Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো ঘুম

ঘুম

গভীর রাত। চারপাশে কেউ জেগে নেই। উসমানের সাথে জেগে আছে মায়াবতী চাঁদ। জেগে আছে তারার জোনাক। জানালার ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে জোছনার সাথে দেখা হয়ে যায়। কথা হয় চোখ ইশারায়। তারপর সে ডুবে যায় বইয়ের মাঝে। আরও অনেক পড়া বাকি তার। কয়েকদিন পরই পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় তাকে প্রথম হওয়া চাই-ই চাই।

উসমান তার ঘরে অন্য কারও উপস্থিতি অনুভব করল হঠাৎ। বাবা! বাবা এসে পাশে দাঁড়ালেন। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বললেন, এখনো ঘুমাওনি? উসমান বলল, না বাবা। একটু পরেই ঘুমাতে যাব। বাবা বললেন, তুমি পড়াশোনা করছ- এটা অবশ্যই ভালো কাজ। তবে, এত রাত জেগে থাকা মোটেই ভালো কাজ নয়। ‘রাত’ এবং ‘ঘুম’ মানুষের জন্য আল্লাহ তায়ালার এক অনন্য উপহার। তিনি বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম, আর রাতকে করেছি আবরণ।’ (সূরা নাবা : ৯-১০)

বাবা বললেন, জেগে থাকা অবস্থায় আমাদের কোষের ক্রোমোজমে নানা ধরনের ক্ষতি হতে থাকে। ঘুমের সময় কোষগুলো ডিএনএর মধ্যে সবকিছু মেরামত করে ফেলে। বেশি সময় জেগে থাকলে কোষগুলো একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং নানা ধরনের অসুখের জন্ম দেয়। তাই, ঘুম হচ্ছে মস্তিষ্কের স্বয়ংক্রিয় মেরামতের কার্যকর উপায়।

যারা ঠিকমতো ঘুমায় না, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। নাইট শিফটে কাজ করা মানুষদের ডিএনএ উল্লেখযোগ্য হারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ক্ষতি থেকে বড় ধরনের অসুখ এমনকি ক্যান্সারও হয়ে যেতে পারে।

উসমান নতুন কিছু শুনছে। তার চোখে বিস্ময়। সে বলল, বাবা! আমার বন্ধুদের অনেকেই ক্লাসে ঝিমায়। তারা রাত জেগে স্মার্টফোনে ব্যস্ত থাকে! বাবা বললেন, এ তো আরও ভয়ঙ্কর কথা। এখন থেকে, তুমি তোমার বন্ধুদের রাত জাগার কুফল সম্পর্কে সচেতন করবে।

বাবা বললেন, আমি তো তাহাজ্জুদ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে জেগেছি। তুমিও দু’রাকাত সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ো। উসমান মুচকি হেসে বলল, অবশ্যই।

– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply