Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো ধৈর্য

ধৈর্য

বেশ কিছুদিন ধরেই ক্লাসে আসছে না আফফান। অসুস্থতা তাকে যেন ছাড়ছেই না। তার অনুপস্থিতিতে চারপাশ যেন প্রাণহীন হয়ে আছে। সহপাঠীদের মনে তার জন্য ফুটে আছে ভালোবাসার অসংখ্য তারাফুল। শিক্ষকরাও তাকে ভালোবাসেন।

একদিন তারা সবাই এলো আফফানদের বাড়িতে। হেডস্যারের নেতৃত্বে। হেডস্যার তার পাশে বসলেন। কপালে হাত রাখলেন। দোয়া করলেন। তিনি যে দোয়া করলেন, তার অর্থ এমন- ‘হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দূর করো এবং আরোগ্য দান করো। তুমি রোগ আরোগ্যকারী। তোমার আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্যদান। তুমি এমনভাবে রোগ নিরাময় করো, যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

আফফান কেঁদে ফেলল। তার মনে অনেক দুঃখ। বলল, ‘স্যার! রোগ কি শুধু আমাকেই দেখে? আর কাউকে দেখে না?’ স্যার বললেন, এমন কথা বলতে নেই বাবা। আল্লাহ তোমাকে অনেক ভালোবাসেন। এজন্য তোমাকে পরীক্ষা করছেন। জানো, হজরত আইয়ুব (আ)-এর শরীর পচে গিয়েছিল। পোকা বাসা বেঁধেছিল সেখানে। কিন্তু তিনি একবারও আল্লাহর কথা ভুলে যাননি। অভিযোগ করেননি। ধৈর্য ধরেছেন। কঠিন ধৈর্য। এরপর আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দিয়েছিলেন এবং অনেক নেয়ামত উপহার দিয়েছিলেন।

আফফান ভেজা চোখে স্যারের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল।
স্যার আরও বললেন, শুধু অসুস্থতা দিয়ে নয়- আল্লাহ বিভিন্নভাবে তার প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। এ পরীক্ষায় যারা ধৈর্যের পরিচয় দেয়, তাদের জন্য সুসংবাদ। তাদের জীবনে মিশে থাকে সফলতার সৌরভ। আল্লাহ বলেছেন, “আমি তোমাদের কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)- আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চিতভাবে তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সূরা বাকারাহ : ১৫৫-১৫৬)

আফফানের ঠোঁটে হাসি ফুটল। যেভাবে একজন সফল মানুষ হেসে ওঠে, সেভাবেই!

– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply