Home সম্পূর্ণ কিশোর উপন্যাস বিশ্ব মাঝে শীর্ষ হবো -আহসান হাবীব ইমরোজ

বিশ্ব মাঝে শীর্ষ হবো -আহসান হাবীব ইমরোজ

সুপ্রিয় কিশোর বন্ধুরা, সবাইকে জানাই রাসূলের শেখানো সর্বোত্তম সম্ভাষণ, আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আশা করি এই করোনা-কালেও পরম প্রভুর অপার মেহেরবানিতে পবিরার ও বন্ধুদের নিয়ে ভালোই আছ। নয় কি?
বন্ধুরা, তোমরা কেউ কেউ বলতে পারো কে এলো এই অদ্ভুত মেহমান, আমাদের সাজানো কিশোরকণ্ঠের মাহফিলে। কেউ কটাক্ষ করতে পারে, এ ব্যাটা, মঙ্গলগ্রহের জীব নয়তো? তোমাদের বলে রাখি, আমি কিন্তু বাপু মঙ্গল শব্দটি বেশ পছন্দ করি। একেতো মঙ্গলবারে আমার জন্ম; আর মঙ্গল শব্দটির অর্থতো ভালো, যা অমঙ্গলের বিপরীত। কেউ কেউ ফোড়ন কাটতে পারো পুরান পাগলে ভাত পায় না, আবার দ্যাখো নতুন পাগলের আমদানি। সিরিয়াসলি বলছি আমি কিন্তু আসলে পুরান পাগল (তোমাদের বড় ভাইয়া বা আপুরা আমাকে ঠিকই চিনবে); প্রায় দুই দশক হলো কিশোরকণ্ঠের কলতান শুনছি। তবে হ্যাঁ, সেটি হ্যালির ধূমকেতুর মতো (সর্বশেষ এসেছিল ১৯৮৬ সালে আবার আসবে হয়তো ২০৬১-৬২ সালে। যেটি পৃথিবী থেকে খালি চোখেই দেখা যায়, দোয়া করি তোমরা সবাই যেন দেখতে পারো।) তবে হ্যাঁ, পার্থক্য একটু আছে ধূমকেতুটি আসে ৭৫-৭৬ বছর পরপর আর আমি ৭৫-৭৬ সপ্তাহ পরপর।
আজ ৩০ এপ্রিল যখন লেখাটি লিখছি তখন তুমি, আমিসহ পৃথিবীর প্রায় সাত শত কোটি মানুষ লকডাউনে আছে। করোনার হিসাব দেওয়ার ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের (যঃঃঢ়ং://িি.িড়িৎষফড়সবঃবৎং.রহভড়/পড়ৎড়হধারৎঁং/) ভাষ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৩,৬৪,১১০ এবং মৃতের সংখ্যা ২,৩৭,৪৬৫ জন। এখনো সে রেখাচিত্র ৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে আকাশ পানে উঠছে। হয়তো আমরা প্রভুর কৃপায়, কিছুটা ভালো আছি; কিংবা বড় ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছি। এ জন্য পরম প্রভুর অপার দরবারে শুকর আদায় করছি; তারই সাজানো মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সর্বপ্রথম সূরার সর্বপ্রথম শব্দ দিয়ে; এসো সবাই বলি, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’
৫১ কোটি বর্গকিলোমিটারের এই বসুন্ধরায় সকল মানুষ, প্রাণ ও প্রকৃতি নিয়ে একটি ৫১বর্তী (একান্নবর্তী) পরিবারের মতোই আমরা বসবাস করছিলাম। হঠাৎ এলো করোনা বা কোভিড-১৯, আমরা বন্দি হয়ে গেলাম স্ব স্ব ঘরে; যে ব্যবস্থার পোশাকি নাম লকডাউন। স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ সব বন্ধ। যে লকডাউনের শিকার হয়ে প্রতিদিনের দু’মুঠো ভাত, চিকিৎসা, কাজ ও আশ্রয় হারাচ্ছে কোটি কোটি মানুষ।

তাই এবারের আকাশের ঈদের চাঁদ কিছুটা মলিন মনে হতেই পারে। কেননা আমাদের প্রিয় কবি বলেছেন;
যেখানে মানুষ অধিকার হারা/ যেখানে জীবন দুঃখে, শোকে ভরা/ সেখানে আকাশে ঐ ঈদেরই চাঁদ; মেঘেই ঢাকা যে চিরদিন।
তবে, হ্যাঁ, এই দুঃখের ভেতরও সুখ বা আনন্দ আসবে যদি আমরা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে দুঃখ-সুখ ভাগ করে নিতে পারি। সবাইকে সাথে নিয়ে সবার সাথে ঈদ করতে পারি। আর কোভিড-১৯ আমাদের শিখিয়ে গেল ইসলামের মৌলিক শিক্ষা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব। মহান রাসূল সা. বলেছেন, ‘পরিচ্ছন্নতা হচ্ছে দ্বীনের অর্ধেক।’

তিনি আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ওজু করার নির্দেশনা দিয়েছেন, প্রতিটি হাত তিনবার কব্জি এবং তিনবার কনুই মানে ছয়বার ভালোভাবে ধৌত করতে। তার মানে প্রতিদিন আমরা একটি হাত ধৌত করবো প্রায় ৩০ বার। এরপর তিনবার খাওয়ার আগে-পরে ছয়বার। দুইবার টয়লেটে গেলে আরো দুইবার সর্বমোট ৩৮ বার। তার মানে প্রতি ৩৮ মিনিট পরপর হাত ধুতে হবে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে একজন একনিষ্ঠ মুসলিম সহজেই যে কোনো মহামারী থেকে বাঁচতে পারে। এরপর আছে হাঁচি-কাশির শিষ্ঠাচার। তাইতো গত ১৭ মার্চ আমেরিকার বিখ্যাত নিউজউইক পত্রিকায় একজন মার্কিন অধ্যাপক ও গবেষক ক্রেইগ কন্সিডেইন বলেছেন, মুহাম্মদ সা:কে অনুসরণের মাধ্যমে মহামারী থেকে বাঁচা সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমরা মুসলিম দেশসমূহে বিশ্ব-হাতধোয়া দিবস পালন করি কিন্তু রাসূল সা:-এর অবদানকে স্মরণ করি না।
সে যাকগে, ভ‚মিকা নিয়ে প্রায় ভাস্কো-ডা-গামার ভ‚-প্রদক্ষিণ হয়ে গেল। এবার কলমের লেজ টানতে হয়। চলো যাওয়া যাক মূল আলোচনায়।

মানবজীবন : নো দ্যাইসেলফ

মানব এবং জীবন। ছোট্ট দু’টি শব্দ। একটি সত্তা আরেকটি তার রূপ। একে অপরের সাথে জন্মগতভাবেই আবদ্ধ। যেন মেঘ-বৃষ্টি, প্রদীপ আর আলো। আবার যখন একত্রে বলা হয় ‘মানবজীবন’ তখন আর সত্তা মানবকে নয় বরং সমগ্র মানবজীবনকেই বোঝায়।
আরেকটি শব্দ সাফল্য। ঠিক এই পরমাণুসম শব্দ তিনটিতেই যেন লুক্কায়িত আছে মানুষের দুনিয়া এবং আখেরাতকেন্দ্রিক সকল কার্যক্রমের মূলীভ‚ত লক্ষ্য।
বাড়ি, গাড়ি, ধন, ডিগ্রি, খ্যাতিই ‘মানুষের জীবনের সাফল্য’ এটি মানুষের সাধারণ বিশ্লেষণ। আর তাই বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এগুলো যেনতেন প্রকারে অর্জনের জন্য মারাত্মক এক মহা ম্যারাথনে লিপ্ত। শুধু কি তাই? দুনিয়ার সকল বিভ্রাট, হট্টগোল, মারামারি এমনকি যুদ্ধ-মহাযুদ্ধ সবই কিন্তু তাদের জনকদের ভাষায় এই সাফল্যের জন্যই।
আজকে ইরাক, আরাকান, আফগানিস্তান, কাশ্মির আর ফিলিস্তিনে হত্যাযজ্ঞ সবই এদের স্রষ্টাদের ভাষায় তথাকথিত সাফল্যের জন্য। এমনকি দু’ দু’টি বিশ্বযুদ্ধের মহানায়করা এই সাফল্য আর শান্তির বাহানাতেই কোটি কোটি নিরীহ মানুষদের রক্ত ও লাশের হলিখেলায় মেতে উঠেছিলেন।
তাই কিসে সাফল্য এটি পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল এবং সবচেয়ে দামি প্রশ্ন। পৃথিবীর লাখো দার্শনিক ও ঋষিদের মাথার চুল পেকে গেছে নয়তো সেগুলো নিরুদ্দেশ হয়েছে মাত্র কয় গাছি রেখে; এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য তাই দরকার মানবজীবন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা।
মানুষের পরিচয়

আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন ‘নো দ্যাইসেলফ’ অর্থাৎ নিজেকে জানো। দেড় হাজার বছরের প্রাচীন আরব্য প্রবাদেও আছে ‘মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু’ অর্থাৎ যে নিজেকে চিনতে পারলো সে যেন তার প্রভুকেই চিনতে পারলো। এ দেশের লালন ফকিরও গেয়েছেনÑ ‘একবার আপনারে চিনতে পারলে রে, যাবে অচেনারে চেনা।’ আমাদের বিদ্রোহী কবি বজ্রকণ্ঠে বলেছেনÑ ‘আমি চিনেছি নিজেকে সহসা, আমার খুুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ।’ তাই নিজেকে চেনা অত্যন্ত মৌলিক একটি বিষয়।
দার্শনিক ও ধর্মতত্ত¡বিদরা মানুষকে নানাভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন ম্যাকিয়াভেলির মতেÑ ‘মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই অকৃতজ্ঞ, অবিশ্বাসী, ধোঁকাবাজ, মিথ্যাবাদী, বদরাগি ও স্বার্থান্বেষী।’ প্লেটোর ভাষায়Ñ ‘মানুষ হলো ডানাবিহীন দ্বিপদ প্রাণী’; ডারউইনের মতেÑ ‘লেজওয়ালা বানরের বংশধর’ ফ্রয়েডের মতে ‘যৌনতায় উন্মুখ এক জীব’।
আবার কবি নজরুল তাকে দেখেছেন সম্ভাবনার আধার হিসেবে ‘তুমি নহ শিশু দুর্বল, তুমি মহৎ ও মহীয়ান, জাগো দুর্বার, বিপুল বিরাট অমৃতের সন্তান।’ কবি বেনজির মানুষের মর্যাদা তুলে ধরেছেন এভাবেÑ ‘মানুষই আনিল এত ধন মান নিজ হাতে আহরিয়া, পারো কি আনিতে একটি মানুষ নিখিল বিত্ত দিয়া?
আবার মানুষের নিউরো-কেমিক্যাল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়Ñ ‘পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের দেহ বিশ্লেষণ করলে কী পাওয়া যায়; প্রায় ৯৪টি উপাদান দিয়ে সেটি গঠিত।
যে পরিমাণ চর্বি আছে তা দিয়ে আস্ত একটি কাপড়কাচা সাবান এবং প্রায় ৬ ডজন মোমবাতি তৈরি করা যাবে। যে ফসফরাস আছে তা দিয়ে ২০ প্যাকেট দিয়াশলাই, যে কার্বন আছে তা দিয়ে ৯,০০০টি পেন্সিলের শিস, ৪ গ্রাম লোহা আছে যা দিয়ে কিছু আলপিন, যে বিদ্যুৎ আছে তা দিয়ে ২৫ পাওয়ারের একটি বাল্বকে ৫ মিনিট সময় জ্বালিয়ে রাখা সম্ভব।
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ আছে যা প্রকৃতির দিক দিয়ে প্রায় ২০০ প্রকার।
এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র যে একটি পিনের মাথায় ১০ লক্ষ কোষ বসতে পারে। প্রতি মিনিটে প্রায় ১০ কোটি সেল মারা যায় এবং সমপরিমাণ তৈরি হয়। আমাদের মস্তিষ্কে ১০০ বিলিয়ন ব্রেনকোষ প্রতি সেকেন্ডের হাজার ভাগের একভাগ গতিতে কাজ করতে পারে এবং সেকেন্ডে ৯ কিলো গতিতে বার্তা পাঠাতে পারে।
হিন্দু ধর্মে বলা হয়েছেÑ মানুষ জন্ম জন্মান্তরবাদের প্রতিভূ, মনুর সন্তান। খ্রিষ্টধর্মের মতেÑ ‘পৃথিবী এমনকি নিজের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন, প্রভুর জন্য সন্ন্যাস গ্রহণকারী হিসাবে। বৌদ্ধধর্মের মতেÑ ‘নিজ দেহ হতে নির্বাণ লাভ আকাক্সক্ষী প্রাণ হিসেবে। আর ইসলাম দিয়েছে মানুষের সর্বোত্তম পরিচয় আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে এবং স্বয়ং প্রভুর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে। (সূরা বাকারা : ৩০, সূরা ফাতির : ৩৯)
মানবজীবন : সাফল্য ও ব্যর্থতা

বুদ্ধি বা চেতনতা আসা মাত্রই ছোট্ট শিশুটিও নিজের জীবন সম্পর্কে জানতে চায়। রবি ঠাকুরের ভাষায় : খোকা মাকে শুধায় ডেকে/এলেম আমি কোথা থেকে/কোথায় তুমি কুড়িয়ে পেলে আমারে?
কিন্তু এর উত্তরটি ঠিক এত সহজ নয়, তাই না? ফরাসি প্রবাদে আছে ‘জীবনের মানে বোঝার আগেই পেরিয়ে যায় অর্ধেক জীবন’ সুবিজ্ঞ ঐতিহাসিক কার্লাইল বলেছেনÑ ‘জীবন হচ্ছে একমাত্র সত্য ইতিহাস।’ আল হাদিসেও বলা হয়েছেÑ ‘তোমার জীবন একটি জাজ্বল্যমান বিরাট গ্রন্থ, যাহার অক্ষর গুপ্ত তথ্যসমূহে প্রকাশ পায়।’ কিন্তু জীবনতো সুখে, দুঃখে ভরা তাই ফরাসি প্রবাদে বলা হয়েছে ‘জীবন পেঁয়াজের মতো কাঁদতে কাঁদতে মানুষ এর খোসা ছড়ায়’।
কিন্তু সফল জীবন কিভাবে হবে? বলেছেন নোবেল বিজয়ী দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলÑ ‘একটি ভালো জীবন বলতে বোঝায়, এমন জীবন যা ভালোবাসা দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং জ্ঞানের দ্বারা পরিচালিত। আল্লামা ইকবালের ভাষায়Ñ ‘দৃঢ়বিশ্বাস অনবরত প্রচেষ্টা এবং বিশ্বজয়ী প্রেম জীবন-যুদ্ধে এই হলো মানুষের হাতিয়ার।’
হাদিসে বলা হয়েছে আরো বিস্তৃতভাবেÑ ‘পাঁচটি ঘটনার পূর্বে পাঁচটি জিনিসকে গনিমত মনে করবে : ১. বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকে, ২. অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে, ৩. দরিদ্রতার পূর্বে সচ্ছলতাকে, ৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে এবং ৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে।’ কিন্তু সে জীবন গড়তে চাইলে বাধা আসতে পারে পাহাড়ের মতো। তাইতো মহান বীর টিপু সুলতান শুধু বলেছন নয়; বরং নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন ‘শেয়ালের মতো একশো বছর বাঁচার চাইতে সিংহের মতো এতদিন বাঁচাও ভালো।’ ওমর খইয়ামের ভাষায়Ñ ‘দিন কতকের মেয়াদ শুধু, ধার করা এই জীবন মোর, হাস্য মুখে ফেরত দেব, সময়টুকু হলেই ভোর।’
শুধু এলাম আর গেলাম হলেইতো চলবে না। কিছু দায়িত্বতো অবশ্যই আছে, হয়তো এই অনুভ‚তি নিয়েই কবিগুরু বলেছেনÑ ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই/ এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে, জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই। কিন্তু সেইভাবে নিজেকে গঠন বা সফল করা কোনো ছোট্ট কাজ নয়। ওমর খইয়ামের ভাষায়Ñ ‘ধূসর মরুর ঊষর বুকে, বিশাল যদি শহর গড়ো/ একটি জীবন সফল করা/ তার চাইতে অনেক বড়ো।’
কিন্তু কী দুর্ভাগ্য! বস্তুগত উন্নতি নিয়ে মানুষের কতো গবেষণা। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে তার অভিযান। শুধু যেন নিজের ব্যাপারেই সে উদাসীন।
প্রায় আশি বছর আগে ১৯৪১ সালে ডেল কার্নেগি তার সুবিখ্যাত ‘দুশ্চিন্তাহীন নতুন জীবন’ বইটি লেখায় হাত দেন, নিউ ইয়র্কের পাবলিক লাইব্রেরিতে খুঁজে দেখেন মানুষের জীবন ও দুশ্চিন্তা সম্পর্কিত মাত্র ২২টি বই আছে। অপর দিকে ক্রিমি সম্পর্কে ১৮৯টি বই অর্থাৎ ৯ গুণ বেশি। এ অবস্থার আজকেও কি কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে?
অপর দিকে আল কুরআনের সর্বপ্রথম নাজিলকৃত আয়াত দুটিই হচ্ছে ‘মানুষ’ সংক্রান্ত। ‘পড় সেই প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন জমাটবাঁধা রক্তপিণ্ড হতে। (সূরা আলাক : ১-২)’ আল কুরআনে প্রায় ১৫০টি বিষয়ে ৩০০টি আয়াতে মানুষ প্রসঙ্গে আলোচনা এসেছে।
এখানে মানুষের দুটি প্রধান পরিচয় দেওয়া হয়েছে, তিনি জিন ও মানুষকে তার ইবাদত ভিন্ন অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেননি (সূরা যারিয়াত ৫৬) এবং ‘স্মরণ করা করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি (সূরা বাকারা : ৩০) অর্থাৎ মানুষের পেশা হচ্ছে সকল মাখলুকের মতোই আল্লাহর ইবাদত, কিন্তু তার পদবি হচ্ছে খলিফা বা প্রতিনিধি যে দায়িত্ব আর কোনো মাখলুককেই দেওয়া হয়নি।
আমার স্যামসাঙ মোবাইলের রাত ২টা ৪৫ বাজে। চোখ বুজে যাচ্ছে। অ৪-টেক কিবোর্ডের বর্ণগুলো কেমন ঝাপসা লাগছে। আবার সোয়া দুই ঘণ্টা পরেই সেহেরিতে উঠতে হবে। গভীর অমানিশা কেটে যাবে নিশ্চয়ই। নিশ্চয়ই কাল কুসুম লাল টকটকে সূর্যটি উঠবে। ইনশাআল্লাহ।

কিন্তু কী দিয়ে শেষ করা যায়?
করোনার এই লকডাউনে কত বনি-আদম হারিয়ে যাবে। তবু রাসূলের এই হাদিসটি সব মুমিনকে কাজের প্রেরণা জোগাবে, ‘যদি তোমাদের কারো ওপর কিয়ামত এসে যায়, আর তার হাতে একটি গাছের চারা আছে; তাহলে তার উচিত হবে সেটি বপন করা।’ মারহাবা।
সত্যিই এমন রাসূলের উম্মত হতে পেরে আমরা ধন্য। নয় কি? হ

SHARE

Leave a Reply