Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো অহঙ্কারীরা কোথায়?- বিলাল হোসাইন নূরী

অহঙ্কারীরা কোথায়?- বিলাল হোসাইন নূরী

এই প্রথম, বাবাকে এতটা কাছে পেয়েছে পরিবারের সবাই। এমনও হতো, আম্মু ছাড়া কেউই জানতো না- বাবা কখন বাসায় এসেছেন, কখন বেরিয়েছেন। অথচ এখন তিনি চার দেয়ালের মাঝে পড়ে আছেন। পৃথিবী থেমে থাকলেও, বাবার কাজ কিন্তু থেমে থাকেনি। পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে কথা বলেন প্রতিদিনই। চাঁদের হাটে ছড়িয়ে দেন কুরআন-হাদিসের জোছনা!
আজ সন্ধ্যায় আবার আসর বসেছে ঘরে। বাবা বললেন, দেখো পৃথিবীটা কেমন থমকে আছে! কোভিড-১৯ এসে কিভাবে পৃথিবীর দখল নিয়েছে। কোথাও কেউ নেই। ক’দিন আগেও যেখানে ছিল শুধুই কোলাহল, অগণন মানুষের ভিড়, সেখানে এখন শুধুই শূন্যতা। শুধুই হাহাকার। মহান আল্লাহ চোখের পলকে দেখিয়ে দিয়েছেন, তাঁর ক্ষমতা কত অসীম! আর আমরা কত ক্ষুদ্র, কত অসহায়!
সায়েমা বলল, বাবা! আমার শুধু মনে হচ্ছে, এই বুঝি ইসরাফিলের শিঙ্গা বেজে উঠল!
বাবা বললেন, এ তো কিয়ামতেরই পূর্বাভাস! পৃথিবীর তাবৎ ক্ষমতাবানরা আজ কুপোকাত। জালেমের বুকে কম্পন! যখন সবাই মারা যাবে। এমনকি ফেরেশতারাও। মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ থাকবে না! তখন তিনি বলবেন : “আজ রাজত্ব কার?” এরপর তিনি নিজেই জবাব দিবেন : “প্রবল পরাক্রান্ত এক আল্লাহর!” (সূরা গাফির : ১৬)। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ সমগ্র পৃথিবী এবং আসমানসমূহ হাতে গুটিয়ে বলবেন- “আমিই বাদশাহ! আমিই পরাক্রমশালী! আমি অহঙ্কারী! দুনিয়ার বাদশারা কোথায়? কোথায় পরাক্রমশালীরা? কোথায় অহঙ্কারীরা?” (বুখারি ও মুসলিম)।
সেদিন তাঁর ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাধ্য থাকবে না কারোর। যার ছোট্ট উদাহরণ আজকের পৃথিবী!
আজ আমাদেরও বলতে ইচ্ছে করে, ‘অহঙ্কারীরা কোথায়?’
সাদিয়া বলল, এ থেকে আমাদের এখনই শিক্ষা নেওয়া উচিত। নাফিস বলল, ঠিকই বলেছো আপু। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত আমাদের। আম্মুও যোগ দিলেন। বললেন, আল্লাহর রহমতের বৃষ্টিই পারে আমাদের ভুলগুলো মুছে দিতে।
আব্বু বললেন, চলো- এখন আমরা একসাথে কুরআন তিলাওয়াত করি। আর দোয়া করি, আল্লাহ! আমাদের বাঁচাও। আমাদের পৃথিবীকে করে দাও বসবাসযোগ্য!

SHARE

Leave a Reply