Home কুরআন ও হাদিসের আলো দানের সৌন্দর্য

দানের সৌন্দর্য

জুমার দিন। আলিফদের ঘরে যেন ঈদের উৎসব! আলিফ সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছে, জুমার দিনে এক মধুর পরিবেশ তৈরি হয় তাদের ঘরে। আব্বু সকাল থেকেই প্রস্তুতি নেন মসজিদে যাওয়ার। সুন্দর জামা-কাপড় পরেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। আর সবার হাতে হাতে ছড়িয়ে দেন আতরের সৌরভ!

প্রতি জুমার মতো, আলিফ আজও আব্বুর সাথে মসজিদে যাবে। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে সে বলল, আব্বু! আজ একজন গরিব মানুষকে আমি দান করবো। কী দান করবে?- খুশি হয়ে জানতে চাইলেন আব্বু। পকেট থেকে বিশ টাকার একটি নোট বের করে দেখালো আলিফ। আব্বু দেখে বললেন, এটা তো অনেক পুরনো এবং ছেঁড়া। আলিফ বললো, আমি তো অনেককেই দেখেছি, ছেঁড়া টাকা দান করে দিতে। আব্বু বললেন, এ কাজ কখনোই উচিত নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কিছুতেই কল্যাণ লাভ করবে না।’ (সূরা আলে ইমরান : ৯২) এবার একটি গল্প শোনো-

আবু তালহা (রা)। তিনি ছিলেন মদিনার আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেজুর বাগানের মালিক। আর তার সবচেয়ে প্রিয় খেজুর বাগানটির নাম ছিল ‘বায়রুহা’। এ বাগানটি ছিল মসজিদে নববীর সামনেই। মহানবী (সা) তার বাগানে যেতেন এবং এর সুপেয় পানি পান করতেন। ওপরের আয়াত নাজিল হওয়ার পর তিনি মহানবীর (সা) কাছে গিয়ে বললেন, ‘বায়রুহা’ বাগানটি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আমি তা আল্লাহর নামে দান করে দিলাম। আমি এ থেকে কল্যাণ পেতে চাই এবং তা আমার জন্য আল্লাহর কাছে জমা থাকবে। এবার আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে বাগানটি দিয়ে দিন! মহানবী (সা) বললেন, তোমাকে ধন্যবাদ! এ তো লাভজনক সম্পদ! এ তো লাভজনক সম্পদ! তুমি তোমার আপনজনদের মধ্যে তা ভাগ করে দাও। এরপর তিনি তার আত্মীয়স্বজন ও চাচার বংশধরদের মধ্যে তা ভাগ করে দিলেন। (বুখারি ও মুসলিম)

আলিফ মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো গল্পের প্রতিটি শব্দ। আর ভাবছিলো, সে তার কোন্ প্রিয় জিনিস দান করবে। এবার সে তার বইয়ের ভাঁজ থেকে বের করলো অনেকগুলো চকচকে নতুন টাকা! যেগুলো সে ঈদের সময় উপহার পেয়েছিলো মামার কাছ থেকে। আর বলল, আব্বু! এগুলোই আজ দান করে দেবো। আল্লাহ কি খুশি হবেন না তাহলে?
আব্বু আলিফকে বুকে জড়িয়ে বললেন, অবশ্যই আল্লাহ খুশি হবেন। আর তোমাকে তিনি ভিজিয়ে দেবেন রহমের বৃষ্টিতে। ইনশাআল্লাহ।
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply