Home বিজ্ঞান ও বিশ্ব তুষারপাত । আল জাবির

তুষারপাত । আল জাবির

তুষারপাত । আল জাবিরআমাদের দেশ একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশ। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় হওয়ায় বাংলাদেশে কখনও তুষারপাত হয় না। তবে শীতমণ্ডলীয় দেশে শীতে তুষারপাত হওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। যেসব দেশ পৃথিবীর দুই মেরুতে অবস্থিত সেগুলোতে বছরের অর্ধেক সময় তুষারপাত হয় যখন তুষার পড়ে না তখনও সে জায়গাগুলো বরফে আবৃত থাকে। একই অবস্থা বড় উঁচু পর্বতমালাগুলোতে হয়। এগুলো এভাবে তুষার আবৃত থাকে মনে হয় যেন এই পর্বতগুলোর রঙই সাদা। শীতের দেশে তুষার পড়লেও আমাদের দেশে পড়ে না তার কারণ তাপমাত্রা। অন্যান্য দেশে তাপমাত্রা অনেক নিচের দিকে চলে যায় বলেই ঐ দেশগুলোতে তুষার পড়ে। কারণ তুষার এবং বৃষ্টি তৈরির পদ্ধতি একই। শুধুমাত্র তাপমাত্রার কারণে সেখানে তুষার পড়ে আর আমাদের বৃষ্টি।
আমরা বিজ্ঞান বইয়ে পানিচক্র সম্পর্কে পড়েছি। পানি চক্রটা হলো অনেকটা এ রকম, সূর্যের তাপে যত রকমের জলাশয়ের পানি বা পানির উৎস আছে তা থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়। এরপর সেই বা®প বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকে উঠে যায়। বাষ্পের সঙ্গে অনেক ধূলিকণাও থাকে, এই ধূলিকণাগুলোকে আশ্রয় করে বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকে ঠাণ্ডা হওয়া বাষ্পরা মেঘ তৈরি করে এই মেঘ ঠাণ্ডা এবং ঘনীভূত হয়। এরপর উপযুক্ত পরিবেশ পেলে একদিন মাটিতে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে।
তুষারপাত । আল জাবিরতুষারের ক্ষেত্রেও এটাই হয় শুধু পার্থক্য হচ্ছে জলীয়বাষ্প যে পরিবেশে গিয়ে জমাট বাঁধে তার থেকে তুষারের জমাট বাঁধার পরিবেশ অনেক বেশি শীতল হয়। এ ক্ষেত্রে আগে ধূলিকণাটিই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় বরফ হয়ে যায়। তারপর সেই বরফের গায়ে জলীয়বাষ্পের অণু যুক্ত হয়। সেই অণু বরফে রূপান্তরিত হয়।
এভাবে শীতের দেশে জলীয়বাষ্প পানি না হয়ে সোজা বরফ হয়ে যায়। বরফ হতে গিয়ে বরফকুচি দারুণ কিছু আকার নেয় যেটাকে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন স্নোফ্লেক্স।
এবার আমাদের মাথায় চিন্তা আসতে পারে যে আমাদের দেশে যে শীলাবৃষ্টি হয় সেটা তুষার হয় না কেন! আসলে শীলাও বরফ হয় তবে এই ক্ষেত্রে বাষ্প ধূলিকণার ওপর ভর করে শুরুতেই বরফ হয় না, আগে পানি হয়। এরপর এই পানি মেঘের মধ্যে ঠাণ্ডা হয়ে বরফ হয়। তাই শিলাবৃষ্টিতে আস্ত বরফ পড়ে যেগুলোর নির্দিষ্ট কোনো আকার বা আকৃতি নেই।
এখন বলি বরফকুচির সুন্দর আকৃতি নিয়ে। বরফকুচি বা স্নোফ্লেক্সের আকৃতি খুবই সুন্দর হয়। অধিকাংশই ষড়ভুজ বা হেক্সাগন আকৃতির হয় এবং খুবই সুন্দর একটা নকশা তৈরি করে। বলতে পারো এটা প্রকৃতির একটা শিল্পকর্ম। এরকম কিছু বরফকুচি নিয়ে বরফের ধুলোর মতো তৈরি হয়। বরফগুলো অনেকটা আমাদের বৃষ্টির মতোই তবে খুব হালকা আর নরম।
তুষারপাত । আল জাবিরস্নোফ্লেক্সের আকার কেমন হবে তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, কোনো একটা স্নোফ্লেক্স অন্যটার মতো দেখতে নয়। এর কারণ মূলত প্রতিটি স্নোফ্লেক্সের পতনের পথ আলাদা হয়। তাদের অণুর পরিমাণও আলাদা থাকে, তা ছাড়া তাপমাত্রারও তারতম্য হয়। ফলে প্রতিবারই নতুন এবং অনন্য সুন্দর একটা স্নোফ্লেক্স পাওয়া যায়।
তুষার যেমন পৃথিবীর উপরিভাগে পড়ে তেমনি সমুদ্র তলদেশেও তুষারপাত হয়। বেশ অবাক লাগছে তাই না!
আবহাওয়া এবং জলবায়ুর ওপর মহাসাগরীয় স্রোতের শক্তিপ্রবাহ ক্ষমতার বেশ প্রভাব রয়েছে। এই বিষয়টি ছাড়াও সাগরের প্রাণিকুল ও জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে থাকে। বিশেষ করে অতি ক্ষুদ্র প্লাঙ্কটনিক জীব সাগরের পৃষ্ঠভাগ হতে কার্বন আহরণ করে, প্রক্রিয়াজাত করে, দেহ গঠন করে এবং বর্জ্য পদার্থ নির্গমন করে। নির্গমনকৃত বর্জ্যপদার্থ এবং মৃত জীবাংশ ধীরে ধীরে সমুদ্র তলদেশে জমা হয়। জৈবপদার্থের গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়াকেই বিজ্ঞানীরা বলছেন সামুদ্রিক তুষারপাত!
সমুদ্রপৃষ্ঠদেশে যেখানে জৈবিক উপাদান বেশি, সেখানে তুষারপাত সবচেয়ে বেশি। যদিও জৈবকণাগুলো কিভাবে সমুদ্রগভীরে বিস্তৃত এবং কোন প্রক্রিয়া বিস্তারে ভূমিকা পালন করে তা সঠিক জানা যায় না।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গবেষকদল সমুদ্র অভিযান থেকে নানা রকম তথ্য সংগ্রহ করেন।
তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয় “Under Water Vision Profiler (UVP)” নামক সেন্সর দিয়ে। UVP হচ্ছে এমন একটি বিশেষ ধরনের ক্যামেরা যা কিনা সমুদ্রের ৬০০০ মিটার গভীরে যেতে সক্ষম এবং সেকেন্ডে ১০টির বেশি ছবি তুলতে পারে এবং ক্ষুদ্র প্লাঙ্কটন শনাক্ত করতে পারে।
তুষারপাত । আল জাবিরডক্টর কিকো বলেন, এতদিন পর্যন্ত মনে করা হতো সমুদ্রপৃষ্ঠদেশে কণার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং তা গভীরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে। কিন্তু সংগৃহীত ডাটা বলছে, ৩০০ থেকে ৬০০ মিটার গভীরে কণাগুলোর ঘনত্ব বেড়ে যায়। গবেষকদল বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন প্লাঙ্কটনগুলোর স্থান পরিবর্তনশীল আচরণ দিয়ে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে প্লাঙ্কটনগুলো নির্দিষ্ট গভীরতায় ফিরে যায়।
মাইক্রোস্কোপিক কণাগুলো ৫০০০ মিটারের বেশি গভীরতায় ধীরে ধীরে জমা হয় যা একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা।
বিজ্ঞানীরা আমাদের “বায়োলজিক্যাল কার্বন পাম্পে” ভৌত ও জৈবিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব দেখাতে সক্ষম হয়েছেন।
আমাদের কাছে তুষারপাত আকর্ষণীয় মনে হলেও বিদেশীদের কাছে তা ভিন্ন রূপ।
তুষার দেখতে যতই সুন্দর হোক, শীতের দেশগুলোতে বরফে জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে যায়। তখন তারা অপেক্ষা করে কবে বসন্ত আসবে।

SHARE

Leave a Reply