Home দেশ-মহাদেশ ইউরোপের উন্নত দেশ ইতালি -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

ইউরোপের উন্নত দেশ ইতালি -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

ইতালি আল্পস পর্বতমালার মাধ্যমে সীমানা নির্দেশিত এবং বেশ কয়েকটি দ্বীপ পরিবেষ্টিত একটি উপদ্বীপ নিয়ে গঠিত রাষ্ট্র। সরকারিভাবে দেশটিকে ইতালিয়ান প্রজাতন্ত্র বলা হয়। ইতালিয়ান ভাষায় ইতালিকে বলা হয় ইতালিয়া। ইতালির মোট ভূমির শতকরা ৩৫ ভাগ পর্বত দ্বারা গঠিত। ইতালি দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে অবস্থিত হলেও এটাকে পশ্চিম ইউরোপের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এটি একটি একীভূত প্রজাতান্ত্রিক সংসদীয় রাষ্ট্র। এর রাজধানী রোম।
ইতালির উত্তর সীমান্তে আল্পস্ পর্বতমালা সংলগ্ন ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও স্লোভেনিয়া অবস্থিত এবং দক্ষিণে সম্পূর্ণ ইতালীয় উপদ্বীপ, মেডিটারিয়ান সমুদ্র সংলগ্ন দুই মহাদ্বীপ সিসিলি ও সারদিনিয়া এবং আরো অনেক ছোট ছোট দ্বীপে পরিবেষ্টিত। সান মারিনো ও ভ্যাটিক্যান সিটি নামের দুটি স্বাধীন ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ইতালির অভ্যন্তরে অবস্থিত, অপরদিকে কাম্পিওনে ও লামপেডুসা নামে ইতালির দুটি অঞ্চল যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড ও তিউনিশিয়ার সমুদ্রসীমার মধ্যে অবস্থিত। ঋতুময় ইতালির আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ।
ইতালির আয়তন প্রায় ৩ লাখ ১ হাজার ৩৪০ বর্গকিলোমিটার (১ লাখ ১৬ হাজার ৩৫০ বর্গমাইল)। জনসংখ্যা ৬ কোটি ৩ লাখ ১৭ হাজার ১১৬ জন। জাতিগত গ্রুপের মধ্যে রয়েছে ইতালীয় ৯১.৫ শতাংশ এবং অন্যান্য ৮.৫ শতাংশ। প্রধান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে খ্রিষ্টান ৮৩.৮ শতাংশ, অধার্মিক ১২.৪ শতাংশ, মুসলিম ৩.৭ শতাংশ, বৌদ্ধ ০.২ শতাংশ, হিন্দু ০.১ শতাংশ এবং অন্যান্য ০.৩ শতাংশ। ইতালি জনসংখ্যার দিক দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৃতীয় এবং বিশ্বে ২৩তম জনবহুল দেশ।
এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত একটি দেশ। শেনঝেন চুক্তি স্বাক্ষরকারী বিধায় শেনঝেন ভিসা নিয়ে এ দেশে প্রবেশ করা যায়। ইউরো অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বিধায় এর মুদ্রা ইউরো। এ দেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু আছে।
দক্ষিণ ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে কেন্দ্রীয় ভৌগোলিক অবস্থানের দরুন ইতালি ঐতিহাসিকভাবে অসংখ্য জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির আবাসস্থল। বর্তমান আধুনিক ইতালিতে এই বিভিন্ন প্রাচীন জনগোষ্ঠী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছাড়াও এখানে ইন্ডো-ইউরোপীয় ইতালিক জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য রয়েছে। এরাই এই উপদ্বীপের নামকরণ করে। সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে ফিনিশিয়ান ও কার্থেজিয়ানরা বহুলাংশে পানিবেষ্টিত ইতালিতে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে, গ্রিকরা দক্ষিণ ইতালির তথাকথিত ম্যাগনা গ্রায়েশিয়ায় বসতি প্রতিষ্ঠা করে এবং ইট্রাস্কান ও সেল্টরা যথাক্রমে মধ্য ও উত্তর ইতালিতে বসবাস করতো। ল্যাটিন্স নামে পরিচিত একটি ইতালিক গোত্র খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে রোমান রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে, যা পরবর্তীতে সিনেট ও জনগণের একটি সরকারসহ প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। রোমান প্রজাতন্ত্র প্রাথমিকভাবে ইতালীয় উপদ্বীপে তার প্রতিবেশীদের দখল ও অঙ্গীভূত করে, পরবর্তীকালে ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু অংশ জয় করে সম্প্রসারিত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর মধ্যে রোমান সা¤্রাজ্য ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকায় প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং একটি শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়। আর এর ফলে প্যাক্স রোমানিয়ার সূচনা ঘটে। প্যাক্স রোমানিয়ার ২০০ বছরেরও বেশি সময়কালে ইতালির আইন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, শিল্পকলা ও সাহিত্যের উন্নয়ন ঘটে। ইতালি রোমানদের মাতৃভূমি এবং সা¤্রাজ্যের কেন্দ্রভূমিতে পরিণত হয়ে আছে। সংস্কৃতি, সরকারব্যবস্থা, খ্রিষ্টধর্ম এবং ল্যাটিন লিপির বিশ্বব্যাপী বিস্তারে রোমান সা¤্রাজ্যের স্বাক্ষর এখনো লক্ষ করা যায়।
মধ্য যুগের গোড়ার দিকে ইতালি পশ্চিম রোমান সা¤্রাজ্যের পতন এবং বারবারদের আগ্রাসন দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করে, তবে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে বিশেষ করে ইতালির উত্তর ও মধ্য অঞ্চলে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগর-রাষ্ট্র ও সামুদ্রিক প্রজাতন্ত্রগুলো ব্যবসা, বাণিজ্য ও ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন করে। আর এভাবে আধুনিক পুঁজিবাদের বুনিয়াদ গড়ে ওঠে। বহুলাংশে স্বাধীন এসব ক্ষুদ্ররাষ্ট্র এশিয়া ও নিকট প্রাচ্যের সাথে ইউরোপের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এরা প্রায়শই বৃহত্তর সামন্ততান্ত্রিক রাজ্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। অপরদিকে বৃহত্তর সামন্ত রাজ্যগুলো সারা ইউরোপে তাদের অবস্থান সংহত করতে থাকে। কিন্তু মধ্য ইতালির একাংশ ঈশ্বরতান্ত্রিক প্যাপাল স্টেটস বা ধর্মরাজ্য হিসেবে রয়ে যায়। অপরদিকে, দক্ষিণ ইতালি ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বহুলাংশে সামন্ত রাজ্য হিসেবেই থেকে যায়। আংশিকভাবে বাইজান্টাইন, আরব, নরমান, অ্যাংজেভিন, অ্যারাগোনিজ এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য বিদেশী পরম্পরাগত বিজয়ের ফলে ইতালিতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইতালিতে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ শুরু হয় এবং তা অবশিষ্ট ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। আর এর ফলে গোটা ইউরোপে নতুন করে মানবতাবাদ, বিজ্ঞান, আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে সমুদ্র ভ্রমণ ও শিল্পকলায় আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ইতালীয় সংস্কৃতি বিকশিত হয় এবং বিখ্যাত পণ্ডিতবর্গ, শিল্পীগণ এবং বহুবিদ্যাবিশারদদের আবির্ভাব ঘটে। ইতালীয় অনুসন্ধানীরা দূর প্রাচ্য ও নতুন বিশ্বেও পথ আবিষ্কার করে, যা ইউরোপীয় আবিষ্কার যুগের উন্মেষ ঘটাতে সহায়ক হয়। তথাপি, ভূমধ্যসাগর এড়িয়ে বাণিজ্যপথ খুলে গেলে ইতালির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা তাৎপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস পায়। ইতালীয় নগর-রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বহু শতাব্দীর দ্বন্দ্ব এবং অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের (যেমন পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর ইতালীয় যুদ্ধ) ফলে ইতালি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে থাকে এবং বহু শতাব্দী ধরে নানা ইউরোপীয় শক্তি ইতালিকে আরো বিভক্ত করে।
মধ্য-ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে ইতালীয় জাতীয়তাবাদী জাগরণ এবং বিদেশী নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীনতার দাবি বিপ্লবী রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। কয়েক শতাব্দীর বৈদেশিক শাসন এবং রাজনৈতিক বিভক্তির পর ইতালি ১৮৬১ সালে প্রায় পুরোপুরি একীভূত হয়ে যায় এবং একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবে ইতালি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ইতালি বিশেষ করে উত্তরে দ্রুত শিল্পায়িত হয়ে ওঠে এবং একটি ঔপনিবেশিক সা¤্রাজ্য অর্জন করে; পক্ষান্তরে দক্ষিণ অংশ বহুলাংশে অনুন্নত থেকে যায় এবং শিল্পায়ন থেকে বাদ পড়ে। ফলে একটি বৃহৎ ও প্রভাবশালী প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে চারটি প্রধান মিত্র শক্তির অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও ইতালি অর্থনৈতিক সঙ্কট ও সামাজিক গোলযোগের মধ্যে পড়ে। এর ফলে ১৯২২ সালে ইতালীয় ফ্যাসিবাদী একনায়কত্বের উত্থান ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষ শক্তির পক্ষে অংশগ্রহণের পরিণতি দাঁড়ায় সামরিক পরাজয়, অর্থনৈতিক ধ্বংস এবং ইতালীয় গৃহযুদ্ধ। ইতালির স্বাধীনতার পর দেশটি রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ভোগ করে এবং একটি অতি উন্নত দেশে পরিণত হয়।
বর্তমানে, ইতালি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশটি বিশ্বের অষ্টম-বৃহত্তম অর্থনীতি, জাতীয় সম্পদের দিক দিয়ে ষষ্ঠ-বৃহত্তম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ মজুদের দিক দিয়ে তৃতীয়-বৃহত্তম। মানুষের গড় আয়ু, জীবনযাত্রার মান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে এদেশের অবস্থান অনেক উচ্চে। ইতালি আঞ্চলিক ও বিশ্ব অর্থনীতি, সামরিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশটি আঞ্চলিকও একটি বৃহৎ শক্তি। ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃস্থানীয় সদস্য এবং অসংখ্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য, যেমন জাতিসংঘ, ন্যাটো, ওইসিডি, ওএসসিই, ডব্লিউটিও, জি৭, জি২০, ভূমধ্যসাগরীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস, শেনজেন এরিয়া ও অন্যান্য বহু সংস্থা। ইতালিতে বিশ্বের বৃহত্তম সংখ্যক বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান রয়েছে এবং পর্যটন আকর্ষণের দিক দিয়ে দেশটির অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম।
শতাব্দীর পশ্চিমা সভ্যতায় রোমান সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থল হওয়ার কারণে রোমকে ইতালির রাজধানী করা হয়। এর অবনতির পর, ইতালি বহুসংখ্যক ভিনদেশী, জার্মানিক উপজাতি যেমন লোম্বার্ডস ও ওস্ট্রুগোথস থেকে শুরু করে বাইজান্টাইন্স এবং পরবর্তীতে নর্মান্স, সাথে আরো অনেকের অনুপ্রবেশ সহ্য করেছে। পরবর্তী শতাব্দী রেনেসাঁর জন্মভূমি হয়ে উঠে। ইতালির অখণ্ড আকারের পরবর্তীকালীন ইউরোপীয় বুদ্ধিদীপ্ত গতিবিধি ও চিন্তা ধারণা ব্যাপকভাবে উর্বরতা পায়।
রোমানোত্তর ইতিহাসে যদিও ইতালি অনেক রাজ্য ও শহরে বিভক্ত ছিলো- সারদিনিয়া রাজ্য, দুই সিসিলিয়া রাজ্য, ডাচি অব মিলান কিন্তু ১৮৬১ সালে একীভূত হয়, ইতিহাসের এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে, যা “ইল রিসরজিমেন্ত” (পুনরুত্থান) নামে পরিচিত। ১৯ শতকের শেষের দিকে, ১ম বিশ্বযুদ্ধ থেকে ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন ইতালি ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। এর শাসন লিবিয়া, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, আলবেনিয়া, ডোডেকানিস পর্যন্ত বর্ধিত করে ও চীনের তিয়াঞ্জিন শহরও এতে সম্মতি প্রদান করে।
বর্তমান ইতালি একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এদেশের পার্লামেন্ট দ্বিকক্ষবিশিষ্ট : উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (চেম্বার অব ডেপুটিজ)। বর্তমান প্রেসিডেন্ট সারজিও মাত্তারেলা, প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ্পে কন্টে। ইতালির প্রশাসনিক এলাকা ২০টি অঞ্চল, ১০৭টি প্রদেশ বা মেট্রোপলিটান নগরী এবং ৭ হাজার ৯৬০টি পৌরসভায় বিভক্ত। ইতালিকে বিশ্বের ২৩তম উন্নত দেশ হিসেবে গণ্য করা হয় ও জীবনের মান নির্দেশ বিচারে বিশ্বের সেরা দশে এদেশের অবস্থান। ইতালির ইউরোপীয় ও পৃথিবীব্যাপী সামরিক, সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশাল ভূমিকা পালন করে। ইউরোপীয় রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটিকে দিয়েছে আঞ্চলিক শক্তির মর্যাদা। দেশটির রয়েছে সরকারি উচ্চশিক্ষা কাঠামো ও উচ্চ বিশ্বায়িত জাতি।
ইতালি ইউরেশীয় প্লেট ও আফ্রিকান প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থিত। ফলে এদেশে ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। ইতালিতে ১৪টি আগ্নেয়গিরি আছে। এগুলোর মধ্যে ৪টি সক্রিয়। সেগুলো হলো ইতনা, স্ট্রমবলি, ভালকানো ও ভেসুভিয়াস।
ইতালির আবহাওয়া খুবই বৈচিত্র্যময়। অভ্যন্তরীণ উত্তর ও মধ্য অঞ্চলের বেশির ভাগে আর্দ্র আধা-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় থেকে আর্দ্র মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় আবহাওয়া বিরাজ করে। বিশেষ করে, পো উপত্যকা ভৌগোলিক অঞ্চলের আবহাওয়া বহুলাংশে মহাদেশীয়, অর্থাৎ কঠিন শীতকাল এবং উত্তপ্ত গ্রীষ্মকাল। উপকূলীয় লিগুরিয়া ও তুসকানি এলাকা এবং দক্ষিণের অধিকাংশ এলাকায় সাধারণত ভূমধ্যসাগরীয় আবহাওয়া বিরাজ করে। উপদ্বীপীয় উপকূল এলাকার অবস্থা অভ্যন্তর ভাগের উচ্চতর ভূমি থেকে একেবারেই ভিন্ন। বিশেষ করে, শীতকালীন মাসগুলোতে উঁচু পর্বতগুলোতে আবহাওয়া ঠাণ্ডা, ভেজা ও তুসারময়। উপকূলীয় অঞ্চলে মৃদু শীতকাল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল। হ

SHARE

Leave a Reply