Home চিত্র-বিচিত্র ছদ্মবেশী প্রাণী পিনাট হেড বাগ । রিয়াজুল ইসলাম

ছদ্মবেশী প্রাণী পিনাট হেড বাগ । রিয়াজুল ইসলাম

ছদ্মবেশী প্রাণী পিনাট হেড বাগ । রিয়াজুল ইসলামকত প্রকার কীট যে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ায় তার সঠিক হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। তবে অদ্ভুত কীটগুলোর মধ্যে পিনাট হেডবাগের কথা আলাদা করেই বলতে হয়।
খোসা ছাড়ানো চীনাবাদামের মতো মাথার কারণেই এদের নাম হয়েছে পিনাট হেড বাগ। বাদাম আকৃতির এ মাথার বৈশিষ্ট্য হলো এটি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। এদের কয়েকটি প্রজাতি দক্ষিণ আমেরিকায় দেখা যায়। এ ছাড়া মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকাতেও এই প্রজাতিগুলি বাস করে।
পিনাট হাট বাগের দেহের দৈর্ঘ্য ৮৫-৯০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের ডানার দৈর্ঘ্য ১০০-১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়। এই পোকাটির মাথায় চিনাবাদামের মত যে অঙ্গটি আছে সেটা ১০-১৫ মিলিমিটার হয়ে থাকে।
ছদ্মবেশী প্রাণী পিনাট হেড বাগ । রিয়াজুল ইসলামপিনাট হেড বাগ এতটাই নিরীহ প্রাণী যে অন্য প্রাণীদের আক্রমণ বা কামড়াতে পারে না। খাবার হিসেবে মুখ দিয়ে গাছের পুষ্টিকর রস চুষে খেয়ে জীবনধারণ করে। অদ্ভুত পিনাট হেড বাগ পোকাটির মাথা থেকে কন্দযুক্ত স্ফীত যে চিনাবাদাম বের হয়েছে সেটি সবার চোখে পড়ার মতো। এই বাদামটি কিভাবে মাথায় গজালো তার ব্যাখ্যা অনিশ্চিত, যদিও বিজ্ঞানীদের মতে এটি একটি টিকটিকির মাথার মতো।
এ অদ্ভুত অঙ্গটি ছাড়া শিকারিকে এরা নিরস্ত্র করতে পারে না অর্থাৎ এ জাতীয় পোকা মুখের সামনের বাদাম ছাড়া অসহায়। যদিও তাদের পাখার মধ্যে পেঁচার চোখের মতো যে দাগ রয়েছে তাও প্রতিরক্ষার কাজ করে।
শিকারিকে ধাঁধায় ফেলতে এদের জুড়ি নেই। মাথার সামনের ওই বাদামটুকু দেখে হঠাৎ ভাবাই যায় না এটি আসলে একটি জীবিত কীট। নড়নচড়ন বন্ধ রেখে শিকারিকে বোকা বানিয়ে দিতে পিনাট হেড বাগের তুলনা নেই।
ছদ্মবেশী প্রাণী পিনাট হেড বাগ । রিয়াজুল ইসলামগাছের বাকলের সঙ্গে গা মিলিয়ে থাকতে পারে এরা। এদের গায়ের রং আর স্থির বৈশিষ্ট্য ছদ্মবেশ ধরতেও বেশ কার্যকরী। অনেকেই ভুল করে এটাকে গাছের মরা বাকল ভেবে থাকে, যেটা পিনাট হেড বাগের সবচেয়ে মজার বিষয়। গায়ের রঙ আর ছদ্মবেশ ধরতেও এরা ওস্তাদ।
যখন শিকারির চোখে এই ছদ্মবেশী প্রাণীটির সব চালাকি ধরা পড়ে যায় তখন সে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নিজেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
নিরীহ প্রাণী হয়েও এভাবে কৌশল অবলম্বন করে বেঁচে যায় ছদ্মবেশী প্রাণী পিনাট হেড বাগ।

SHARE

Leave a Reply