Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কর্মচিত্র

কর্মচিত্র

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ দিনেই রচিত হয়েছে বাংলাভাষার এক নতুন ইতিহাস। এ ভাষার প্রতিটি বর্ণমালা সেদিন লাল হয়েছিল রক্তে! আর সে রক্তই যেন গোলাপ হয়ে ফুটে আছে এখন। এসব ভেবে ভেবে শাকিল আজ ভীষণ উদ্দীপ্ত। সাহসে জ্বলে উঠছে তার দু’টি চোখ! একটু আগে, মাতৃভাষা দিবসের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সে-ও আবৃত্তি করেছিল-
কে না জানে, মায়ের ভাষা শীতল-গীতল
ঢেউ টলোমল মিষ্টি পানির ঝরনা যেন;
হঠাৎ যদি এ ভাষা কেউ কাড়তে আসে
স্বপ্ন-সাধক বীর ছেলেরা মানবে কেন?
না, বীর ছেলেরা কখনোই পরাজয় মানেনি। ভবিষ্যতেও মানবে না। তাদের হাতেই লেখা হয় সোনালি হরফের বিজয়কাব্য। শাকিলের কবিতার শেষ দু’টি লাইন ছিল এমন-
বাংলাভাষার বর্ণমালার বিজয়-গাঁথায়
নাম লিখেছি ইতিহাসের দীর্ঘ খাতায়!
শাকিল ভাবছে, এ ইতিহাস আমরা কোনোদিন মুছতে দেবো না। মুছতে দেবো না কোনো সাহসী ছেলের নাম- ইনশাআল্লাহ।
একটু পরেই ঘোষণা এলো- কবিতা আবৃত্তিতে শাকিল প্রথম হয়েছে। খুশিতে নেচে উঠল সে। তার উচ্ছ্বাসটা একটু বেশিই ছিল যেন! এটা বুঝতে পারল তখন, যখন সে পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখছিল। নিজেকে এভাবে দেখতে তার নিজেরই ভালো লাগছিল না। কিছু বিষয় একটু দৃষ্টিকটুই মনে হলো। নিজে নিজে লজ্জিত হলো খুব। শাকিল ভাবল, সামান্য একটা বিষয়ের ভিডিওচিত্র দেখেই তার এমন লাগছে। কিয়ামতের দিন যখন সকল কর্মচিত্র প্রকাশ করে দেয়া হবে, তখন কেমন হবে? খারাপ কাজগুলো দেখে তখন কতটা লজ্জা পেতে হবে? আল্লাহ তায়ালা তো বলেই দিয়েছেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎ কাজ করলে, সে তা দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎ কাজ করলে, তা-ও সে দেখতে পাবে।’ (সূরা জিলযাল : ৭-৮)।
শাকিল দোয়া করল, হে আল্লাহ! আমাকে সকল প্রকার অসৎ কাজ থেকে দূরে রাখো।
– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply