Home তোমাদের গল্প গেইম আসক্তি -মুহাম্মদ ইমতিয়াজ

গেইম আসক্তি -মুহাম্মদ ইমতিয়াজ

খুব খিদে পেয়েছে। কোচিং থেকে বের হয়ে সোজা নাহিদ কাকুর টঙে চলে গেলাম। নাম নাহিদ হওয়াতে দুষ্টামি করে নাহিদ কাকু বলে ডাকি। আনিছ বলল কাকু ২ কাপ চা দেন। একটাতে চিনি কম।

আমি কলা দিয়ে বনরুটি খাচ্ছিলাম, এমন সময় এ্যাঁ ইমতু, এ্যাঁ ইমতু বলে কেউ একজন ডাক দিলো। আমি আর আনিছ চারিদিকে খুঁজতে লাগলাম। কাউকে দেখছি না, হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন জাপটে ধরলো।

আরে মিনহাজ না?
– হ্যাঁ, চিনতে পারছিস না?
– কী বলিস চিনতে পারবো না মানে?
– অনেক দিন পর…
– তোর এ অবস্থা কেন? কখন এলি শহরে?
– আরে খিদা পেয়েছে বস, খেতে খেতে বলছি।

কাকু আরেকটা চা দেন।
খুলে বল..!
জেডিসিতে আমার রেজাল্ট তো জানিস?
– হ্যাঁ, গোল্ডেন এ+ পেয়েছিলি, তাও পুরো স্কুল থেকে তুই।
– হু, রেজাল্ট দেখে খুশি হয়ে বাবা একটা স্মার্ট ফোন কিনে দিয়েছিল।
– তারপর…
– তুই তো জানিস পষধংয ড়ভ পষধহ নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতাম। ঠিক মতো পড়াশোনাও করতাম না। এসএসসি পরীক্ষার আগের রাতে গেইম নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
হ্যাঁ, আমরা তো নিয়মিত খেলতাম। ক্লাসে স্যারকে ফাঁকি দিয়ে, গভীর রাত জেগে আমরা ‘ধিৎ ধঃঃধপশ’ গুলো করতাম।
– বাবা আশা করেছিলেন আমি এ+ পাবো।
তাই বাবা উৎসুক ছিলেন। বেলা ২টায় রেজাল্ট বের হয়েছে। আমি পাস করিনি শুনে বাবা স্ট্রোক করেন।
– ইন্নালিল্লাহ! এখন আংকেলের কী অবস্থা?
– বাবা এখন হুইল চেয়ারে। কাজ করতে পারেন না, পরিবারের একমাত্র ভরসা আমি।
বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে ডাক পড়েছে, মিনহাজ কই? মিনহাজ কই?
– আমি এ বিল্ডিংয়ে কাজ করি। ফোন দিস। দেখা হবে। এই বলে উঠে চলে গেছে।

ততক্ষণে চোখের জলে কপোল ভিজে গেলো। মিনহাজের মতো মেধাবীর স্বপ্ন শেষ হওয়ার পিছনে আমিই দায়ী। সে পষধংয ড়ভ পষধহ খেলতে চায়নি। আমিই তাকে জোর করে গেইম খেলিয়েছিলাম।
পষধংয ড়ভ পষধহ, মিনহাজের জীবনে এভাবে অ্যাটাক করবে তা কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি।

SHARE

Leave a Reply