Home তোমাদের গল্প ফুঁ বাবা – আহমদ জুয়েল

ফুঁ বাবা – আহমদ জুয়েল

না, এইবার পাস না করলে হবে না। যেকোনো উপায়ে হোক পাস করতেই হবে। কিন্তু পরীক্ষায় গিয়ে তো কিচ্ছু মনে থাকে না। আর মনে থাকবেইবা কেমন করে, পড়াশুনা করলে তো মনে থাকবে। তাই শর্ট পদ্ধতিতে পাস করার কোনো একটা আইডিয়া বের করতে হবে। কী যে করি! আদীল কথাগুলো মনে মনে চিন্তা করছিলো। ক্লাস সিক্স থেকে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে ক্লাস সেভেনে উঠেছে সে। পূর্বের ক্লাসগুলোতে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও বিশেষ বিবেচনায় পরের ক্লাসে পড়ার সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু এবার নাকি সব বিষয়ে পাস করতে হবে। নইলে ক্লাস এইটে পড়ার সুযোগ দিবে না কর্তৃপক্ষ। এদিকে বার্ষিক পরীক্ষাও চলে এসেছে। তাই আদীলের বড্ড চিন্তা হচ্ছে। কিন্তু সে তো কোনোরকম সব বিষয় পাস করার কোনো শর্ট টেকনিক খুঁজে পায় না। তাই ভাবলো হাসনাতের কাছে গিয়ে একটা পরামর্শ নিয়ে আসবে। হাসনাত ক্লাসের মেধাবী ছাত্র। আদীলের সাথেই পড়ে। প্রতি পরীক্ষায় ফলাফলে প্রথম তিনজনের মধ্য একজনের নাম হাসনাতেরই থাকে। তাই আশা করা যায় সে একটা ভালো পরামর্শ দিতে পারবে। এই চিন্তা থেকেই আদীল হাসনাতের সাথে দেখা করা উদ্দেশে হাসনাতের বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো। তবে বাড়ি পর্যন্ত যেতে হলো না। রাস্তায় হাসনাতকে পেয়ে গেলো আদীল। আদীলকে দেখেই হাসনাত বলে উঠলো,
-আদীল কোথায় যাচ্ছিস?
-না, তোর কাছেই যাচ্ছিলাম।
– আমার কাছে? তা হঠাৎ আমার কাছে কেনো?
– এইতো বন্ধু, পরীক্ষা তো চলে এসেছে। তাই খুব চিন্তা হচ্ছে। এবার পাস না করলে তো আর এইটে উঠা হবে না। এখন তুই যদি আমাকে পাস করার একটা শর্টকাট বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করিস তাইলে মনে কর এবারের মতো আমি ক্লাস এইটে উঠতে পারলাম।
– শর্টকাট বুদ্ধি? এটা আবার কী? এখনও সময় আছে। যা মন দিয়ে পড়াশুনা কর।
– তবুও বন্ধু একটা বুদ্ধি দে না প্লিজ।
– আর ধুর, আমার কাছে কোনো শর্টকাট বুদ্ধি নেই। যা পড় গিয়ে। আমার কাছে গণিতের নোট আছে। প্রয়োজন হলে নিতে পারিস।
হাসনাতের কথাগুলো আদীলের কাছে ভালো লাগলো না। তার মনে হলো হাসনাত তাকে পণ্ডিতি দেখাচ্ছে। তাই মনে মনে রাগ নিয়ে হাসনাতকে বলে উঠলো, আচ্ছা থাক তাইলে। লাগবে না তর মহাজ্ঞানী কথাবার্তা। ভাবছিলাম তুই কোনো বুদ্ধি দিবি কিন্তু তা তো দিলি না, উলটো আরো পড়ার কথা বলছিস। যা লাগবে না তর পরামর্শ। আসি, কথাটা বলে আদীল সোজা হাঁটতে লাগলো। এদিকে পিছন থেকে হাসনাত ডাকতে লাগলো, আদীল এই আদীল। রাগ করিস কেন? আরে শুনে যা না। আদীল হাসনাতের আর কোনো কথাই শুনলো না। তাই হাসনাতও আর না দাঁড়িয়ে তার গন্তব্যের দিকে চলতে লাগলো।
একটু দূরে গিয়েই আদীল ইতমামের দেখা পেলো। আদীল ইতমামকে ডাক দিয়ে কাছে আসতে বললো।
– কিরে ডাকিস কেন? আর এতো রাগান্বিত দেখায় কেন।
– আর বলিস না। হাসনাতের কাছে গিয়েছিলাম একটা পরামর্শ চাইতে। কিন্তু সে পরামর্শ না দিয়ে উলটো আমাকে জ্ঞান দিতে লেগে গেলো। নিজেকে একটু বেশিই মেধাবী ভাবে।
– সে তো নিজেকে মেধাবী ভাববেই। প্রতি পরীক্ষায় যার রোল তিনের ভিতরে থাকে সে নিজেকে জ্ঞানী ভাবতে নাতো আমরা ফেল করে নিজেদের জ্ঞানী ভাববো নাকি।
– হেহ, এখন তুমিও তার খুব পক্ষ নিচ্ছো।
– আরে পক্ষ নিলাম কোথায়। আমি তো জাস্ট বললাম। আচ্ছা বাদ দে। এখন বল কী পরামর্শের জন্য গিয়েছিলি।
– না মানে, পরীক্ষা তো সামনে। কিচ্ছু তো পারি না। তাই ওর কাছে পাস করার মতো শর্টকাট টেকনিক চাইছিলাম। কিন্তু এইসব না দিয়ে উলটো এক বস্তা লেকচার দিয়ে দিলো।
– হা হা। এই কথা! আরে বোকা এইটার জন্য তুই হাসনাতের কাছে কেন, ফুঁ বাবার কাছে গেলেই তো বাবা একটা সমাধান দিয়ে দিবেন।
– ফুঁ বাবা? তিনি আবার কে?
– আরে তুই চিনিস না? ফুঁ বাবা আমাদের গ্রামে নতুন এসেছেন। তিনি যেকোনো বিষয়ে সমাধান দিয়ে থাকেন। কিভাবে পরীক্ষায় সহজে পাস করতে হয় তাও তিনি দেখিয়ে দেন।
– সত্যি? তা তিনি থাকেন কোথায়?
– এইতো মন্টু চাচার দোকানের পাশে যে বটগাছ আছে এটার নিচেই তার আস্তানা। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছের নিচে বসে ধ্যান করেন আর মানুষদের পরামর্শ দেন। আর রাত্র হলেই তিনি নাকি জিনদের সাথে মিশে যান।
– তাই নাকি! তাইলে তো আমার জন্য খুব ভালো হলো। তাহলে চল আমরা ফুঁ বাবার কাছে যাই।
– আচ্ছা চল, এ কথা বলেই দু’জন ফুঁ বাবার দরবারের দিকে যেতে লাগলো। কিছুক্ষণ হাঁটার পর তারা বটগাছের নিচে ফুঁ বাবার দরবারে গিয়ে পৌঁছাল। ফুঁ বাবার দরবারে গিয়ে আদীল দেখতে পেলো, এক ব্যক্তি গায়ে লাল কাপড় পরে বসে আছে। তার পাশে আরেকটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। আদীল লাল কাপড় পরা ব্যক্তিটার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটা বলে উঠলো, “এই ছেলে এরকম দাঁড়িয়ে আছো কেনো? বাবাকে সালাম করো।” আদীল কোনো কথা না বলে সালাম দিলো, “আসসালামু আলাইকুম।” বাবা এবার তার হাত একটু ওপরে তুললেন। আদীল ভাবলো বাবা হয়তো হাত ওপরে তুলে সালামের জবাব প্রকাশ করেছেন। এরকম কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বাবা বলে উঠলেন, এতো সময় আমি ধ্যানে মগ্ন ছিলাম। তাই কথা বলিনি। এখন বলো তোমার কী দরকার। আদীল একটু নীরব ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
– বাবা আমি গত কয়েক বছর থেকে পরীক্ষায় নিয়মিত পাস করতে পারি না। এবার বার্ষিক পরীক্ষায় নিয়মিত পাস না করলে নাকি পরের ক্লাসে উঠতে পারবো না। তাই আমাকে সহজে পাস করার একটা বুদ্ধি দিন বাবা।
– সমস্যা নেই বৎস। আমি ফুঁ বাবা থাকতে তুমি পাস নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তুমি কাল বেলা ১২টা ৫৮ মিনিটে ৩টা কলম ও ৩৭৬ টাকা নিয়ে আসবে। আমি তোমার কলমগুলোতে ফুঁ দিয়ে দিব। আর তুমি পড়ালেখা না করেও সেই কলমগুলো দিয়ে পরীক্ষা দিলে পাস করবে। যাও কাল ঠিক সময়ে এসো। মনে রাখবে দেরি করলে কিন্তু আর হবে না।
– আচ্ছা বাবা।
আদীল এবার বাড়ির দিকে ফিরতে লাগলো। মনের মধ্য অনেক আনন্দ কাজ করছিলো। কিন্তু তার হাতে তো এখন ৩৭৬ টাকা নেই। টাকাগুলো কোথায় পাবে? চিন্তায় পড়ে গেলো আদীল। কিন্তু বেশিক্ষণ চিন্তা করতে হলো না। ভাবলো রেনু আপাকে বলে টাকাটা নিয়ে নিবে। বাবা কিংবা মাকে বললে উলটো তারা বকা দিবেন যার কারণে সে বাবা মাকে না বলে রেনু আপাকে বলার সিদ্ধান্ত নিলো। রেনু আদীলের বড় বোন। দুই ভাই বোনের মধ্যে রেনুই পরিবারের বড়। তারপরেই আদীল। ছোট ভাই হওয়াতে আদীলের কোনো কথাই অপূর্ণ রাখেন না। এবারও তাই হলো, আদীলের চাওয়াতে আপুও টাকাটা দিতে রাজি হলেন। কিন্তু টাকা দিয়ে কী করবে তা জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে সে একটা ক্রিকেট খেলার ব্যাট কিনবে বলে জানায়। ব্যাট কিনতে শুনে আর কোনো কথা জিজ্ঞেস না করেই টাকাটা দিয়ে দিলেন।

পরদিন বেলা ১২টা ৫৮ মিনিটে ফুঁ বাবার দরবারে তিনটি কলম ও ৩৭৬ টাকা নিয়ে হাজির হলো আদীল। বাবা টাকা আর কলমগুলো হাতে নিলেন। প্রায় ১৫ মিনিটের মতো তন্ত্রমন্ত্র পড়ে কলমে ফুঁ দিয়ে কলমগুলো আদীলের হাতে দিলেন। আর দিয়ে বললেন, “এই নাও তোমার পড়া কলম। আর শুনো, পরীক্ষার আগে আর একদিনও এই দিকে আসবে না। তবে পরীক্ষার দিন ভালো ফলাফল করেই মিষ্টি নিয়ে দরবারে আসবে।” আরেকটা শর্তও তিনি দিলেন। শর্ত হলো, পরীক্ষার আগে যাতে আদীল প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় বই সামনে নিয়ে বসে থাকে। কিন্তু বই থেকে কিছু পড়া যাবে না। শুধু বাবা মাকে বুঝাতে হবে সে পড়ছে। আর যদি কথাগুলো সে না শুনে তাহলে পরীক্ষায় পাস করবে না বলে ফুঁ বাবা জানিয়ে দেন। আদীল কথাগুলো মেনে নিলো। একটু পরেই জোহরের আজান হয়ে যাওয়াতে আদীল ফুঁ বাবার পড়ে দেওয়া কলমগুলো নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলো।

দেখতে দেখতে পরীক্ষা এসে এলো। বাবা মা খুব খুশি আদীলের ওপর। কারণ আদীল ইদানীং প্রতিদিন পড়তে বসে। সবাই আশা করেন সে ভালো ফলাফল করবে। গতদিন তার আপু এসে টাকা নিয়ে ব্যাট না কেনার কারণ জানতে চাইলেন। আদীল খুব ভদ্র ছেলের মতো বলে উঠলো, “কী যে বলো আপু, এখন আমার পরীক্ষা না? এই সময়ে কী কেউ ব্যাট কিনে খেলাধুলা করে? এখন হচ্ছে পড়ার সময়। তাই টাকাটা জমিয়ে রেখেছি পরীক্ষার পরেই কিনবো।” কথাটা দিয়ে আদীল তার আপুকে এক্কেবারে ম্যানেজ করে ফেলে। যার কারণে তার আপুও তার ওপর আশাবাদী যে সে একটা ভালো ফলাফল করবে। আদীলও আশাবাদী সে পড়ালেখা না করেও ফুঁ বাবার পড়া কলম দিয়ে ভালো ফলাফল করবে।

আদীলের পরীক্ষা শুরু হলো। সে পরীক্ষা দিতে গেলো। কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে কিচ্ছু পারে না। তবুও সে যা ইচ্ছে তা লিখতে লাগলো। কারণ সে বিশ্বাস করে ফুঁ বাবার দোয়ায় এই সবকিছু সঠিক উত্তরে রূপ নেবে। এরকম করে প্রতিটা পরীক্ষাই কাটিয়ে দিলো আদীল।

আজ পরীক্ষার ফলাফল দেবে। আদীলের মনে কোনো চিন্তা নেই। কারণ সে জানে যে সে পাস করবে। তাই আর স্কুলে না গিয়ে পাশের একটা দোকানে হেলান দিয়ে বসে রইলো। কিছুক্ষণ পর দেখলো ইতমাম স্কুলের ড্রেস পরে বাড়িতে ফিরছে। তাই ইতমামকে দেখে সে ডাক দিয়ে বলে উঠলো, “এই ইতমাম কী খবর রেজাল্টের? আমি কত নাম্বারে পাস করছি?” ইতমাম কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলে উঠলো, “আরে আদীল তুই তো এবার দেখিয়ে দিয়েছিস। তুই এবার আমার আর হাসনাতের চেয়ে ভালো নাম্বারে পাস করেছিস। ” আদীল চমকে উঠে বললো, “সত্যি?।”
– হ্যাঁ সত্যি।
কথাটা বলে ইতমাম তার পথেই হাঁটতে লাগলো। এদিকে আদীল কথাটা শুনে খুশিতে এক দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে পৌঁছালো। বাড়িতে পৌঁছেই সে রেনু আপাকে বলে উঠলো, আপু আমি এবার নিয়মিত পাস করেছি তাও হাসনাত ও ইতমামের চেয়ে ভালো নাম্বারে। আপুকে কথাটা বলতে বলতে তার আম্মুও এসে গেলেন। এসে বললেন, কী হইছে তর, তোকে এতো খুশি খুশি লাগে কেনো?
– “আম্মু আমি এবার হাসনাত আর ইতমামের চেয়েও ভালো নাম্বারে পাস করেছি”। মা খুশি হলেন। আর বললেন, “তো কত নাম্বারে পাস করেছিস?”
-তা জানি না। দাঁড়াও মা, স্কুল থেকে দেখে আসি কত নাম্বারে পাস করেছি বলে সোজা স্কুলের দিকে যেতে লাগলো। মাঝপথে গিয়ে হঠাৎ ফুঁ বাবার কথা মনে হলো। চিন্তা করলো বাবাকে গিয়ে সংবাদটা জানিয়ে আসি। তাই সে স্কুলে যাওয়ার আগে বটগাছের নিচে ফুঁ বাবার দরবারে গেলো। কিন্তু এখানে গিয়ে কাউকে পেলো না। ভাবলো হয়তো বাবা জিনদের রাজ্যে আছেন। তাই আর সেখানে অপেক্ষা না করে সোজা স্কুলে ছুটে গেলো। এতক্ষণে স্কুল ছুটি হয়ে গেছে, কোনো শিক্ষক কিংবা ছাত্র-ছাত্রী নেই। নোটিশ বোর্ডে রেজাল্ট ঝুলানো। সে তাড়াহুড়ো করে কত নাম্বারে পাস করেছে তা দেখতে লাগলো। কিন্তু প্রথম স্থানেই দেখলো হাসনাতের নাম আর সপ্তম স্থানে ইতমামের নাম। তখন ভাবলো হয়তো ইতমাম দুষ্টুমি করে বলেছে যে তাদের চেয়ে ভালো নাম্বারে পাস করেছে। তাই ভালো করে আবারো রেজাল্ট শিট চেক করলো। কিন্তু পাস লিস্টের কোথাও তার নাম দেখতে পেলো না। যারা ফেল করেছে তাদের নাম আসেনি। তাই সে স্পষ্টত বুঝতে পারলো সে এবারও ফেল করেছে। তৎক্ষণাৎ তার ফুঁ বাবার প্রতি খুব রাগ হলো। তাই রাগ মনে নিয়ে আবারো ফুঁ বাবার দরবারে গেলো। কিন্তু এবারও তাকে দেখতে না পেয়ে মন্টু চাচার দোকানে এসে বসে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর মন্টু চাচা তাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কার জন্য অপেক্ষা করো বাবা আদীল।
– ফুঁ বাবার জন্য চাচা।
– ফুঁ বাবার জন্য? আরে কে বলেছে ও ফুঁ বাবা? সে তো পুলিশের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলো। তাই এখানে এসে ভণ্ড বাবা সেজেছিলো। গত পরশু দিন এসে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে গেছে। কেন, তার সাথে দরকার ছিলো?
আদীল কোনো কথা বলে না। তার ইতমামের প্রতি রাগ হয়। ইতমাম কেন মিথ্যাটা বললো। সে মিথ্যাটা না বললে তো মা বাবা আর রেনু আপাকে গিয়ে পাস করেছি সেটা বলতাম না। বুঝতে পারে না সে এখন কী করবে? আব্বু আম্মু আর রেনু আপাকে কী বলে বুঝাবে যে সে ফেল করেছে। কোনো উত্তর পায় না। চিন্তা করতে করতে বাড়ির দিকে ফিরতে লাগে, আর নিজেকে বোকা ভাবতে লাগে। ভণ্ড ফুঁ বাবার কথাটা বিশ্বাস না করে যদি হাসনাতের কথামতো নিয়মিত পড়াশুনা করতাম তাইলে হয়তো এখন ফেল করতে হতো না। আর ইতমামের কথায় কান না দিয়ে নিজেই যদি প্রথমে ফলাফল দেখে আসতাম তাইলে হয়তো সবার কাছে মিথ্যা পাসের কথা বলতে হতো না। কিন্তু এখন তো কিছু করার নেই। বাবা মায়ের কাছে কী জবাব দেবে সেটাই বড় চিন্তা। আর সেই চিন্তা করতে করতে সে হাঁটতে লাগলো বাড়ির দিকে।

SHARE

Leave a Reply