Home ফিচার লজ্জাবতী বানর – রফিক রইচ

লজ্জাবতী বানর – রফিক রইচ

লজ্জাবতী বানর - রফিক রইচআগামীর বিভিন্ন আবিষ্কারের জনক বন্ধুরা, তোমাদের জন্য আজকের লেখাটি লিখবো এমন একটি প্রাণী সম্পর্কে যে প্রাণীটি বর্তমানে খুবই বিপদের মধ্যে আছে। কোন প্রাণীটা- জানতে ইচ্ছা করছে না বন্ধুরা সেই প্রাণীটিকে? বন্ধুরা সেই প্রাণীটি হলো লজ্জাবতী বানর। একে বাংলা লজ্জাবতী বানর বা লাজুক বানরও বলে। ইংরেজি নাম হল বেঙ্গল স্লো লরিস। এ প্রাণীটা কর্ডাটা পর্বের ম্যামালিয়া শ্রেণীর প্রাইমেটস বর্গের অন্তর্ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো- নেকটিসিবাস বেংগালিনসিস।
এই লজ্জাবতী বানরটি আইইউসিএন এ লাংল তালিকায় সঙ্কটাপন্ন হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যা মোটেও ভালো কথা নয়। অর্থাৎ প্রাণীটা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এমন প্রাণীকে আর পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না। তাই এই প্রাণীটিকে আমাদের জানা এবং জানার পরে একে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সেটার জন্য তোমাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কারণ তোমরাই আগামী দিনের কর্ণধার। বন্ধুরা! তাহলে আর দেরি না করে প্রাণীটা সম্পর্কে কিছুটা জানার চেষ্টা করি।
লজ্জাবতী বানর বাংলাদেশের সবুজ বনে পাওয়া যায়। এরা গাছের সবচেয়ে উঁচু শাখায় থাকতে ভালোবাসে। লজ্জাবতী বানর বিভিন্ন আকারের হয়। সবচেয়ে ছোটটি হলো বর্ণিল লজ্জাবতী বানর। ওজন ১০ আউন্স। সবচেয়ে বড়টি আমাদের দেশেই পাওয়া যায়। এদের দেহ ৩৩ সেন্টিমিটার লম্বা, ওজন প্রায় ১.২-২ কেজি। এ লাজুক বানরটিকে জামালপুর জেলার গারো পাহাড়ের জঙ্গলসহ দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্ব বনাঞ্চলে দেখা যায়। তবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বেশি দেখা যায়। দেহ হালকা বাদামি লাল হলুদ থেকে ধূসর রঙের ছোট ছোট নরম পশম দ্বারা আবৃত থাকে। মাথা গোলাকৃতির। পেঁচার মতো চোখের গঠন। লেজটা তুলনামূলক খাটো। সাধারণত ৩০-৩৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা। মাথা থেকে পিঠ পর্যন্ত লম্বা বাদামি দাগ দেখা যায়। এরা একটু ধীরগতির প্রাণী। তবে প্রয়োজনে দ্রুত বেগে কোন কিছু বেয়ে ওঠার ক্ষমতা আছে এদের।
লজ্জাবতী বানর - রফিক রইচএরা একা একা বসবাস করতে চায়। উঁচু শাখাকে শক্ত করে ধরে রাখতে এদের জুড়ি নেই। এরা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে আর্থ্রােপোডা পর্বে সন্ধিপদি প্রাণী যেমন- তেলাপোকা, পাখির ডিম, গাছের মুকুল, ফল, গাছের আঠা, কষ, ছোট পাখি, পাতা ইত্যাদি। এরা অন্য বানরের মত হাত দিয়ে খায় না। মুখ লাগিয়ে খায়। লজ্জাবতী বানর নামকরণের পেছনের কারণ হলো এরা দিনের বেলায় দুই পায়ের মাঝখানে মাথা গুঁজিয়ে দুই হাত দিয়ে মুখটা ঢেকে ফেলে। এ কারণে অনেকে একে মুখচোরা বানরও বলে। শামুকের মতো কুণ্ডলী পেকে থাকে বলে এদের শামুক বানরও বলে।
এরা কখনো কখনো গাছের উঁচু ডালে পা আটকিয়ে দিয়ে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। দিনের বেলা এরা বের হয় না। নিজেকে একটু আড়াল করে রাখতে পছন্দ করে। এরা নিশাচর প্রাণী। বাংলাদেশে একমাত্র নিশাচর প্রাইমেট এটি। দিনের বেলায় গভীর জঙ্গলে শামুকের মতো পেঁচিয়ে বসে থাকে।
নিশাচর হওয়ার কারণে এদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। এরা নিজেদের চোখকে ছোট বড় করতে পারে। ঘ্রাণশক্তিও বেশি। এটি শিকার ধরতে সাহায্য করে। এদের হাত পায়ের আঙুলগুলো মানুষের মতো। তাই এই আঙুলের সাহায্যে ডালের সাথে শক্ত করে ঝুলে থাকে। সহজে কোন লোক ডাল থেকে ছাড়িয়ে আনতে পারে না। তবে সিলেট অঞ্চলের আদিবাসী লোকজন যেমন টিপরা ও খাসিয়ারা এই লজ্জাবতী বানর ধরতে খুব অভিজ্ঞ।
আত্মরক্ষার জন্য এদের শরীরে বিষথলি রয়েছে। যার সাহায্যে এরা শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। এদের আয়ু সাধারণত ১৫-২০ বছর। মেয়ে লজ্জাবতী বানর বছরে একবার কিংবা দু’বার একটি করে বাচ্চা দেয়।
তাহলে বন্ধুরা খানিকটা জানা হলো এই লজ্জাবতী বানর সম্পর্কে। কেউ যেন এর আবাসস্থল নষ্ট না করে, খাদ্যের সঙ্কট সৃষ্টি না করতে পারে এবং শিকার করতে গিয়ে যেন এদের সংখ্যা কমিয়ে না দেয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

SHARE

Leave a Reply