংশটি আর্জেন্টিনীয় শেলফ বা সমুদ্র-তাকের ওপরে অবস্থিত, তাকেই আর্জেন্টিনীয় সাগর বলা হয়। এটি একটি অস্বাভাবিকভাবে প্রশস্ত মহাদেশীয় মঞ্চ। এই সাগরের পানি দুইটি প্রধান মহাসাগরীয় স্রোতের প্রভাবাধীন: উষ্ণ ব্রাজিল স্রোত এবং শীতল ফকল্যান্ডস স্রোত।
দক্ষিণে অবস্থিত ইসলা গ্রান্দে দে তিয়েররা দেল ফুয়েগো নামক দ্বীপের পূর্ব অর্ধাংশ আর্জেন্টিনার অন্তর্গত। এ ছাড়াও পূর্বের বেশ কিছু সামুদ্রিক দ্বীপ যেমন ইসলা দে লোস এস্তাদোস আর্জেন্টিনার অধীন।
সাধারণভাবে আর্জেন্টিনায় প্রধান চার ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করে : উষ্ণ, নাতিশীতষ্ণ, উষর ও ঠাণ্ডা। সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলো নাতিশীতুষ্ণ হলেও আর্জেন্টিনায় ব্যতিক্রমধর্মী বিচিত্র আবহাওয়া বিদ্যমান। এদেশের আবহাওয়া উত্তরের প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় থেকে দক্ষিণের মেরু প্রকৃতি পর্যন্ত বিস্তৃত।
আর্জেন্টিনার জাতীয় খেলা পাতো বা জুয়েগো ডেল পাতো। ঘোড়ার পিঠে চড়ে এই খেলা করা হয়। স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত এই খেলা ১৯৫৩ সাল থেকে জাতীয় খেলা হিসেবে চালু রয়েছে। তবে ফুটবল এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ব্রাজিল ও ফ্রান্সের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জাতীয় পুরুষ ফুটবল টিম হচ্ছে একমাত্র দল যারা তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খেলায় জয়লাভ করেছে। সেগুলো হলো বিশ্বকাপ, কনফেডারেশন্স কাপ ও অলিম্পিক স্বর্ণ পদক। আর্জেন্টিনা ১৪টি কোপা আমেরিকা, ৭টি প্যান আমেরিকা স্বর্ণপদক এবং বহু অন্যান্য পদকও জয়লাভ করেছে। ফুটবলের ইতিহাসে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, দিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম।
তবে ফুটবলের পাশাপাশি এদেশে হকি, বাস্কেটবল, রাগবী ইত্যাদি খেলাও হয়ে থাকে।

SHARE

Leave a Reply