Home নিবন্ধ শিশুদের সুরক্ষার উপায় । মাহবুবুর রহমান

শিশুদের সুরক্ষার উপায় । মাহবুবুর রহমান

শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। আজকে যারা শিশু কালকে তারা বাবা, মা। এক কথায় দায়িত্বশীল। শিশুদের আমি যদি কাদামাটির সাথে তুলনা করি তারা তাই। যেমন কাদামাটি দিয়ে যা ইচ্ছে তাই করা যায়। কিন্তু মাটি শক্ত হয়ে গেলে যা ইচ্ছে তা করা সম্ভব নয়।
প্রত্যেক মানুষের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো তার পরিবার। এখানে বড়রা হলেন তার শিক্ষক। মা হলেন প্রধান শিক্ষক, বাবা সহকারী প্রধান শিক্ষক। বাকিরা সহকারী শিক্ষক। তারা শিশুকে যেভাবে শিক্ষা দেবে শিশু সেভাবে গড়ে উঠবে। মূল কথা হলো পরিবারে তাকে যা শিক্ষা দেয়া হবে সে সেই রকম গড়ে উঠবে। এ জন্য প্রত্যেক পরিবারের উচিত শিশুকে সর্বপ্রথম নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা।

প্রথমত, আচার-আচরণ। তাকে আপনি বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ করতে শেখান। কারো সাথে দেখা হওয়ার সাথে সাথে সালামের প্রচলন করুন। সকল কাজ শুরুর আগে বিসমিল্লাহ বলতে শেখান। ডান বাম হাতের ব্যবহার শেখান। দাদা-দাদীর সাথে কেমন আচরণ করবে, সেটা শেখান। তারা বৃদ্ধ অবস্থায় শিশুসুলভ আচরণ চান। এ জন্য প্রয়োজন তাদের সাথে বেশি বেশি ছোটদের মিশতে দেওয়া। এতে যেমন তারা আনন্দ পান, তার চেয়ে বেশি আনন্দ পায় শিশুরা। তা ছাড়া উনাদের কাছ থেকে পরিবারের আদর্শিক শিক্ষাটাও হাতে কলমে পেয়ে যায়। এ সম্পর্কটা অনেক পরিবারে হতে দেয় না। এটা মোটেই উচিত নয়। কারণ, এতে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

দ্বিতীয়ত, পোশাক পরিচ্ছদ। ছোট থেকে শালীনতাপূর্ণ পোশাকের প্রতি নজর দিন। মেয়ে শিশুদের ছয় বছর বয়স থেকে স্যালোয়ার-কামিজ পরান। শিশু ছেলেদের ক্ষেত্রেও শরিয়তসম্মত পোশাকের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে আঁটসাঁট পোশাক যাতে না হয়।
শিশুকালে এগুলো পরলে সমস্যা নেই, তা কিন্তু মোটেই ঠিক নয়। কারণ, সে শিশুকাল থেকেই যে বিষয়ের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যায়, সেটা কিন্তু সহজে ছাড়তে চাইবে না। অনেক ক্ষেত্রে ছাড়ে না। তাই অভিভাবকদের উচিত শরিয়তসম্মত রুচিশীল পোশাকের প্রতি ছোট থেকেই নজর দেওয়া।

তৃতীয়ত, মেয়েরা কার সাথে দেখা করতে পারবে কার সাথে পারবে না। এ বিষয়ে শিশুকাল থেকে জ্ঞান দেওয়া জরুরি। কারণ, সে যদি ছোট থেকেই যাদের সাথে পর্দা করা ফরজ জেনে থাকে বা মেনে চলে পরবর্তীতে তার জন্য পর্দা মেনে চলা সহজতর হয়। আমাদের সমাজের শিশুরা সবচেয়ে নিগ্রহের শিকার হয় নিকট আত্মীয় দ্বারা। বিশেষ করে চাচাত, মামাত, খালাত, ফুপাতো ভাই, গৃহশিক্ষক, প্রতিবেশী চাচা সম্পর্কীয় আত্মীয় দ্বারা। তাই অভিভাবকদের উচিত মেয়ে শিশুদের শিশুকাল থেকেই মহরমা ছাড়া কারো কোলে অথবা সংস্পর্শে না দেয়া। বিশেষ করে শহরে চাকরিজীবী মায়েদের অনেকগুলো বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার। যেমন- শিশুদের কার কাছে রেখে যাচ্ছি, যার কাছে রেখে যাচ্ছি সে কেমন লোক, সে টিভিতে কোন ধরনের সিরিয়াল দেখে, টিভি দেখার সময় শিশুদের দিকে খেয়াল রেখে টিভি দেখা, বাসায় নিকট আত্মীয় এলে মহরমা নয় এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে যেতে না দেওয়া, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করতে না দেওয়া ইত্যাদি।
আমরা বাচ্চাদের অতি আদর করে অ্যান্ড্রয়েড সেট দিয়ে গেম খেলতে দিই। গেমের মাঝখানেও অশ্লীল ছবি আসে। শিশু এর দ্বারা প্রভাবিত হয়, অভিভাবকের উচিত এ ধরনের আদর থেকে বিরত থাকা।
সর্বোপরি শিশুকাল থেকেই শিশুদের পরিপূর্ণ ইসলামী জীবন বিধান স¤পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান প্রদান করা। তাহলেই শিশুরা যেমন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাবে, সমাজও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা পাবে। তাই আমরা যারা অভিভাবক আছি আমাদের উচিত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল জীবন মেনে চলা। তদপুরি পরিবারে প্র্যাকটিস করা যাতে শিশুদের ওপর আপনা আপনি প্রভাব পড়ে।
তাই আসুন আমরা একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। তার আগে নিজেকে সুন্দর করি। পৃথিবীর শান্তি শৃঙ্খলাও সুন্দরকে মেনে চলার মধ্যেই।

SHARE

Leave a Reply