Home ফিচার পবিত্র হাজরে আসওয়াদ । আহসান হাবিব বুলবুল

পবিত্র হাজরে আসওয়াদ । আহসান হাবিব বুলবুল

পবিত্র হাজরে আসওয়াদ । আহসান হাবিব বুলবুলপবিত্র ‘হাজরে আসাওয়াদ’ এর নাম তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ। হাজরে আসওয়াদ হলো, পবিত্র কাবাঘরের গায়ে এঁটে দেয়া একটি পাথর। হাজীগণ হজ করতে গিয়ে তাতে সরাসরি বা ইশারা করে চুমু দিয়ে থাকেন। পবিত্র কাবা নিজ বুকে এই মহান বস্তুকে ধারণ করে আছে।
হাজরে আসওয়াদ নিয়ে আমাদের প্রিয় নবী (সা)-এর জীবনে একটি জ্ঞানগর্ভ ঘটনা রয়েছে। সে গল্প না হয় একটু পরে করি।
পবিত্র কুরআনের তাফসির, হাদিস এবং ইতিহাসের গ্রন্থ থেকে জানা যায়, হজরত ইবরাহিম (আ.) পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ করেন এবং তাঁকে সহযোগিতা করেন তারই প্রিয় সন্তান ইসমাইল (আ.)। আমরা একটু পবিত্র কুরআন থেকে শুনি : “স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন আর বলেছিলেন, হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের পক্ষ হতে উহা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞাতা।” (সূরা আল বাকারা : ১২৭)
যখন গৃহনির্মাণ কাজে কিছুটা অগ্রগতি হলো, তখন ইসমাইল (আ.) পিতা ইবরাহিম (আ.) এর পায়ের নিচে একটি পাথর রেখে দিলেন। যার ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নির্মাণকাজ করতেন। আর ইসমাইল (আ.) কাবার বিভিন্ন কোণে অসমাপ্ত কাজ পূর্ণ করতেন। অবশেষে নির্মাণকাজ বর্তমান ‘হাজরে আসওয়াদ’ এর স্থান পর্যন্ত এলে ইবরাহিম (আ.) ইসমাইল (আ.)কে লক্ষ করে বললেন, আমি একটি পাথরের টুকরো চাই যা আমি এই স্থানটিতে রাখবো। লোকেরা দেখে বুঝবে যে, তাওয়াফ এই স্থানটি থেকে শুরু হবে। পিতার নির্দেশে ইসমাইল (আ.) পাথর খুঁজতে বের হলেন। পাথর হাতে ফিরে আসার আগেই জিবরাইল (আ.) ‘হাজরে আসওয়াদ’ নিয়ে উপস্থিত হন। আল্লাহতায়ালা নূহ (আ.)-এর প্লাবনের সময় পাথরটিকে মক্কায় অবস্থিত ‘আবু কুবাইস’ পাহাড়ে সংরক্ষণ করেন এবং ঘোষণা দেন, আমার বন্ধু ইবরাহিমকে যখন আমার ঘর নির্মাণ করতে দেখবে, তখন তাঁর কাছে পাথরটি পৌঁছে দিবে।
তারপর ইসমাইল (আ.) ফিরে এসে পিতাকে লক্ষ্য করে বললেন, এ পাথর আপনি কোথা থেকে পেলেন? ইবরাহিম (আ.) উত্তরে বললেন, একজন সম্মানিত ব্যক্তি পাথরটি আমার কাছে নিয়ে এসেছেন, আর তিনি হলেন জিবরাইল (আ.)। এরপর হাজরে আসওয়াদকে তার স্বীয় জায়গায় প্রতিস্থাপন করা হলো। ইবরাহিম (আ.) তার চার পাশ পাকা করে দিলেন। পাথরটি তখন থেকেই তার অত্যধিক শুভ্রতা দিয়ে চারপাশকে ঝলমল করে রাখতো। যেন তার জ্যোতি পূর্ব-পশ্চিম, ডানে-বামে ঠিকরে পড়ছে।
আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা) বলেছেন, ‘হাজরে আসওয়াদ’ বেহেশতের একটি পাথর। তার রঙ দুধের চেয়ে বেশি সাদা ছিল। এরপর বনি আদমের (মানুষের) পাপরাশি তাকে কালো বানিয়ে দিয়েছে। (তিরমিযী : ৮৭৭)
রাসূল (সা) এর বয়স তখন পঁয়ত্রিশ। এ সময় মক্কার কুরাইশরা পবিত্র কাবাঘরের পুনর্নির্মাণ কাজে হাত দেয়। কাজের প্রয়োজনে হাজরে আসওয়াদকে অন্যত্র সরাতে হলো। সংস্কারকাজ শেষ হলো। এখন হাজরে আসওয়াদকে তার স্বস্থানে রাখার পালা। মক্কার সব গোত্র দল পৃথক পৃথকভাবে দাবি করে বসলো যে, তারাই হাজরে আসওয়াদকে স্বস্থানে প্রতিস্থাপনের পবিত্র কাজটি করবে। এ নিয়ে বিবাদ-দ্বন্দ্ব বেধে গেল। কেউ ছাড় দিতে রাজি না। শেষে ঠিক হলো, আগামীকাল খুব ভোরে যে প্রথম কাবাঘরে প্রবেশ করবে সেই এই সমস্যার সমাধান দিবে।
রাত কেটে ভোর হলো। দেখা গেল, যিনি প্রথম কাবাঘরে প্রবেশ করলেন তিনি হলেন, মরুর দুলাল সবার প্রিয়পাত্র আল আমিন হজরত মুহাম্মদ (সা)। সবাই এসে জড়ো হলো। দেখা যাক, মুহাম্মদ (সা) কী সমাধান দেন। আল্লাহর রাসূল একটি গিলাফ (চাদর) বিছিয়ে দিলেন। হাজরে আসওয়াদকে নিজ হাতে চাদরের মাঝখানে এনে রাখলেন। এরপর সব গোত্রের নেতাদের (দলপতি) চাদরের চারকোনা ও পার্শ্ব ধরে হাজরে আসওয়াদকে স্বস্থানে প্রতিস্থাপন করতে বললেন। এই সমাধানে সবাই খুশি হলো এবং পবিত্র এই পাথরটিকে স্বস্থানে রাখা হলো। এই ছিল নবী (সা) জীবনের চমৎকার গল্পটি। তোমরা বড় হলে এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে।

SHARE

Leave a Reply