Home চিত্র-বিচিত্র ক্ষুদ্র প্রাণী টারশিয়ার – রিয়াজুল ইসলাম

ক্ষুদ্র প্রাণী টারশিয়ার – রিয়াজুল ইসলাম

ক্ষুদ্র প্রাণী টারশিয়ার - রিয়াজুল ইসলামবিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণী টারশিয়ার। পুরো নাম টারশিয়ারসাইরিচটা। এটি দেখা যায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন্স, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতে।
আকারে টারশিয়ার মানুষের হাতের চেয়ে বড় হবে না। টারশিয়ার ৪-৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। এদের ওজন মাত্র ১৩০ গ্রাম। এই প্রাণীটির বাদামি বা ধূসর বর্ণ রয়েছে। লম্বা ঘাসে, গাছে এবং বাঁশের ঝোপগুলোতে বাস করে। টিকটিকি, পোকামাকড় এবং ছোট পাখিগুলো এদের প্রধান খাদ্য। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে ‘টারশিয়ার’ ‘আল্ট্রাসাউন্ড’ প্রক্রিয়ায় কথা বলতে পারে। এই প্রাইমেট প্রজাতিরা একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে শব্দ শুনতে পারে এবং শব্দ বেরও করতে পারে। ফলে সেই ফ্রিকোয়েন্সি হয়ে ওঠে কার্যত তার ‘প্রাইভেট চ্যানেল’। আর এই চ্যানেল মারফত টারশিয়ার সতর্ক সংকেত দিতে পারে। রাতের খাবার হিসেবে ঝিঁঝিঁ পোকার সন্ধানে লেগে যেতে পারে।
এতোদিন পর্যন্ত বলা হতো যে তিমি, বিড়াল এবং কয়েকটি বিশেষ প্রজাতির বাদুড়সহ হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি স্তন্যপায়ী প্রাণী ২০ কিলোহারৎস-এর ওপরে আল্ট্রাসাউন্ড রেঞ্জে কণ্ঠসঙ্কেত শুনতে এবং পাঠাতে সক্ষম। এমনকি মানুষও ২০ কিলোহারৎস-এর বেশি উচ্চতায় কিছু শুনতেই পারে না। কিন্তু টারশিয়ার ২০ কিলোহারৎসের বেশি শুনতে পায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের হুমবোল্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফিলিপাইন্সের একটি গবেষক দল দেখিয়ে দিলেন যে, ‘টারশিয়ার’-রা অনেক দ্রুতগতির শব্দতরঙ্গেও প্রভাবিত হয়। তবে তারা এটা করে শুধুমাত্র রাতে, খাদ্য অন্বেষণের সময়।
বিজ্ঞানীরা আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতি ব্যবহার করে সাউন্ড চেম্বার-এর মধ্যে একটি বিশেষ ‘ফ্রিকোয়েন্সি’-তে এটা প্রমাণ করেন। ধীরে ধীরে শব্দতরঙ্গের গতি বাড়িয়ে তারা দেখান যে, এই ছোটছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ৬৭ কিলোহারৎস-এর শব্দতরঙ্গও চিনতে সক্ষম।
টারশিয়ারের অন্যতম আকর্ষণ এদের চোখ। চোখের জাদু অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও রয়েছে। চোখের ভাষা বড় বিচিত্র। চোখের জাদুকরী ক্ষমতার যেন শেষ নেই। টারশিয়ার প্রাণীটির চোখ অনেক প্রশস্ত। দেখলে মনে হবে, অবাক হয়ে চেয়ে আছে চোখ দুটো। এটি চোখের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গিনেস বুক অব রেকর্ডস অনুসারে, এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহের অনুপাতের তুলনায় বিশ্বের বৃহত্তম চোখ রয়েছে। একটি মজার তথ্য হলো এই প্রাণীর চোখ তার মস্তিষ্কের চেয়েও বড়! এই চোখের জন্য এরা রাতে দেখতে পারে। চোখ দুটোকে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পাপড়ি। এদের প্রশস্ত চোখ দেখলে অনেকে ভয় পেতে পারে! তবে অসাধারণ ক্ষমতার জন্য এরা সর্ব পরিচিত।

SHARE

Leave a Reply