Home দেশ-মহাদেশ জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলামজাপান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। জাপানি ভাষায় এর পুরো নাম নিপ্পন-কোকু বা নিহন-কোকু, অর্থাৎ ‘জাপান রাষ্ট্র’। ইংরেজি জাপান শব্দটি সম্ভবত এসেছে জাপানি নাম নিহন-এর আদি মান্ডারিন চীনা বা উ চীনা উচ্চারণ থেকে। জাপানি ভাষায় এই শব্দটির উচ্চারণ নিপ্পন বা নিহন। জাপানি জাতি নিজেদের বলে নিহনজিন এবং নিজেদের ভাষাকে বলে নিহঙ্গ। একটি চীনা দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, সূর্য জাপান থেকে ওঠে। এ কারণে জাপানকে ‘সূর্যোদয়ের দেশ’ বলা হয়। এর আগে জাপান ওয়া বা ওয়াকোকু নামে পরিচিত ছিল।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরে এশিয়া মহাদেশের পূর্ব উপকূলের অদূরে অবস্থিত এবং উত্তরে ওখোৎস্ক সাগর থেকে দক্ষিণে পূর্ব চীন সাগর ও ফিলিপাইন সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। জাপান একটি উন্নত দেশ।

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
জাপানের জেএমএসডিএফ কংকো শ্রেণীর একটি ডেস্ট্রয়ার

জাপান মূলত একটি যৌগিক আগ্নেয়গিরীয় দ্বীপমালা। এই দ্বীপমালাটি ৬ হাজার ৮৫২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এটি আকারে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ দেশ। এ দেশের বৃহত্তম চারটি দ্বীপ হলো হোনশু, হোক্কাইডো, ক্যুশু ও শিকোকু। এই চারটি দ্বীপ জাপানের মোট ভূখণ্ডের ৯৭ শতাংশ। জাপানের আয়তন ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯১৫ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ১৭ হাজার। এ দেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি এবং গড় আয়ু ৮১ বছরের কিছু বেশি, যা পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ। জাতিগত গ্রুপের মধ্যে রয়েছে জাপানি ৯৮.১ শতাংশ, কোরিয়ান ০.৫ শতাংশ, চীনা ০.৪ শতাংশ এবং অন্যান্য ১ শতাংশ। প্রধান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় শিন্তো ধর্মাবলম্বী ৫১.৮ শতাংশ, বৌদ্ধ ৩৯.৪ শতাংশ, শিন্তো সম্প্রদায় ৪ শতাংশ, খ্রিষ্টান ২.৩ শতাংশ এবং অন্যান্য ৭ শতাংশ। জনসংখ্যার হিসাবে জাপান বিশ্বের দশম বৃহত্তম রাষ্ট্র।
জাপান মূলত একটি নগরভিত্তিক রাষ্ট্র। মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪% কৃষিকাজে নিয়োজিত। বহু কৃষক কৃষিকাজের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শরহগুলোতে অতিরিক্ত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সবচেয়ে জনবহুল শহরগুলোর মধ্যে আছে টোকিও, ইয়োকোহামা, ওসাকা, নাগয়া, সাপ্পোরো, কিয়োটো, কোবে, কাওয়াসাকি, ফুকুওকা ও সাইতামা। জাপানি ভাষা দেশটির সরকারি ভাষা। এই ভাষায় জাপানের প্রায় ৯৮ শতাংশ লোক কথা বলে। এ ছাড়াও এ দেশে স্বল্পসংখ্যক লোক কোরীয় ভাষায় কথা বলে। এ দেশের অধীনস্থ রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জে রিউকিউয়ান ভাষাসমূহ প্রচলিত।

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে জাপানের রোবোটিক গবেষণা মোডিউল

রাজধানী টোকিও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার দ্বিতীয় বৃহত্তম মূল শহর। টোকিও এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাজ্য নিয়ে গঠিত বৃহত্তর টোকিও অঞ্চলের জনসংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মহানগরীয় অর্থনীতি। জাপানের মুদ্রার নাম ইয়েন।
পুরাতাত্ত্বিক গবেষণার ফলে জানা গেছে যে, উচ্চ প্রস্তরযুগেও জাপানে জনবসতির অস্তিত্ব ছিল। জাপানের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে রচিত চীনা ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে। জাপানের ইতিহাসে অন্যান্য বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাব দেখা যায়। এই দেশের ইতিহাসে প্রথমে চীনা সাম্রাজ্যের প্রভাব পড়ে। তারপর একটি বিচ্ছিন্নতার যুগ কাটিয়ে এই দেশের ইতিহাসে পড়ে পশ্চিম ইউরোপের প্রভাব। দ্বাদশ শতাব্দী থেকে ১৮৬৮ সাল পর্যন্ত শোগুন নামের সামরিক সামন্ত-শাসকরা সম্রাট উপাধিতে জাপান শাসন করেন। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে জাপান এক দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পর্যায়ে প্রবেশ করে। ১৮৫৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পাশ্চাত্যের সামনে জাপানকে খুলে দেয়ার জন্য চাপ দিলে সেই বিচ্ছিন্নতার যুগের অবসান ঘটে। প্রায় দুই দশক অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও বিদ্রোহ চলার পর ১৮৬৮ সালে মেইজি সম্রাট রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হন এবং জাপান সাম্রাজ্য ঘোষিত হয়। এই সাম্রাজ্যে সম্রাট জাতির দিব্য প্রতীকের সম্মান পান। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে জাপান প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ, রুশ-জাপান যুদ্ধ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করে। এই ক্রমবর্ধমান সামরিক যুগে জাপান নিজ সাম্রাজ্যের পরিধি বিস্তৃত করে।

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
টয়োটা কোম্পানির গাড়ি নির্মাণ কারখানা। জাপান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা দেশ

১৯৪১ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর জাপানি বাহিনী অতর্কিতে যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার আক্রমণ করে, মালয়, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে ব্রিটিশ বাহিনীকে আক্রমণ করে এবং যুদ্ধ ঘোষণা করে দেয়। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রশান্ত মহাসাগরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। ১৯৪৫ সালে মাঞ্চুরিয়ায় সোভিয়েত আক্রমণ এবং হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর ১৫ আগস্ট জাপান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে রাজি হয়। এই যুদ্ধের ফলে জাপান ও বৃহত্তর পূর্ব এশীয় ভূ-সম্পদ ক্ষেত্রের লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং জাপানের অধিকাংশ শিল্প ও পরিকাঠামো ধ্বংস হয়। মিত্রশক্তি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে) লক্ষ লক্ষ জাপানি বংশোদ্ভুতকে উপনিবেশ ও এশিয়ার বিভিন্ন সামরিক ক্যাম্প থেকে স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে জাপান সাম্রাজ্য ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং জাপানি উপনিবেশগুলো স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৯৪৭ সালে জাপান একটি নতুন সংবিধান গ্রহণ করে। এই সংবিধানে উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়। ১৯৫২ সালের সানফ্রান্সিসকোর চুক্তি বলে জাপানে মিত্রশক্তির অধিকার সমাপ্ত হয়। ১৯৫৬ সালে জাপান জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
জাপান জাতিসংঘ, জি-৭, জি৮ ও জি২০ গোষ্ঠীগুলোর সদস্য। এই রাষ্ট্রটি একটি মহাশক্তিধর রাষ্ট্র। সরকারিভাবে জাপান যুদ্ধ ঘোষণার অধিকার বর্জন করলেও এই দেশটি একটি আধুনিক সামরিক বাহিনী বজায় রেখেছে। এ দেশের সামরিক বাজেট বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম সামরিক বাজেট। অবশ্য জাপানের সামরিক বাহিনীর কাজ হলো আত্মরক্ষা ও শান্তিরক্ষা।

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
এক থালা নিগ্রি-জুশি, জাপানি জনপ্রিয় খাবার

জাপান একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। এখানে সম্রাটের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংবিধান তাকে ‘রাষ্ট্র ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানত প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের অন্যান্য নির্বাচিত সদস্যদের হাতে ন্যস্ত থাকে। দেশের সার্বভৌমত্ব জাপানি জাতির হাতে ন্যস্ত। জাপানের বর্তমান সম্রাট নারুহিতো ২০১৯ সাল থেকে এবং প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতাসীন।
জাপানের আইনসভার নাম ন্যাশনাল ডায়েট। এটি টোকিওর চিয়োদায় অবস্থিত। ডায়েট একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ৪৮০ সদস্যবিশিষ্ট। এই কক্ষের সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। এই কক্ষের মেয়াদ চার বছর বা ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত। উচ্চকক্ষ হাউজ অফ কাউন্সিলরস এর সদস্য সংখ্যা ২৪২। এই কক্ষের সদস্যরা জনগণের ভোটে ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
জাপানের প্রশাসনিক এলাকা ৪৭টি প্রিফেকচার বা প্রদেশ নিয়ে গঠিত। প্রত্যেক প্রিফেকচারের দায়িত্বে রয়েছেন একজন নির্বাচিত গভর্নর, আইনসভা ও প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র। প্রিফেকচারগুলো আবার মহানগর, শহর ও গ্রামে বিভক্ত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা জোট দেশের বিদেশনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ১৯৫৬ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে জাপান মোট ২০ বছরের মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য। জাপান এখন এই পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিদার।

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
ইয়োকোহামার নিশান স্টেডিয়াম। জাপানে ফুটবল অন্যতম জনপ্রিয় খেলা

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিশেষ বিশেষ অঞ্চলের অধিকার নিয়ে জাপানের বিবাদ রয়েছে। দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দখল নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে, লিয়ানকোর্ট রকসের দখল নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে, সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের দখল নিয়ে চীন ও তাইওয়ানের সঙ্গে এবং ওকিনোতোরিশিমার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দখল নিয়ে চীনের সঙ্গে জাপানের বিবাদ রয়েছে।
এ ছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে জাপানের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই দেশের পাসপোর্টে ১২২টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়, যা পাসপোর্ট শক্তি সূচকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
সংবিধানের ৯ নং ধারার কারণে জাপানের সামরিক বাহিনীর (জাপান আত্মরক্ষী বাহিনী) যুদ্ধ ঘোষণা বা আন্তর্জাতিক বিবাদে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করার অধিকার নেই। জাপান আত্মরক্ষী বাহিনী এমন একটি বাহিনী যা জাপানের বাইরে কখনও গুলি চালায়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বাহিনী পরিচালনা করে। জাপান স্থল আত্মরক্ষী বাহিনী (জেজিএসডিএফ), জাপান সামুদ্রিক আত্মরক্ষী বাহিনী (জেএমএসডিএফ) ও জাপান বায়ু আত্মরক্ষী বাহিনী (জেএএসডিএফ) নিয়ে এই সামরিক বাহিনী গঠিত।
জাপান ভূখণ্ডের ৭৩ শতাংশই বনভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল, যা কৃষি, শিল্প বা গৃহনির্মাণের অনুপযোগী। এই কারণে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো খুুবই ঘন বসতিপূর্ণ। জাপান বিশ্বের সর্বাধিক জনঘনত্বপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম।
জাপানে ১০৮টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আছে। বিংশ শতাব্দীতে আরও কয়েকটি নতুন আগ্নেয়গিরির উদ্ভব হয়। এর মধ্যে হোক্কাইডোয় শোওয়া-শিনজান ও প্রশান্ত মহাসাগরের বেয়ননাইস রকসের কাছে ম্যোজিন-শো উল্লেখযোগ্য। এই দেশে প্রতি শতাব্দীতেই বিধ্বংসী ভূমিকম্প এবং তার ফলে সুনামি ঘটে থাকে। ১৯২৩ সালে টোকিয়োয় ভূমিকম্পে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। উন্নত বিশ্বের মধ্যে জাপানই সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিপদসঙ্কুল দেশ।

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
বৃহত্তর টোকিও এলাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মেট্রোপলিটান এলাকা

জাপানের আবহাওয়া প্রধানত নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে জলবায়ুর মধ্যে বিরাট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। জাপানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলো ছয়টি প্রধান জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে বিভাজিত হয়েছে। এগুলি হলো: হোক্কাইডো, জাপান সাগর, কেন্দ্রীয় উচ্চভূমি, সেতো অন্তর্দেশীয় সাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যু দ্বীপপুঞ্জ। সর্ব উত্তরে অবস্থিত অঞ্চল হোক্কাইডোতে আর্দ্র মহাদেশীয় জলবায়ু দেখা যায়। এখানে শীতকাল দীর্ঘ ও শীতল এবং গ্রীষ্মকাল খুব উষ্ণ থেকে শীতল। এখানে ভারি বৃষ্টিপাত দেখা যায় না। তবে শীতকালে দ্বীপগুলো গভীর তুষারের চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে যায়।
জাপানের গড় শীতকালীন তাপমাত্রা ৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গড় গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওকিনাওয়ায় প্রধান বর্ষা ঋতু শুরু হয় মে মাসের গোড়ার দিকে। বৃষ্টি রেখা ধীরে ধীরে উত্তর দিকে সরতে সরতে জুলাই মাসের শেষ দিকে হোক্কাইডোয় এসে উপস্থিত হয়। হোনশুর অধিকাংশ অঞ্চলে বর্ষাকাল শুরু হয় জুন মাসের মাঝামাঝি সময় এবং স্থায়ী হয় ছয় সপ্তাহের জন্য। গ্রীষ্মকালের শেষ দিকে এবং শরৎকালের গোড়ার দিকে টাইফুন ঝড় প্রায়শই ভারি বৃষ্টিপাত ঘটায়।

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
রিটসুরিন গার্ডেন, জাপানের অন্যতম সবচেয়ে বিখ্যাত ভ্রমণ উদ্যান

জাপানের শিল্পক্ষমতা বৃহৎ। এই দেশে বিশ্বের কতিপয় বৃহত্তম ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অগ্রসর উৎপাদক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মোটরগাড়ি, ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও অলৌহঘটিত ধাতু, জাহাজ, রাসায়নিক দ্রব্য, বস্ত্র ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উপাদন করে থাকে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিশেষত প্রযুক্তি, যন্ত্রবিদ্যা ও বায়োমেডিক্যাল গবেষণায় জাপান একটি অগ্রণী রাষ্ট্র। এ দেশে প্রায় ৭ লাখ গবেষক ১৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার গবেষণা ও উন্নয়ন বাজেটের সুবিধা পান। এই বাজেট বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম। মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও জাপান বিশ্বে অগ্রণী একটি রাষ্ট্র। এই দেশ থেকে একুশ জন বৈজ্ঞানিক পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বা চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। জাপানের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অবদানগুলো ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, যন্ত্রবিদ্যা, ভূমিকম্প ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবোট, অপটিকস, কেমিক্যালস, সেমিকন্ডাক্টরস ও ধাতুবিদ্যার ক্ষেত্রে রয়েছে। বিশ্বে রোবোটিকস উৎপাদন ও ব্যবহারে জাপান অগ্রণী।

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ । মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
সাত ইউনিটের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি বিশ্বের একক বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

জাপানের মহাকাশ সংস্থা হলো জাপান এয়ারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা)। এখান থেকে মহাকাশ, ভিন্ন গ্রহ ও বিমান গবেষণার কাজ চলে। রকেট ও উপগ্রহ নির্মাণেও এটি অগ্রণী সংস্থা। জাপান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অংশগ্রহণকারী।
প্রায় ২৫০ কিলোমিটারব্যাপী বিস্তৃত দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন শিনকানসেন জাপানের প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করেছে। এ ছাড়া অন্যান্য রেল কোম্পানিও সময়ানুবর্তিতার জন্য সুপরিচিত।
জাপানে ১৭৩টি বিমানবন্দর রয়েছে। সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হলো হানেদা বিমানবন্দর, এটি এশিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর। জাপানের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অন্যান্য বড় বিমানবন্দরের মধ্যে রয়েছে কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শুবু সেন্ট্রেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। জাপানের সবচেয়ে বড় সমুদ্র বন্দর হল নাগোয়া বন্দর। 

SHARE

Leave a Reply