Home ভ্রমণ আমাদের দর্শনীয় স্থানসমূহ -মঈনুল হক চৌধুরী

আমাদের দর্শনীয় স্থানসমূহ -মঈনুল হক চৌধুরী

শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও জ্ঞান অর্জনে ভ্রমণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পাঠ্যবই পড়েই জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। খেলাধুলার মাধ্যমে যেমন শিশু-কিশোরদের দেহ ও মনের অনুশীলন হয়, তেমনি ভ্রমণের মাধ্যমেও শিশু-কিশোররা বাস্তব জীবন ও পৃথিবী সম্পর্কে মৌলিক ধারণা নিতে পারে। তাই ভ্রমণ নিঃসন্দেহে একটি আনন্দদায়ক ব্যাপার, শিক্ষার একটি অঙ্গ। শিশু-কিশোরদের মনকে সতেজ ও উদার করতে তাদের জ্ঞানের সীমানাকে সমৃদ্ধ করতে ভ্রমণের জুড়ি নেই। শিশু-কিশোররা যা বইতে পড়ে তা নিজ চোখে না দেখলে, সে শিক্ষা অসমাপ্ত থেকে যায়। ফলে ভ্রমণের মাধ্যমে যদি ওই সব বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করা যায়, তবে সে শিক্ষা পুরোপুরি সম্পন্ন হয়। আসলে শিশু-কিশোরদের মাঝে নিত্যনতুন কৌতূহল ও আকাক্সক্ষা থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ শিশু-কিশোরমন বৈচিত্র্যের মাঝেই আনন্দ খুঁজে নেয়। আমাদের এই রহস্যময় পৃথিবীতে কত যে বিচিত্র জায়গা, বিচিত্র মানুষ এবং চমৎকার সব দৃশ্যাবলি রয়েছে তার অন্ত নেই। শুধুমাত্র জ্ঞানের মধ্য দিয়েই শিশু-কিশোররা তা প্রত্যক্ষ করতে পারে। ভ্রমণে আনন্দ লাভ করাতো যায়ই, সে সাথে নতুন নতুন স্থানও দেখা যায়। উল্লেখ্য, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশেও রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান। যে স্থানগুলো যুগের পর যুগ আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাক্ষী হয়ে আছে। বন্ধুরা, তাই তোমাদের জন্য আমাদের দেশের দর্শনীয় কিছু স্থানের কথা আলোচ্য নিবন্ধটিতে তুলে ধরা হলো।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
শহীদ মিনার আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনে ভাষাশহীদদের উদ্দেশে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে এই স্তম্ভ নির্মিত হয়, যা বর্তমানে ‘শহীদ মিনার’ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, শহীদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। এর পরিকল্পনা, স্থান নির্বাচন ও নির্মাণকাজ সবই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়। বর্তমান শহীদ মিনারের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে শহীদদের রক্তভেজা স্থানে সাড়ে ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া ভিত্তির ওপর ছোট স্থাপত্যটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এর গায়ে ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ লেখা একটি ফলক লাগিয়ে দেওয়া হয়। নির্মাণের পরপরই এটি শহরবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রতীকী মর্যাদা লাভ করে। এখানে দলে দলে মানুষ এসে ভিড় জমায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। ওই দিনই বিকেলে পুলিশ হোস্টেল ঘেরাও করে এটি ভেঙে ফেলে। প্রথম নির্মিত শহীদ মিনারটি এভাবে ভেঙে ফেললেও পাকিস্তানি শাসকরা শহীদের স্মৃতি মুছে ফেলতে পারেনি। সারাদেশে, বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে অনুরূপ ছোট ছোট অসংখ্য শহীদ মিনার গড়ে ওঠে এবং ১৯৫৩ সাল থেকে দেশের ছাত্র-যুবসমাজ একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করতে থাকে। মেডিক্যাল হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারের শূন্য স্থানটিতে লাল কাগজে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের অবিকল প্রতিকৃতি স্থাপন করে তা কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়। সেই প্রতীকী শহীদ মিনার থেকেই সে বছর ছাত্রদের প্রথম প্রভাতফেরি শুরু হয়। পরের বছরও ছাত্ররা একইভাবে শহীদ দিবস পালন করেন। ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসে ৯ মে-র অধিবেশনে একুশ দফার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শহীদ মিনার তৈরি, একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে বটে, কিন্তু ওই বছর ৩০ মে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় তা আইনসিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৫৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পূর্ববঙ্গ সরকারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং ভাষাশহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম। সে সময়ই একুশে ফেব্রুয়ারিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভার আমলে শিল্পী হামিদুর রহমানের পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী মেডিক্যাল হোস্টেল প্রাঙ্গণের একাংশে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু হয়। শিল্পীর পরিকল্পনায় ছিল অনেকখানি জায়গা নিয়ে বেশ বড় আয়তনের শহীদ মিনার কমপ্লেক্স নির্মাণ করা। নকশায় মিনারের মূল অংশে ছিল মঞ্চের ওপর দাঁড়ানো মা ও তাঁর শহীদ সন্তানের প্রতীক হিসেবে অর্ধবৃত্তাকার স্তম্ভের পরিকল্পনা। স্তম্ভের গায়ে হলুদ ও গাঢ় নীল কাচের অসংখ্য চোখের প্রতীক খোদাই করে বসানোর কথা ছিল, যেগুলো থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো মিনার চত্বরে বর্ণালির এফেক্ট তৈরি করবে। এ ছাড়া মিনার-স্থাপত্যের সামনে বাংলা বর্ণমালায় গাঁথা একটি পূর্ণাঙ্গ রেলিং তৈরি ও মিনার চত্বরে দুই বিপরীত শক্তির প্রতীক হিসেবে রক্তমাখা পায়ের ও কালো রঙের পায়ের ছাপ আঁকাও মূল পরিকল্পনায় ছিল। পাশে তৈরি হওয়ার কথা ছিল জাদুঘর, পাঠাগার ও সংগ্রাম-বিষয়ক দীর্ঘ দেয়ালচিত্র (ম্যুরাল)। আশপাশের জায়গা নিয়ে চোখের আকৃতিবিশিষ্ট ঝর্ণা নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল, যার প্রান্তে থাকবে ঢেউ খেলানো উঁচু বেদি।
উক্ত পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী ১৯৫৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু হয়। হামিদুর রহমানের সহকর্মী হিসেবে ছিলেন ভাস্কর নভেরা আহমদ। এ সময়ে মিনারের ভিত, মঞ্চ ও কয়েকটি স্তম্ভ তৈরির কাজ শেষ হয়। সেই সঙ্গে রেলিং, পায়ের ছাপ, ম্যুরালের কিছু কাজ এবং নভেরা আহমদের তিনটি ভাস্কর্যের কাজ সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু ১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসে সামরিক আইন জারি হওয়ার পর শহীদ মিনার তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও ১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত চার বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে মানুষ এই অসম্পূর্ণ শহীদ মিনারেই ফুল দিয়েছে, সভা করেছে ও শপথ নিয়েছে। ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আজম খানের নির্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী মূল নকশা বহুলাংশে পরিবর্তন করে এবং পরিকল্পিত স্থাপত্যের বিস্তর অঙ্গহানি ঘটিয়ে একটি নকশা দাঁড় করানো হয়। এ নকশা অনুযায়ী দ্রুত শহীদ মিনারের কাজ শেষ করা হয় এবং ১৯৬৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম। এই সংক্ষিপ্ত এবং খণ্ডিত শহীদ মিনারই একুশের চেতনার প্রতীকরূপে জনমানসে পরিচিত হয়ে ওঠে। ’৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকবাহিনী মিনারটি আবার ভেঙে দেয় এবং সেখানে ‘মসজিদ’ কথাটি লিখে রাখে। কিন্তু এদেশের মানুষ তা গ্রহণ করেনি। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে শহীদ মিনার নতুন করে তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারও মূল নকশা পরিহার করে ১৯৬৩ সালের সংক্ষিপ্ত নকশার ভিত্তিতেই দ্রুত কাজ শেষ করা হয়। ১৯৭৬ সালে নতুন নকশা অনুমোদিত হলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ১৯৮৩ সালে মিনারচত্বরের কিছুটা বিস্তার ঘটিয়ে শহীদ মিনারটিকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানের শহীদ মিনার তার স্থাপত্য ভাস্কর্যগত অসম্পূর্ণতা নিয়েই সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। বন্ধুরা, তাই যে কোনো ছুটির দিনে বাবা-মায়ের সাথে দেখে আসতে পারো আমাদের ভাষা আন্দোলেনে নিহত বীর শহীদের স্মরণে নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবময় ইতিহাস। আর তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে চির অম্লান রাখার উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার মহান শহীদদের প্রতি জাতীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থাপিত হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। রাজধানী ঢাকা থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন সাভারের নবীনগর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী অসংখ্য শহীদের স্মরণে তৈরি বিভিন্ন স্মৃতিসৌধ ও ভাস্কর্যের মধ্যে প্রধানতম সাভারের এই জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এই স্মৃতিসৌধ আপামর জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। উল্লেখ্য, সাভারে নির্মিত এই সৌধ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মৃতিসৌধ। ১৫০ ফুট বা ৪৫ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট স্মৃতিসৌধটিতে রয়েছে ৭টি ফলক। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাতটি পর্যায়ের প্রথমটি সূচিত হয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। এরপর চুয়ান্ন, আটান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি ও ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা বিবেচনা করে এবং মুক্তিযুদ্ধকে সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিবেচনা করে রূপদান করা হয়েছে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সৌধটি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। মূল সৌধের গাম্ভীর্য ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য এই পার্থক্য। এর দ্বারা রক্তের লাল জমিতে স্বাধীনতার স্বতন্ত্র উন্মেষ নির্দেশ করা হয়েছে। মূল স্মৃতিসৌধের বামপাশে রয়েছে সৌধ চত্বর। যেখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নাম না জানা দশজন শহীদের সমাধি। আর ডানপাশে রয়েছে একটি পুষ্পবেদি। যেখানে এক সময় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হতো। যারা শুধু স্মৃতিসৌধের সামনের ছবি দেখেছেন, তারা কখনোই এর গঠন সম্পর্কে জানতে পারবেন না, বুঝতে পারবেন না, এটা কিভাবে আর কী ইতিহাস মাথায় রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এটা বুঝতে হলে সৌধের খুব কাছে যেতে হবে, পাশ থেকে দেখতে হবে। ভালোভাবে দেখলেই বোঝা যাবে স্মৃতিসৌধটি সাতজোড়া ত্রিভুজ নিয়ে গঠিত। উল্লেখ্য, জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয় ১৯৭২ সালে। সে সময় ২৬ লাখ টাকা খরচ করে ভূমি অধিগ্রহণ ও সড়ক নির্মাণের কাজ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৭৪ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত কাজ চলে। এ সময় ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা খরচ করে গণকবরের এলাকা, হেলিপ্যাড, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান, চত্বর ইত্যাদি নির্মিত হয়। ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে শুরু হয় মূল স্মৃতিসৌধ তৈরির কাজ। ৮৪৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় স্মৃতিসৌধ। এরপর এখানে তৈরি হয় কৃত্রিম লেক, সবুজ বেষ্টনী, ক্যাফেটেরিয়া, রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক এলাকা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের খ্যাতনামা স্থপতি সৈয়দ মঈনুল হোসেন। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ এই স্মৃতিসৌধ দেখতে যান এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ আমাদের গর্বের, অহঙ্কারের।

আহসান মঞ্জিল
আহসান মঞ্জিলের নাম আমরা সবাই শুনেছি। বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল এক কালে নবাব পরিবারের আভিজাত্য, বৈভব ও প্রভাবের প্রতীক ছিল। এক কথায় এটি অতীতে ঢাকার নওয়াবদের বাসভবন ছিল। পরবর্তীতে এই বাসভবনটি ‘আহসান মঞ্জিল জাদুঘর’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। উল্লেখ্য, বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে সদরঘাটের কাছে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে জালালপুর পরগনায় জমিদার ইনায়েত উল্লাহ ‘রঙমহল’ নামে প্রথমে একটি প্রমোদভবন নির্মাণ করেন। পরে এক ফরাসি বণিক সেটা কিনে নেন। ১৮৩৫ সালে খাজা আলীমুল্লাহ আবার কিনে নেন এটি। তারপর ১৮৭২ সালে নওয়াব আবদুল গনি এটাকে নতুন প্রাসাদে রূপ দিয়ে পুত্র ‘আহসানউল্লাহর’ নামানুসারে এর নাম দেন ‘আহসান মঞ্জিল।’ এটিই ছিল সেই সময়ের ঢাকার অভিজাত ভবনগুলোর অন্যতম। পরবর্তীতে ১৮৮৮ সালের ৭ এপ্রিল প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে অন্দরমহলটি একেবারে ভেঙে পড়ে। নওয়াব আহসানউল্লাহ অন্দরমহলটি পুনর্নির্মাণ করেন এবং ‘রঙমহলটি’ও মেরামত করেন। উল্লেখ্য, আহসান মঞ্জিল দুটি অংশে বিভক্ত। এর গম্বুজ শীর্ষের উচ্চতা ভূমি থেকে প্রায় ২৭.১৩ মিটার। সবুজ মাঠে ঘেরা ৩৩ কক্ষবিশিষ্ট আহসান মঞ্জিল জাদুঘরটিতে রয়েছে ২৩টি গ্যালারি। বাকি কক্ষগুলো লাইব্রেরি, কাউন্টার, ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বন্ধুরা, তোমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, এই জাদুঘরে কী রয়েছে?
বলছি! এই জাদুঘরে রয়েছে, আহসান মঞ্জিলের অতীত কথা, নবাবদের পরিচিতি, প্রতিকৃতি, স্টেট বেডরুম, আলোড়ন সৃষ্টিকারী নবাব পরিবারের সিন্দুক, নবাবদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, অস্ত্রশস্ত্র ও হাতির দাঁতের নানাবিধ কারুকর্ম গ্যালারিগুলোতে প্রদর্শিত হয়েছে। এর সর্বত্র শৈল্পিক কারুকার্যের নিদর্শন মেলে। চোখ জুড়িয়ে যায়। ১৯৯২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ‘আহসান মঞ্জিল’ প্রাসাদটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এখানে একটি জাদুঘর স্থাপন করা হয়।

লালবাগ দুর্গ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা রকমের দুর্গ বা কেল্লা রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা দুর্গ বা কেল্লার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আজ তেমনি একটি ঐতিহাসিক দুর্গের বর্ণনা দেবো তোমাদের। হ্যাঁ, আজ আমি তোমাদের ঐতিহাসিক লালবাগ দুর্গের কথাই বলছি। ঐতিহাসিক লালবাগের দুর্গ, ঢাকা তথা বাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান। উল্লেখ্য, এই দুর্গ প্রাসাদটির নাম ‘কেল্লা আওরঙ্গবাদ।’ তবে জনসাধারণ এটাকে ‘লালবাগ কেল্লা’ বলেই অভিহিত করে থাকেন। ঐতিহাসিকরা অনুমান করেন, দুর্গ তৈরির পূর্ব পর্যন্ত ঐ স্থানে বিচিত্র বর্ণের সম্ভবত লাল ফুলেরই বিপুল সমারোহের বাগিচা বা বাগান ছিল। তাই স্থানীয় লোকেরা ‘কেল্লা আওরঙ্গবাদকে’ লালবাগ বলেই পরিচয় দিয়ে আসছেন। ‘লালবাগ কেল্লা’ সম্রাট আওরঙ্গজেবের আদেশেই নির্মিত হয়েছিল। পিতা আওরঙ্গজেবের আদেশেই পুত্র শাহজাদা মোহাম্মদ আযম ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ফলে পিতার নামানুসারে কেল্লাটির নাম রাখেন ‘আওরঙ্গবাদ’। কিন্তু দুর্গটি বরাবরই ‘লালবাগ কেল্লা’ নামে পরিচিত হয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা এই দুর্গের আয়তন ২০০০ থেকে ৮০০ ফুট। এটি চারদিকে ইট নির্মিত উঁচু প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। তোমাদের মনে স্বাভাকিভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে, লালবাগ দুর্গে কী কী ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে? হ্যাঁ এখন তাই বলছি। লালবাগ দুর্গের প্রবেশপথে রয়েছে সুউচ্চ ফটক, যা পেরোলেই সবার আগে চোখে পড়বে তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি বর্গাকার ইমারত। এই ইমারতটি পরীবিবির মাজার বলে পরিচিত। শায়েস্তা খান নির্মিত পরীবিবির এই স্মৃতিসৌধ আজও অতুলনীয়। এখানে আরো রয়েছে, ঊনবিংশ শতাব্দীতে মুঘল আমলের শেষ অধ্যায়ে ব্যবহৃত নানা ধরনের তরবারি, ঢাল, চিনাপাত্র, মুঘল সৈনিকের পোশাক, তীর ধনুক, বর্শা, হাতকুঠার, শিরস্ত্রাণ, নানা ধরনের পিস্তল, বন্দুক, সুলতানি আমলের বিভিন্ন ধরনের রূপা ও তামার মুদ্রা, হাতে লেখা কুরআন শরিফ ও অন্যান্য দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ইত্যাদি। লালবাগ দুর্গ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন।

ঢাকা চিড়িয়াখানা
চিড়িয়াখানা ভাবতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিচিত্র সব জীব-জন্তুর ছবি। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত চিড়িয়াখানা কিন্তু আমাদের জাতীয় চিড়িয়াখানা হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ্য, পঞ্চাশের দশকে ঢাকা হাইকোর্ট এলাকায় সীমিতভাবে চিত্রাহরিণ, বানরসহ কয়েকটি প্রজাতির বন্যপ্রাণী নিয়ে চিড়িয়াখানার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট সংলগ্ন চিড়িয়াখানা থেকে বন্যপ্রাণী সরিয়ে এবং দেশ-বিদেশের বিচিত্র প্রাণী সংগ্রহের পর বর্তমান মিরপুর চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত করা হয়। ঢাকা চিড়িয়াখানায় ১৯০টি প্রজাতির প্রায় ২৫০০টি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে আফ্রিকা থেকে আনা শিম্পাঞ্জি, জিরাফ, জেব্রা, গণ্ডার এবং জলহস্তি রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ভারত ও আফ্রিকান সিংহ, চিতা বাঘ, বেবুন, ময়ূর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। রয়েছে সুন্দরবনের মায়াবী চিত্রা ও সাম্বার হরিণ, শিয়াল, সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, ঘোড়া, বনগরু, বানর, সজারু, খরগোশ টাপির, গয়াল ইত্যাদি নানা জাতের প্রাণী। শুধু প্রাণী দেখা এবং চড়ার আনন্দই চিড়িয়াখানার আনন্দ সীমাবদ্ধ নয়। এখানে রয়েছে একটি চমৎকার প্রাণী জাদুঘর, যা সাধারণ দর্শক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক অসাধারণ প্রতিষ্ঠান।

ফয়স লেক
ফয়স লেক (Foy’s Lake) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম হ্রদ। এটি ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে খনন করা হয় এবং সে সময় পাহাড়তলী লেক হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ইংরেজ রেল প্রকৌশলী ফয়-এর (ঋড়ু) নামে নামকরণ করা হয়। এই লেকটি তৈরির উদ্দেশ্য ছিল রেল কলোনিতে বসবাসকারী লোকদের কাছে পানি পৌঁছানো। বর্তমানে এটির মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ের। বেশ বড় মাপের (৩৩৬ একর জমির ওপর) এই লেকটি পাহাড়ের এক শীর্ষ থেকে আরেক শীর্ষের মধ্যবর্তী একটি সঙ্কীর্ণ উপত্যকায় আড়াআড়িভাবে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট। বাঁধটি চট্টগ্রাম শহরের উত্তর দিকের পাহাড় শ্রেণী থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই লেকটিকে সৃষ্টি করেছে। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে এইসব পাহাড় শ্রেণী দুপিটিলা স্তর সমষ্টির শিলা দ্বারা গঠিত। ফয়’স লেকের পাশেই আছে চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় বাটালি হিল। পাহাড়তলী রেলস্টেশনের দক্ষিণ কোল ঘেঁষে আরেকটি কৃত্রিম হ্রদ রয়েছে। দুটি লেকই আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। চট্টগ্রাম শহরের ব্যাপক এলাকায় বিশেষ করে নিকটবর্তী রেলওয়ে কলোনিতে পানি সরবরাহের জন্য এই জলাধার দু’টি খনন করা হয়েছিলো। বর্তমানে হ্রদটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কনকর্ড একটি বিনোদন পার্ক স্থাপন করেছে যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য লেকে নৌকা ভ্রমণ, রেস্তোরাঁ, ট্র্যাকিং এবং কনসার্টের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এখানে বিরল প্রজাতির পাখি এবং ডিয়ার পার্কে হরিণ দেখার ব্যবস্থা আছে। ফয়’স লেকের পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা। ফয়’স লেকের আশপাশের মনোরম পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে প্রতি বছর দেশী বিদেশী বহু পর্যটক ছুটে আসেন।

কক্সবাজার
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের নাম কক্সবাজার। কক্সবাজারের প্রাচীন নাম ‘পালংকী।’ ইংরেজ অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ১৭৯৯ সালে এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন। আর এই বাজারের নামকরণ হয় ‘কক্স সাহেবের বাজার।’ তাই, কক্স সাহেবের বাজার থেকেই কক্সবাজারের উৎপত্তি। তোমরাতো আগেই শুনেছো, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্রসৈকত। এর দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার। কক্সবাজারকে সৃষ্টিকর্তা যেন রূপসী বাংলার সব রূপ ঢেলে দিয়েছেন বালুর আঁচলে। খোলা জিপ, রিকশা, টমটম এবং স্পিড বোটে বা ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানোর আনন্দ হতে পারে তোমার জীবনের এক স্মরণীয় দিন। তা ছাড়া সমুদ্রের বালির বিছানায় দাঁড়িয়ে শামুক-ঝিনুকের সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে উপভোগ করা যায় সূর্যাস্তের অনাবিল আনন্দ। কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে শুরু করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিচ। এখানে মাইলের পর মাইল বালুকাময় বেলাভূমি। এ ছাড়া, রঙিন শামুক ঝিনুকের সম্ভার, সুস্বাদু সামুদ্রিক খাদ্যতো রয়েছেই। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ১২০ কিলোমিটারের অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত যা বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির দিকে ক্রমশ ঢালু। কক্সবাজারের উত্তরে আছে চট্টগ্রাম, পাহাড়ি জেলা বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি। পূর্বের দিকে মিয়ানমার, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগর, সুসজ্জিত সমুদ্র তীর, প্রধান সড়কের দুই ধারে শৌখিন দ্রব্যাদিসহ সজ্জিত দোকান, আর রাখাইনদের কুঁড়েঘর। এখানে আকাশ নীল। উচ্ছ্বসিত আকাশের মতো ঢেউ খেলে যায় সাগরের বেলাভূমিতে। পশ্চিম আকাশে আগুনে পুড়ে লাল করে ডুবে যায় দিনের সূর্য। ঠিক এমনিই ছবির মতো সাজানো নয়নাভিরাম কক্সবাজার।

কুয়াকাটা
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষেই কিন্তু ‘কুয়াকাটার’ অবস্থান। আর তাই তো বাংলাদেশের বিস্ময়কর পর্যটন কেন্দ্র, প্রকৃতির অপার মহিমায় সাজানো-‘কুয়াকাটা’ অন্যতম। যার দিগন্তজোড়া সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যায় সবাই। এখানে প্রকৃতি মুগ্ধ করে সমুদ্রের বিশালতায়, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ রূপে। জেলেদের মাছ ধরার অন্যরকম অভিজ্ঞতা, গ্রামের মনোরম সবুজ ছায়া, রাখাইন পল্লীর নিজস্ব জীবন প্রণালী, সব কিছুই প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণ। উল্লেখ্য, কুয়াকাটা সৈকতে বালির সাথে কিছু পলিও রয়েছে। তাই সৈকতের রং অনেকটা বাদামি। প্রচুর মিঠে পানি নদীর পানিতে মিশেছে বলে পানির লবণাক্ততাও কম। স্রোতও অনেক কম। এখানে গ্রামের নিঝুম সবুজ এসে মিশেছে সমুদ্রের নীলে। একটু দূর থেকে দেখলেই চোখে পড়ে নীল আর নীল। এই সুদূর বিস্তৃত নীলে গাঙচিলেরা ওড়াউড়ি করে। কখনো সমুদ্রের নীল, কখনো গায়ের গাঢ় সবুজ, প্রকৃতিপ্রেমীদের কোন সুদূরে নিয়ে যায়। এখানে ভোরের নরম আলোয় দাঁড়িয়ে, সূর্যোদয় দেখার আনন্দই আলাদা। পূর্ণিমার আলোতে কুয়াকাটার আশপাশের গ্রামগুলোও দেখতে চমৎকার লাগে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই কুয়াকাটা নামের পেছনে রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য।
বর্মিরাজা বেঁদাপোয়া যখন আরাকান দখল করে নেন, তখন অসংখ্য রাখাইন পরিবার বড়ো বড়ো নৌকায় অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমান। এক সময় তারা এসে পৌঁছেন রাঙাবালী দ্বীপে। তাদের কিছু পরিবার আশ্রয় নেয় সাগরসৈকতের জঙ্গলাকীর্ণ এই এলাকায়। তখন কুয়া খনন করে মিষ্টি পানির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল বলে, এই এলাকার নাম করা হয় ‘কুয়াকাটা।’

সেন্টমার্টিন
সেন্টমার্টিন একটি দ্বীপ। এর চারদিকে সারি বাঁধা নারকেল গাছ, সাগরের ঢেউয়ের তালে তালে ওঠানামা, পানির নিচে জীবন্ত প্রবাল, বৈচিত্র্যময় মাছের ছোটাছুটি, মহাসাগরের কোল থেকে ছুটে আসা বাধাহীন বাতাসের উদ্দামতা, সব মিলে দ্বীপটিকে স্বপ্নপুরী বলেই মনে হয় সবার কাছে। ছোট্ট এই দ্বীপটির আয়তন খুব একটা বেশি নয়। মাত্র প্রায় ১২ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তর দক্ষিণ বরাবর রয়েছে উত্তরপাড়া, গলাচিপা, মধ্যপাড়া ও দক্ষিণপাড়া। মৃত প্রবালের কাঠামোর ওপর স্থাপিত এই দ্বীপের পুরোটাই সমতল। বিস্তীর্ণ সৈকতজুড়ে রয়েছে প্রবালের কঙ্কাল। দ্বীপ ও দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্র মিলিয়ে রয়েছে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী। তা ছাড়া সেন্টমার্টিনের কেন্দ্রবিন্দুই হলো প্রবাল। তবে প্রবালের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় পানির নিচে গেলে। এ ক্ষেত্রে ডুবুরির পোশাক পরে অনেকেই চলে যায় পানির নিচে। ফলে পানির ওপর থেকে কিছুটা নিচে নামলেই দেখা মেলে প্রবালের রহস্যময় রাজ্যের। সেখানে ছোট বড়, মেরুদণ্ডী-অমেরুদণ্ডী অধিকাংশ প্রাণী ও উদ্ভিদকে আগলে রেখেছে প্রবাল। উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল রয়েছে। এদের কোনোটি দেখতে ফুলের মতো, আবার কোনোটি দেখতে শাখা-প্রশাখাযুক্ত গাছের মতো। সেন্টমার্টিনের স্বচ্ছ নীল জল, সৈকতের চকচকে বালিয়াড়ি, প্রবাল আর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ভ্রমণপিপাসু মানুষের এক স্বর্গভূমি। তাই জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সেন্টমার্টিন দ্বীপ মায়ের আদরে আগলে রেখেছে এখানকার বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীকে।

নিঝুম দ্বীপ
নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত নিঝুম দ্বীপ। একে ‘দ্বীপ’ বলা হলেও এটি মূলত একটি চর। নিঝুম দ্বীপের পূর্ব নাম ছিলো চর-ওসমান। ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তার মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন। তখন এই নামেই এর নামকরণ হয়েছিলো। পরে হাতিয়ার তৎকালীন সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম কালাম এই নাম বদলে ‘নিঝুম দ্বীপ’ নামকরণ করেন। মূলত বলারচর, চর ওসমান, কামলার চর এবং চুর মুরি- এই চারটি চর মিলিয়ে নিঝুম দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৫০ সালের দিকে জেগে ওঠে। ১৯৭০ সালের আগ পর্যন্ত কোনো লোকবসতি ছিলো না, তাই দ্বীপটি নিঝুমই ছিলো। বাংলাদেশের বন বিভাগ ৭০-এর দশকে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চার জোড়া হরিণ ছাড়ে। নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য। নোনা পানিতে বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপ কেওড়া গাছের অভয়ারণ্য। ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুন্দরবনের পরে নিঝুম দ্বীপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বলে অনেকে দাবি করেন। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি। এ ছাড়াও শীতের মৌসুমে অজ¯্র প্রজাতির অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয় নিঝুম দ্বীপ। নিঝুম দ্বীপে বিশাল এলাকা পলিমাটির চর। জোয়ারের পানিতে ডুবে এবং ভাটা পড়লে শুকোয়। জোয়ারের পানিতে বয়ে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখির একমাত্র খাবার। বর্ষা মৌসুমে ইলিশের জন্য নিঝুম দ্বীপ বিখ্যাত। এই সময় ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা নিঝুম দ্বীপে মাছ কিনতে আসেন। এ ছাড়া শীত কিংবা শীতের পরবর্তী মৌসুমে নিঝুম দ্বীপ চেঁউয়া মাছের জন্য বিখ্যাত। জেলেরা এই মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করেন। এই শুঁটকি মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারদের কাছে বিক্রি হয়। আবার এই শুঁটকি হাঁস-মুরগির খাবারেও ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও নিঝুম দ্বীপে রয়েছে ৪৩ প্রজাতির লতাগুল্ম এবং ২১ প্রজাতির অন্যান্য গাছ।

মহাস্থানগড়
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের এক দুর্গনগরীই বগুড়ার মহস্থানগড়। এককালে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল এখানে। এখন এখানে শুধু সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। মহাস্থানগড়ে এখনো আছে ৫০০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৪৫০০ ফুট প্রস্থের সেই প্রাচীন নগরীর দেয়াল। উল্লেখ্য, মহাস্থানগড়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। করতোয়া নদীর বাঁকে বাঁকে রয়েছে বিভিন্ন দুর্গ ও মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ। সিলা দেবীর ঘাটও রয়েছে এখানে। আরো রয়েছে, করতোয়া নদীর তীরে উঁচু ঢিবির ওপর ‘গোবিন্দভিটা।’ মহাস্থানগড়ে আরো দেখতে পাবে গুপ্তযুগ থেকে সুলতানি যুগের ইমারতের ধ্বংসাবশেষ। দুর্র্গটির ভেতরে অনেক পাথরের খণ্ড পড়ে রয়েছে এখনো। এখানে রয়েছে শাহ সুলতান বলখির মাজার, যা মহাস্থানগড়ের প্রধান আর্কষণ।
বন্ধুরা, তোমরা কি জানো, মহাস্থানগড়ের এক সময়ের নাম ছিল পুণ্ডুবর্ধন? খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় ১৫ শ’ শতাব্দীর মধ্যে এই পুণ্ডুবর্ধন এক সমৃদ্ধশালী জনপদ রূপে গড়ে ওঠে। তারপর যথাক্রমে মৌর্য, গুপ্ত, পাল এবং অন্যান্য হিন্দু সামন্ত রাজবংশের রাজধানী ছিল পুণ্ডুনগর। অবশেষে পুণ্ডুনগর থেকে ‘মহাস্থানগড়’ নাম হয়ে যায়। মহাস্থানগড়ের পিকনিক স্পটের অদূরেই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ স্থাপন করেছে জাদুঘর। মহাস্থানগড় ছাড়াও বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলের অন্যত্র থেকে পাওয়া নিদর্শনসমূহ জড়ো করা হয়েছে এখানে। এই জাদুঘরে দেখতে পাওয়া যায়, কাচের শোকেসে থরে থরে সাজানো পুরনো সহস্র স্মারক, বিভিন্ন সময়ের খনন থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান সামগ্রী। এই জাদুঘরে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও হিন্দু সামন্ত রাজবংশের হরেক রকম স্মৃতিচিহ্ন, দেব-দেবীর মূর্তি, ধ্যানমগ্ন বৌদ্ধ, পোড়ামাটির সিল, নকশা আঁকা ইট পাথরের খণ্ড, মৃত ফলকে যুদ্ধদৃশ্য, মূল্যবান পাথরের অলঙ্কার, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, প্রস্তরে তৈরি অস্ত্র, কারুকার্যময় ধাতব পান, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের ব্রাহ্মী শিলালিপি এবং আরো অনেক কিছু।
বরেন্দ্র জাদুঘর
এটি দেশের প্রথম গবেষণা জাদুঘর। এ জাদুঘরটি কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরই নয়, সমগ্র দেশের ঐতিহ্যের সংরক্ষক হিসেবে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইতিহাস অনুরাগী নাটোরের দিঘাপাতিয়ার জমিদার কুমার শরৎ কুমার রায়, আইনজীবী অক্ষর কুমার মৈত্রেয় ও রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক রমা প্রসাদ চন্দ্র এই তিনজনের আগ্রহে একটি অনুসন্ধানী দল রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেশ কিছু প্রাচীন মূর্তি সংগ্রহ করেন। পরে এই তিনজনের উদ্যোগে ১৯১০ সালে গঠিত হয় বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি। ১৯১০ সালে শরৎ কুমার রায় তার সংগৃহীত ৩২টি বঙ্গীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এ জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তা বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য, সমাজ, শিক্ষা, কৃষ্টি, ধর্ম, সংগ্রামসহ নানা বিষয়ের একটি শ্রেষ্ঠ সংরক্ষণ শালায় পরিণত হয়। জাদুঘরে সংগৃহীত প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন সম্পর্কে গবেষণা, পঠন-পাঠন ও মূল্যায়নের জন্য এখানে রয়েছে একটি মূল্যবান লাইব্রেরি। লাইব্রেরিতে মধ্যযুগীয় সাহিত্যের দুর্লভ বইপত্রসহ ১৫ হাজারেরও বেশি বইপত্র সংরক্ষিত আছে। বরেন্দ্র জাদুঘরের গ্যালারি আছে আটটি। জাদুঘরের অভ্যন্তরে প্রাচীন ভাস্কর্য, ধাতব মূর্তি, মুদ্রা, পাণ্ডুলিপি প্রভৃতিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বর্তমানে এখানের সংগ্রহের পরিমাণ রয়েছে ভাস্কর্য ৯ হাজার, পাণ্ডুলিপি ৪ হাজার, ১ হাজার ১০০ প্রস্তর ও ধাতবমূর্তি, ৬১টি প্রাচীন লেখাচিত্র, ১ হাজার ৩০০ প্রাচীন মুদ্রা, ৯০০ পোড়ামাটির ভাস্কর্য, ৩২টি অস্ত্র, ২১টি আরবি ফার্সি দলিল। উল্লেখ্য, এ জাদুঘরটির প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ‘আবহমান বাংলাদেশ’ নামক গ্যালারিটি। এ গ্যালারিটিতে গ্রামবাংলার অপরূপ দৃশ্য সংযোজন করা হয়েছে। বরেন্দ্র জাদুঘরটি প্রধানত বাংলার পাল আমলের নিদর্শনাদির জন্য এশিয়ার অন্যতম জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। এ ছাড়া এখানে রয়েছে সেন, মৌর্য মুসলিম ও ব্রিটিশ আমলের অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের নমুনা। সব মিলিয়ে বরেন্দ্র জাদুঘর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
মানব সভ্যতার ইতিহাসের সেরা প্রাচীন বিস্ময়কর কীর্তিগুলোর একটি এই ‘পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার।’ বাংলার মানুষেরাই তৈরি করেছে এ অসাধারণ কীর্তিটি। উল্লেখ্য, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের আরেকটি নাম হলো ‘সোমপুর বিহার।’ এটির অবস্থান নওগাঁ জেলায় হলেও মূলত জয়পুরহাট জেলার সীমান্তে অবস্থিত। ১৯২৩ সালে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কৃত হয়। ধারণা করা হয়, ৭৭০ থেকে ৮১০ শতাব্দীর মধ্যে এই বিহারটি নির্মিত হয়। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর এক একটি দেয়াল প্রায় পাঁচ হাত চওড়া। অতীশ দীপঙ্কর, বোধিভদ্রের মতো জ্ঞান তাপসদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বিহারের সাথে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে রাজা ধর্মপাল নির্মাণ করেছিলেন পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারটি। এখানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। যার নিদর্শন এখনো বিদ্যমান। এখানে সুদূর অতীতে নির্মিত একটি অত্যাধুনিক পুকুরও রয়েছে। এখানকার সবচেয়ে বিস্ময়কর ও দর্শনীয় জিনিসগুলো হলো ‘টেরাকোটা’ বা পোড়ামাটির ফলক। প্রায় দু’হাজার চিত্রফলক এখনো সাঁটা আছে দেয়ালে। এ ছাড়া রয়েছে মূল্যবান পাথর, তামার হাঁড়ি, তামার মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এ ছাড়া পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের সাথেই রয়েছে পাহাড়পুর জাদুঘরটি। তাই পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে বেড়াতে গেলে বাংলাদেশের সবুজ শ্যামল রূপটি খুঁজে পাবে সবাই।

সুন্দরবন
সুন্দরবনের নাম শুনলেই কেমন গা ছম ছম ভাব চলে আসে। মনে হয় এই বুঝি হালুম করে সামনে এগিয়ে আসছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কিংবা গাছের ডাল বেয়ে নেমে আসছে বড় কোনো অজগর সাপ। দৃশ্যগুলো ভাবতেই কেমন লাগছে, তাই না? আসলেই তাই। উল্লেখ্য, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে ৮৯ থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ও ২১ থেকে ২২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশের মাঝে ৫৭০৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ একক (ম্যানগ্রোভ) বন সুন্দরবন। সুন্দরবনে মোট জমির পরিমণ ৫,৭৭,২৮,৫৬৩ হেক্টর। এর মধ্যে বনভূমি ৩,৯৫,০০০ হেক্টর। নদ-নদী খাল এলাকা ১,৭৫,৬০০ হেক্টর। ঝোপঝাড়, ফাঁকা ও নতুন বনায়নকৃত এলাকা ৬০৮৫ হেক্টর। প্রতিদিন গড়পড়তা ৬০ হাজার লোক এখানে কাজ করে। বনে হাজারো বৃক্ষরাজির মধ্যে রয়েছে সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়া, পশুর, কাঁকড়া, বাইন, আমুড়, ওড়া, খলসে গর্জন, সংড়া প্রভৃতি। আছে হেতাল, গোলপাতা, বেত, হোগলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। অসংখ্য নদী-খাল বেষ্টিত সুশোভিত নয়নাভিরাম সুন্দরবনের জলে-স্থলে রয়েছে হাজারো প্রজাতির মাছ, বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বানর, শূকর, বনমোরগ, কুমির, শত প্রজাতির সাপসহ বহু বনজ ও জলজ প্রাণী। হাজার প্রজাতির পাখিও এ বনের সম্পদ। উল্লেখ্য, ইউনেস্কো বিশ্বসম্পদ ও ঐতিহ্য কমিটি ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে ৫২২তম বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। মোট বন এলাকার ১ লাখ ৩৯ হাজার হেক্টর এলাকা বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
তাই আমাদের মনের মণিকোঠায় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম স্থান সুন্দরবন। আমাদের সবারই উচিত সময় সুযোগ করে সুন্দরবনে গিয়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্যকে উপভোগ করা।

SHARE

Leave a Reply