Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো বিজয়ের হাসি

বিজয়ের হাসি

আহসান। তার নামের অর্থ যেমন সবচেয়ে সুন্দর, মানুষ হিসেবেও সে সুন্দর। তার কিশোর মনে যেন লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে এক পবিত্রতার সবুজ চারা। তার এ ভালো হওয়াটা যেন অনেকের কাছেই ভালো লাগে না। এমনকি সহপাঠীদের কাছেও! ক্লাসে, ক্লাসের বাইরে যখন তখন তাকে নিয়ে হাসির রোল ওঠে। নানা উপনামে ডাকা হয় তাকে। নানা অঙ্গভঙ্গি আহত করে তাকে। দু’চোখ বেয়ে শুধু অশ্রু ঝরানো ছাড়া আর যেন কিছুই করার নেই তার। তার অপরাধ? সে কেন অন্য সবার মতো নয়! উচ্ছৃঙ্খল নয়! সে কেন সবাইকে সালাম দেয়! সালাত আদায় করে! বড়দের সম্মান করে!

একদিন বাবাকে বলল সব। বাবা বললেন, তোমাকে কুরআন থেকে কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে শোনাচ্ছি। দেখ, তোমার সাথে মিলে যায় কি-না।

“যারা অপরাধী, তারা মুমিনদের নিয়ে হাসাহাসি করতো। তারা যখন তাদের কাছ দিয়ে গমন করতো, তখন পরস্পর চোখ টিপে ইশারা করতো। যখন তারা নিজ পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতো, তখনও উপহাসরত অবস্থায়ই ফিরতো। আর যখন মুমিনদের দেখতে পেত, তখন বলত- এরা তো পথভ্রষ্ট! অথচ এই অপরাধীদের মুমিনদের অভিভাবকরূপে পাঠানো হয়নি।” (সূরা মুতাফফিফিন : ২৯-৩৩)

আহসান আশ্চর্য হয়ে বলল, এখানে তো আমার কথাই বলা হচ্ছে! বাবা বললেন, তা হলে শোনো এরপর আল্লাহ কী বলেছেন- “আজ (আখিরাতে) যারা মুমিন, তারা অবিশ্বাসীদের নিয়ে হাসাহাসি করছে। আর তারা সুসজ্জিত আসনে বসে ওদের পরিণতি অবলোকন করছে। কি, অবিশ্বাসীরা তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল পেয়েছে তো?” (সূরা মুতাফফিফিন : ৩৪-৩৬)

বাবা বললেন, দেখলে তো? তোমাকে নিয়ে এ পৃথিবী উপহাসে হেসে উঠুক, এতে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। শেষ হাসিটা মুমিনদেরই। আখিরাতে মুমিনরাই হাসবে বিজয়ের হাসি। তবে, তোমার সহপাঠী বন্ধুদের সত্য পথের দাওয়াত দিতেও ভুলো না যেন!

আহসান অনুভব করল, তার বুকের ওপর চেপে থাকা কষ্টের পাহাড়টা যেন সরে যাচ্ছে ক্রমাগত। আলহামদুলিল্লাহ!
– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply