Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাঁচি

হাঁচি

ছুটির দিন। ছুটির দিনে তো সবার মনই প্রজাপতি হয়ে যায়। মন তখন ঘুরতে চায়, স্বপ্নডানায় উড়তে চায়।
ছোট চাচ্চুর সাথে তাই সাঈদও বেরিয়ে পড়েছে আজ সবুজের খোঁজে। সবুজ তার খুবই প্রিয়। ইচ্ছে হয়, ঘাসফড়িংয়ের মতো সবুজের সাথে মিশে থাকতে। হাঁটতে হাঁটতে সে তার প্রিয় একটি কবিতা আবৃত্তি করছিল-
বাংলাদেশের নাম লিখেছি মনের খাতায় / মন রেখেছি বাংলাদেশের সবুজ পাতায়।
এ সবুজও অনেক রঙের- হালকা, গাঢ় / ইচ্ছে হলেই হৃদয় খুলে দেখতে পারো।
কিন্তু কবিতা শেষ হতে না হতেই সাঈদের হাঁচি শুরু হয়ে গেল। চাচ্চু বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলো! সাঈদ অবাক হয়ে বলল, কেন? চাচ্চু বললেন, আল্লাহ হাঁচি দেয়া পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। তাই মহানবী (সা) হাঁচিদাতাকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে বলেছেন। যার অর্থ- ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য’। সাঈদ বলল, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। চাচ্চু এবার বললেন ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’। সাঈদ বলল, এটা কী বললে চাচ্চু? চাচ্চু বললেন, আমি বলেছি- ‘আল্লাহ তোমাকে দয়া করুন’। এবার তোমার দায়িত্ব হলো এ কথা বলা- ‘ইয়াহ্দিকুমুল্লাহু ওয়া-ইউস্লিহু বালাকুম’- আল্লাহ তোমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং তোমার আধ্যাত্মিক অবস্থা কল্যাণময় করুন। সাঈদ তা-ই বলল। চাচ্চু বললেন, মহানবী (সা) আমাদের এভাবেই শিখিয়েছেন। দেখো, একটি সামান্য হাঁচিও কত সুন্দর দু‘আ বিনিময়ের মাধ্যম হতে পারে!
সাঈদ বলল, আচ্ছা চাচ্চু! সবসময়ই কি হাঁচির জবাব দিতে হবে? চাচ্চু বললেন, না! হাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ না বললে জবাব দিতে হবে না। একবার দু’জন লোক মহানবী (সা) এর সামনে হাঁচি দিয়েছিল। তিনি একজনের হাঁচির জবাব দিলেন, অপরজনের দিলেন না। তখন লোকটি বলল, হে রাসুল (সা)! আপনি এ ব্যক্তির হাঁচির জবাব দিয়েছেন কিন্তু আমার হাঁচির তো জবাব দেননি। তখন তিনি বললেন, এ লোকটি আল্লাহর প্রশংসা করেছে, তুমি করোনি। (বুখারি ও মুসলিম)
চাচ্চু বললেন, মহানবী (সা) যখন হাঁচি দিতেন, তখন হাত অথবা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলতেন এবং হাঁচির শব্দ সংযত রাখতেন। (তিরমিজি)। কারণ, নাক-মুখের সর্দি ও কফ অন্যের কষ্টের কারণ হতে পারে।
হাঁচির আওয়াজে অন্য কেউ বিরক্ত হতে পারে।
সাঈদ বলল, মহানবী (সা) এত চমৎকার কিছু শিখিয়েছেন আমাদের! এখন থেকে আমিও তা আমল করব- ইনশাআল্লাহ।

বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply