Home প্রচ্ছদ রচনা ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি -আমিনুল ইসলাম ফারুক

ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি -আমিনুল ইসলাম ফারুক

কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়া মানে হেরে যাওয়া নয় বরং ব্যর্থতা মানে নতুন করে আবার শুরু করার প্রেরণা। ছোট্ট একটি শিশু হাঁটতে গিয়ে যখন বারবার মাটিতে পড়ে যায় তখন স্বীয় চেষ্টায় সে আবার উঠে দাঁড়ায়। ঠিক একইভাবে মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে এমন কিছু ব্যর্থতা আছে যেগুলো মোকাবিলা করেই তাকে সফল হতে হয়। তুমি যদি ব্যর্থ হতে হতেই সফল হতে শেখো তাহলে সফল হতে হতে আর ব্যর্থ হতে হবে না। যার জীবনে ব্যর্থতার কোনো গল্প নেই তার জীবনে সফলতাও নেই। বৈচিত্র্যের জন্যই পৃথিবী এত সুন্দর। শীতের জমাট কুয়াশা আছে বলেই ধূসর মেঘ কেটে রূপালি আকাশে সূর্যের ঝলমলে হাসি আমাদের প্রাণ ছুঁয়ে যায়। সমাজে গরিব মানুষ আছে বলেই ধনীদের এত কদর। মূর্খ আছে বলেই জ্ঞানীদের এত সম্মান। মানুষের জীবনে প্রতি স্তরে স্তরে এমন বৈচিত্র্য রয়েছে। একই স্থানে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, কী অপূর্ব ও পবিত্র জায়গা! অথচ এখানে কিছু মানুষ ভিক্ষা চায় ভেতরে এবং কিছু ভিক্ষা চায় বাইরে। বর যাত্রার সময় বর সবার পেছনে থাকে, আর সব মানুষ আগে আগে যায়। অথচ কবর যাত্রার সময় লাশ সবার আগে থাকে আর মানুষজন পিছনে পিছনে যায়। সমস্ত দুনিয়া সুখের দিন আগে থাকে আর দুঃখের দিনে পিছনে। অপূর্ব তুমি স্রষ্টা আর অদ্ভুত তোমার লীলা।
মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃত মানুষকে স্মরণ করা হয় কিন্তু মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়। আজ পর্যন্ত কখনই নুনে পোকা ধরেনি অথচ মিষ্টিতে প্রতি মুহূর্তেই পোকা লুটোপুটি খায়। পিঁপড়েরাও তাকে ছাড়েনি। সঠিক পথে মানুষ চলতেই চায় না অথচ বাঁকা পথে মানুষ অনায়াসেই চলে যায়। এ জন্যই মদ বিক্রেতাকে কোথাও যেতে হয় না কিন্তু দুধ বিক্রেতাকে পাড়ায় পাড়ায় লোকের দরজায় দরজায় যেতে হয়। কুরআন, বাইবেল, গীতা এক সাথে থাকে কিন্তু নিজেদের মধ্যে তারা কখনই লড়াই করে না, বাদানুবাদ করে না। অথচ যারা এদের নিয়ে লড়াই করে তারা কখনো এগুলো ধরেও না। মানুষকে জানোয়ার বললে ক্ষেপে যায় কিন্তু সিংহ কিংবা বাঘের বাচ্চা বললে খুশিতে গদগদ হয়। কী বিচিত্র এই দুনিয়া! কত বিচিত্র এই দুনিয়ার মানুষ! মানুষ যতটা না বিচিত্র তারচেয়েও বেশি বিচিত্র মানুষের চিন্তা ও তার কাজ।
এত বৈচিত্র্য আমরা স্বাভাবিকভাবে নিলেও শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে এই বৈচিত্র্য আমাদের কাম্য নয়- আমরা জীবনে কেউ ব্যর্থ হতে চাই না। সমগ্র পৃথিবীতে সাড়ে সাতশো কোটির বেশি মানুষ আমরা সবাই চাই সফল হতে। কিন্তু এই চাওয়া এবং পাওয়ার মাঝে একটি বিস্তর ও পাহাড়সম দেয়াল আছে। সেই দেয়াল পেরিয়ে জীবনের বিজয় নিশান উড়িয়ে দিতে পারে এমন মানুষ খুব কমই আছে। সে জন্য ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করে মাত্র একজনই। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় একটি দলই। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছতে পারে খুব অল্প কিছু মানুষ। বাকিদের সারাটি জীবন কেটে যায় সাফল্যের মরীচিকার সন্ধানে, নাগালের বাইরে থেকে যায় সাফল্যের সোনার হরিণ।কোনো কাজ সুসম্পন্ন হলে এবং এর অভীষ্ট সিদ্ধি হলে যে অনুভূতি হয়, সে অনুভূতিই মূলত সাফল্যের মাপকাঠি। জীবনে আমাদের অবস্থান দিয়ে সাফল্য বিচার হয় না। সেই অবস্থানে পৌঁছতে গিয়ে যে সমস্ত বাধা অতিক্রম করতে হয় সেই বাধা অতিক্রমের ক্ষমতা দিয়েই সাফল্যের পরিমাপ হয়। আমরা অপরের তুলনায় কিভাবে কাজ করছি তা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ করা যায় না। আমরা আমাদের শক্তি-সামর্থ্যরে কতটা ব্যবহার করতে পেরেছি তা দিয়েই সাফল্য নির্ধারিত হয়। প্রকৃতপক্ষে সফল ব্যক্তিরা অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করার আগে নিজের কাজের মান নিয়ে নিজের সাথে প্রতিযোগিতা করে। তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের কাজের মান ক্রমাগত উন্নততর করার চেষ্টা করে চলে।
জীবনে কত ওপরে ওঠা গেছে সাফল্য তা দিয়ে বিচার করা হয় না। বরং কতবার বিফলতা সত্ত্বেও হতাশা এবং বাধা অতিক্রম করে সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে পেরেছে সেই ক্ষমতা দিয়েই সাফল্য নির্ধারিত হয়। এ প্রসঙ্গে টম ওয়াটসন বলেছেন- ‘যদি সফল হতে চাও তবে ব্যর্থতার হার দ্বিগুণ করে দাও।’ ইতিহাস বলছে সমস্ত সাফল্যের কাহিনীর নেপথ্যে ব্যর্থতার কাহিনীই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সফলতা লাভের পর ব্যর্থতা সাধারণত মানুষের নজরে পড়ে না। ভালো কিছু থেকে ব্যর্থ হওয়া মানে তোমার জীবন ব্যর্থ নয়। হয়তো এমনও হতে পারে তুমি আরো ভালো কিছুর দিকে এগিয়ে যাবার পথে আছো।
জীবনে কেউ সফল হলে অনেকেই বলে ভাগ্যের খেলা, কেউ দোহাই দেয় মেধা, সুযোগ ও সম্ভাবনার। আসলেই কি তাই? একটু ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখতে পাবে একজন সফল এবং একজন ব্যর্থ মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অভ্যাস, কাজের ধরনে ছোট-বড় অনেকগুলো পার্থক্য রয়েছে। এমনকি তার কথা-বার্তার ধরন, খাদ্যাভ্যাস এবং পোশাক পরিচ্ছদেও। দিন শেষে এই ক্ষুদ্র পার্থক্যগুলোই গড়ে দেয় যত ব্যবধান।

চলো এবার পর্যালোচনা করা যাক এমন কিছু ব্যর্থ মানুষের জীবন সংগ্রামের কাহিনী যারা ব্যর্থ হতে হতেই জীবনে সফল হয়েছিলেন। আব্রাহাম লিংকন (১৮০৯-১৮৬৫), যিনি ব্যর্থতার উল্টো পিঠে দেখেছিলেন সাফলতার জ্বলজ্বল করা প্রতিচ্ছবি। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন ব্যর্থতাই মূলত সফলতার চাবিকাঠি। তিনি তাঁর সমগ্র জীবনে বহুবার ব্যর্থ হয়েছেন কিন্তু হতাশ হননি, ব্যর্থ হয়েছেন কিন্তু জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। বরং ব্যর্থতার তির্যক তীরকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে গিয়েছিলেন বারুদ আত্মবিশ্বাসে।
লিংকন সাহেব, ১৮৩২ সালে চাকরি হারান। ১৮৩৩ সালে ব্যবসায় ব্যর্থ হন। ১৮৩৫ সালের আইন-সভার নির্বাচনে পরাজিত হন। ১৮৩৬ সালে শিকার হন ‘হেড নার্ভাস ব্রেক ডাউন’ এর। ১৮৩৮ সালে পরাজিত হন স্পিকার পদে। ১৮৪৩ সালে ব্যর্থ হন কংগ্রেস নমিন্যাশনে। ১৮৪৯ সালে ল্যান্ড অফিসার পদে রিজেক্ট হন। ১৮৫৪ সালে আমেরিকার সিনেট নির্বাচনে পরাজিত হন। ১৮৫৬ সালে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নমিন্যাশনে ব্যর্থ হন। ১৮৫৮ সালে পুনরায় আমেরিকার সিনেট নির্বাচনে পরাজিত হন।
তিনি সারাজীবন ব্যর্থ হতে হতে শুধুমাত্র একবারই জয়ী হয়েছিলেন। আর সেই জেতাটা তিনি জিতেছিলেন ১৮৬০ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে। পরবর্তীতে তাঁর হাত ধরেই আমেরিকার গৃহযুদ্ধ বন্ধ হয় এবং তিনিই অবসান ঘটিয়েছিলেন দাস প্রথার। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ তাঁর অনুতাপের কারণ ছিল না কখনই। তিনি জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার জন্য পোস্ট মাস্টার, মুদি দোকানে কাজ এমনকি কাঠ কাটার কাজও করেছিলেন।

আরেক ব্যর্থ মানুষের কথা বলছি যাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয়, তিনি আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫)। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিভাধর ও বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের একজন তিনি। বিজ্ঞান গবেষণায় তিনি এতটাই সফল যে, বিজ্ঞানী শব্দটা মাথায় আসলেই বেশির ভাগ মানুষ তাঁর কথা ভাবেন। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা পদার্থবিজ্ঞানী বলা হয় তাঁকে। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত এই জার্মান জিনিয়াসকে গর্দভ মনে করা হতো। ছোটবেলাতে কিছুতেই তিনি ভালো ছিলেন না। কথা বলা শিখতেই তাঁর আট বছর লেগে গিয়েছিল। পড়াশোনাতে একদম ভালো ছিলেন না। তার ফলস্বরূপ ১৬ বছর বয়সে জুরিখের সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় শোচনীয়ভাবে ফেল করেন। এমতাবস্থায় পড়াশোনা ছেড়ে দিবেন বলে মনস্থ করলেও গ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো রকম পড়াশোনা চালিয়ে যান।
ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়েও প্রতিটি বিষয়ে তিনি এতটাই বাজে রেজাল্ট করতেন যে, তাঁকে একাধিকবার পড়াশোনা বাদ দেওয়ার চিন্তা করতে হয়েছিল। তাঁর পিতা মারা যাওয়ার সময়ে একমাত্র দুঃখ ছিল, এই গর্দভ ছেলে জীবনে কিছুই করতে পারবে না। বাবার এই কথায় আইনস্টাইন বহুদিন ধরে মনে কষ্ট চেপে রেখেছিলেন। কোনো চাকরি না পেয়ে বাধ্য হয়ে প্রথম জীবনে তিনি পেটের দায়ে ইন্স্যুরেন্স সেলসম্যানের কাজ নেন। তৎকালীন সময়ে কোনো কাজ না জানলে এই ধরনের কাজ করতে হতো। পরে এই কাজ ছেড়ে দিয়ে তিনি ডিভাইস পেটেন্টের কাজ নেন। এই কাজ করার সুবাদে তিনি গবেষণার সুযোগ পেয়ে যান এবং পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞানী বলে পরিচিতি পেতে থাকেন।
পরবর্তীতে এই ব্যর্থ মানুষটাই পৃথিবীর চেহারা বদলে দিয়েছেন। তাঁর উদ্ভাবিত ‘ঞযবড়ৎু ড়ভ জবষধঃরারঃু’ ন্যাচার, স্পেস, ম্যাস ও এনার্জির ক্ষেত্রে নতুন বোধশক্তির জন্ম দেয়। সোজা ভাষায় বললে তাঁর থিওরি প্রকৃতি, বিশ্বভ্রহ্মা ও শক্তি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বিশালভাবে বাড়িয়ে দেয়। এটা যে কত বিশাল তা ধারণা করা প্রায় অসম্ভব। বলা হয়, কোনো বিজ্ঞানী যদি এটা বোঝার চেষ্টা করেন তাহলে তিনি স্থিরই করতে পারবেন না, কোন জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। তবে আমরা যারা সাধারণ মানুষ ও কনজিউমার, তারা এই বিপ্লবী থিওরি থেকে নানাভাবে উপকৃত হয়েছি। যেমন- ট্রানজিস্টার, অর্থাৎ রেডিও, টেলিভিশন, ক্যাসেট প্লেয়ার, টেলিফোন সিস্টেম থেকে শুরু করে কম্পিউটার, ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, ফটো ইলেকট্রিক সেল ইত্যাদি পর্যন্ত। রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আণবিক ও পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের পেছনেও কাজ করেছে তাঁর এই বিপ্লবী থিওরি।

আইনস্টাইন ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও ‘জুডিইজম’ ধর্ম চর্চা করতেন না। তবে হিটলারের নাৎসি শাসন ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। ১৯৩৩-এ জার্মানিতে হিটলারের আদেশে তাঁর লেখা বই রাস্তায় পোড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয় তাঁর সমস্ত সম্পত্তি। এই সময়ে আইনস্টাইন আমেরিকাতে শিক্ষকতা করছিলেন। হিটলারের জার্মানিতে না গিয়ে তিনি সেখানেই থেকে যান। উল্লেখ্য ‘জায়নবাদ’ নামক মতবাদের মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া ইসরাইল নামক ইহুদি জাতিভিত্তিক রাষ্ট্রের জন্ম দেয় আমেরিকা। ১৯৫২-তে আইনস্টাইনকে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট পদ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আমেরিকাতে বসেই ইহুদি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
‘জায়নবাদ’ মূলত ইহুদি ধর্মের দর্শন নয় এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ; অলীক রূপকথার মাধ্যমে যে মতবাদের ধারা গড়ে উঠেছে। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই জায়নবাদী মতাদর্শকে আইনগত ভিত্তি দিতে নেসেটে (ঘঅটঝঊঞ) পাস হয় জাতি রাষ্ট্রবিষয়ক আইন। এই আইন অনুযায়ী দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইল রাষ্ট্রকে ঐতিহাসিকভাবে ইহুদিদের জন্মভূমি আখ্যা দেওয়া হয়।
আইনস্টাইন তাঁর থিওরি অব রিলেটিভিটিসহ পদার্থবিজ্ঞানের কয়েকটি মূল সূত্র আবিষ্কার করে গেছেন। বিজ্ঞানে অবদানের জন্য ১৯২১ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। আইনস্টাইন প্রমাণ করেছেন শুধু চেষ্টা এবং লেগে থাকার ফলে সবাইকে দিয়েই সব কিছু সম্ভব। তাঁর ‘আপেক্ষিক তত্ত্ব’ প্রকাশিত হলে তিনি বলেছিলেন- যদি আমার আপেক্ষিক তত্ত্ব সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে জার্মান আমাকে জার্মানি হিসেবে দাবি করবে। আর ফ্রান্স বলবে আমি হলাম পুরো পৃথিবীর নাগরিক। কিন্তু যদি তত্ত্বটা ভুল প্রমাণিত হয় তবে ফ্রান্স বলবে, আমি একজন জার্মানি এবং জার্মান বলবে আমি একজন নিকৃষ্ট ইহুদি। আইনস্টাইন তাঁর এক শিক্ষার্থীকে অভয় দিচ্ছিলেন এভাবে- গণিত নিয়ে এত চিন্তা করো না। তোমার কাছে গণিত যতটা কঠিন আমার কাছে তারচেয়েও বেশি কঠিন।
আইনস্টাইন এবং চার্লি চ্যাপলিন আমেরিকার এক পথ দিয়ে একদিন হাঁটছিলেন আর কথা বলছিলেন। চার্লি বললেন- মানুষ আমাকে খুব সহজেই বুঝতে পারে তাই আমি এত জনপ্রিয়। তো আপনি এত জনপ্রিয় কেন? চার্লির জবাবে আইনস্টাইন বলেন- আমাকে মানুষ খুব সহজেই বুঝতে পারে না তাই আমি এত জনপ্রিয়।

বিল গেটস্ বলেছেন- যারা ফেল করেছে তাদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে ভালো। কারণ ফেল-ই আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।

ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম একটি দারুণ কথা বলেছেন- জীবনে ব্যর্থতা আসবেই তাতে হার মেনো না। মনে রেখো প্রতিটা অন্ধকার রাতের পরেই কিন্তু সুন্দর একটা সকাল আসে।

নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনের এত বড় সাফল্যের রহস্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ম্যান্ডেলা বলেছিলেন- উড়হ’ঃ লঁফমব সব নু সু ংঁপপবংং, লঁফমব সব নু যড়ি সধহু ঃরসবং ও ভধষষ ফড়হি ধহফ মড়ঃ নধপশঁঢ় ধমধরহ. অর্থাৎ আমার সাফল্যের ভিত্তিতে আমাকে বিচার করো না। আমাকে বিচার করো ব্যর্থতার পর আমি জীবনে কতবার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি তার ভিত্তিতে। সবাই ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে। আগামীতে তোমাদের সাথে সাক্ষাতের আশা নিয়ে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফিজ। হ

SHARE

Leave a Reply