Home বিজ্ঞান ও বিশ্ব মাটির নিচে আজব গ্রাম । আল জাবির

মাটির নিচে আজব গ্রাম । আল জাবির

নিত্যনতুন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, অত্যাধুনিক স্থাপনার কারণে চীনের অনেক শহর গোটা বিশ্বে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। তবে চীনে এমন একটি রহস্যময় প্রাচীন গ্রামও আছে যেটা তার বিচিত্র স্থাপনার জন্যও বিখ্যাত হয়ে আছে।
চীনের হেনান প্রদেশের সানমেনশিয়ায় রয়েছে অদ্ভুত এই গ্রামটি। আমরা জানি মাটির ওপরে ঘর-বাড়ি হয় অথচ চীনে এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে বাড়িগুলো তৈরি করা হয় মাটির নিচে। প্রায় চার হাজার বছর আগে গড়ে ওঠা গ্রামটি মাটির নিচের গ্রাম বলেও পরিচিত। গ্রামটির অবস্থান মাটির ২২ থেকে ২৩ ফুট গভীরে।
ওপর থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, মাটি থেকে প্রায় ২৩ ফুট গভীরে বসবাস করছে একটি গ্রাম! পুরো গ্রামটাই গড়ে উঠেছে মাটির নিচে। এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির স্থাপত্য পরিকল্পনা এক কথায় অসাধারণ।
প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে মাটির নিচেই বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন কয়েক হাজার মানুষ। সানমেনশিয়া এলাকায় এমন অন্তত ১০ হাজার ঘরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশির ভাগই বর্তমানে পরিত্যক্ত। মাটির নিচে তৈরি এই ঘরগুলিকে চীনা ভাষায় বলা হয় ইয়ায়োডং, যার অর্থ হলো গুহাঘর।
ঘরগুলোতে তাপমাত্রা শীতকালে ১০ ডিগ্রির কম হয় না আর গ্রীষ্মে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে না। তবে আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাবে এবং প্রতিকূল জীবনযাত্রার চাপে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান। এই ঘরগুলো লম্বায় ৩৩ থেকে ৩৯ ফুট পর্যন্ত হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, হেনান প্রদেশের সানমেনশিয়ায় ইয়ায়োডং-য়ে বসবাসের ইতিহাস ২শ বছরের বেশি প্রাচীন নয়। তবে চীনের পার্বত্য এলাকায় আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে, ব্রোঞ্জ যুগে এ ধরনের গুহা ঘর তৈরি করে বসবাস করতেন একদল মানুষ।
তবে গ্রামটি মাটির নিচে হলেও বর্তমানে এখানে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১০ হাজার বাড়ি রয়েছে।
জানা গেছে গ্রামটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে এটা ভূমিকম্প ও বাইরে থেকে আসা শব্দদূষণ প্রতিরোধ করতে পারে। এই গ্রামে সব শ্রেণীর মানুষই বসবাস করে। গ্রামের কিছু অধিবাসী ধনী হওয়ায় তাদের বাড়িগুলো আধুনিক সজ্জায় সজ্জিত করা আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামটির নকশা একই সঙ্গে নান্দনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত। এই গ্রামের বাড়িগুলোতে যে দেয়াল আছে সেসব এতটাই পুরু যে বন্যাও সহ্য করতে পারে। মাটির নিচের এই বাড়িগুলো গ্রামটিকে অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করে।
গ্রামটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝে ২০১১ সাল থেকে এটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন।
বর্তমানে মাটির নিচের এই ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগসহ সব রকম আধুনিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটকদের থাকার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
আশ্চর্য এই ঘরগুলোর আকর্ষণে এই এলাকায় বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। পর্যটকদের জন্য এখন ইয়ায়োডং ভাড়া দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এক মাসের জন্য ভাড়ায় এই ইয়ায়োডং-এ থাকতে চাইলে গুনতে হবে ২১ ইউরো। পছন্দ হয়ে গেলে কিনেও নিতে পারেন এ রকম একটি গুহাঘর। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই ইয়ায়োডং-এর দাম ৩২ হাজার ইউরো।

SHARE

Leave a Reply