Home প্রবন্ধ আল মাহমুদের “কিশোর কবিতা” স্বপ্ন ও সংগ্রামের ঠিকানা । ড. ফজলুল...

আল মাহমুদের “কিশোর কবিতা” স্বপ্ন ও সংগ্রামের ঠিকানা । ড. ফজলুল হক তুহিন

আল মাহমুদের "কিশোর কবিতা" স্বপ্ন ও সংগ্রামের ঠিকানা । ড. ফজলুল হক তুহিনআম্মা বলেন, পড়রে সোনা
আব্বা বলেন, মন দে;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে করে
নদীর ধারে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
(পাখির মতো)
বাংলাদেশের কবি আল মাহমুদ। আর আল মাহমুদ মানেই আমরা জানি বাংলাদেশের প্রতিধ্বনি ও প্রতিচ্ছবি। জীবনানন্দ দাশ ও জসীমউদ্দীনের পর ‘বাংলার কবি’ হিসেবে সবচেয়ে শক্তিমান, পাঠকপ্রিয় ও প্রভাবশালী তিনি। অমর কীর্তি ‘সোনালি কাবিন’ ছেড়ে বরেণ্য কবি উড়াল দিয়েছেন ইহলোকের মায়াবী পর্দার ওপারে। আক্ষরিক অর্থেই বঙ্গজননীর ‘সোনার নোলক’ হারিয়ে গেছে। লোক থেকে লোকান্তরে পৌঁছেছেন বাংলা সাহিত্যের একজন প্রাণপুরুষ, শক্তিমান, মৌলিক ও প্রতিনিধিত্বশীল সাহিত্যিক। বাংলা ভাষাভাষী সমস্ত মানুষ আজাবধি শোকাহত, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারিয়ে।
আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেলো শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে
নদীর কাছে গিয়েছিলাম- আছে তোমার কাছে?
‘হাত দিও না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে’।
আল মাহমুদ বিশ্বসাহিত্যে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। তৃতীয় বিশ্বের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বশেষ একজন বড় কবির নাম। হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যে একটি অনিবার্য অধ্যায়। বাংলা কবিতায় বড় ধরনের স্পষ্ট বাঁক। তাঁর মহাপ্রস্থানে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণে হয়তো আরো একটি শতাব্দী অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। ব্যক্তি ও মানুষ আল মাহমুদের বিদায় হলেও সাহিত্যিক আল মাহমুদ বিশ্বসাহিত্যে চিরঞ্জীব নক্ষত্র হয়ে থাকবেন। বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বশীল কবি হিসেবে তাঁর সৃষ্টি কালে ও কালান্তরে দীপ্তি ও সৌরভ ছড়াতে থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
আল মাহমুদের নানা ধরনের কবিতার মাঝে অন্যতম কিশোর কবিতা। কিশোর কবিতায় তিনি ধারণ করেছেন শিশু-কিশোরের স্বপ্নময় জগৎ, স্বদেশের চিত্রময় প্রকৃতি, সংগ্রামী মানুষ, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, মুক্তি সংগ্রাম এবং দেশের চলমান জীবন। কবি দেশের জন্য বারবার জ¦লে উঠেছেন আপন আলোয় বিবেকের টানে। তাই ভাষা আন্দোলনে কবি নিজে অংশ নিয়ে লিখেন অসামান্য কবিতা। মাতৃভাষা আন্দোলনে উজ্জীবিত আল মাহমুদের কবিতা জনগণকে জাগাতে শক্তি হয়ে কাজ করেছে।
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুরবেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়
বরকতেরই রক্ত।
হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে, এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে!
প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।
(একুশের কবিতা)
ভাষা-আন্দোলন আমাদের প্রবহমান সংগ্রামের এক উজ্জ্বল আলোক স্তম্ভ, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়- এই সত্যকে কবি ইতিহাসের আলোয় স্থাপন এবং তিতুমীর, ক্ষুদিরাম ও প্রীতিলতা- এই তিন আত্মত্যাগী ব্যক্তিত্বের অবদানের পাশে ভাষাশহীদের অবস্থান নির্ণয় করেন। সঙ্গে সঙ্গে কবি ‘বঙ্গে’ জন্মগ্রহণ করে বঙ্গের হাজার বছরের প্রচলিত ভাষা বঙ্গভাষা বা বাংলাভাষায় স্বতঃসিদ্ধ অধিকার জন্মেছে, এই সত্যও প্রকাশ করেন। সে জন্যে কবি ভাষাশহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চান ‘প্রভাত ফেরী’তে গিয়ে।
অন্যদিকে সমগ্র দেশব্যাপী গণজোয়ারের তরঙ্গ এসে পড়ে কবিতায়। এ সময়ের কাব্যে উদ্দীপ্ত জনসাধারণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম উত্তাপ ছড়ায়। আল মাহমুদের কবিতায় সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের ঢেউ আন্দোলিত। এই মুক্তি সংগ্রামে শহীদের ভূমিকা ও অবদানকে স্মরণ করে সামনের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রেরণা তাঁর ‘ঊনসত্তরের ছড়া-১’ ও ‘ঊনসত্তরের ছড়া-২’-এ প্রকাশিত।
ট্রাক! ট্রাক! ট্রাক!
শুয়োর মুখো ট্রাক আসবে
দুয়োর বেঁধে রাখ।
কেন বাঁধবো দোর জানালা
তুলবো কেন খিল?
আসাদ গেছে মিছিল নিয়ে
ফিরবে সে মিছিল।
ট্রাক! ট্রাক! ট্রাক!
ট্রাকের মুখে আগুন দিতে
মতিয়ুরকে ডাক।
কোথায় পাবো মতিয়ুরকে
ঘুমিয়ে আছে সে
তোরাই তবে সোনামাণিক
আগুন জ্বেলে দে।
(ঊনসত্তরের ছড়া-১)

কারফিউ রে কারফিউ,
আগল খোলে কে?
সোনার বরণ ছেলেরা দেখ্
মিছিল তুলেছে।
লাল মোরগের পাখার ঝাপট
লাগলো খোঁয়াড়ে
উটকোমুখো সান্ত্রী বেটা
হাঁটছে দুয়ারে।
খড়খড়িটা ফাঁক করে কে
বিড়াল-ডাকে ‘মিউ’
খোকন সোনার ভেংচি খেয়ে
পালালো কারফিউ।
(ঊনসত্তরের ছড়া-২)
স্বদেশের মুক্তি আন্দোলন ও সংগ্রামে কবির কলম জেগে উঠেছে এভাবেই। আগ্রাসী ট্রাকরূপ স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে কবি সব সময় সোচ্চার হয়েছেন গণমানুষের মুক্তির আকাক্সক্ষায়। আল মাহমুদের দৃষ্টিভঙ্গিতে সবসময় এই মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের কথা উচ্চারিত হয়েছে। ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ ছড়াগুচ্ছের মাঝে তিনি স্পষ্টভাবে নিপীড়িত গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নেন। ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য, দুঃখী জনসাধারণের ভাগ্যের প্রতিকার, শ্রেণীসংগ্রামে শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের পক্ষে আন্তরিক পক্ষপাত দেখান এই কাব্যের কিছু কবিতায়। ‘মন পবনের নাও’ কবিতায় কবি বলেন-
কান্না থেকে কাব্য লেখার / চাও কি কোনো মওকা? /
দুঃখী লোকের চরের কাছে / ভিড়াও তবে নৌকা।
(মন পবনের নাও)
দুঃখী ও দীন মানুষের দিকেই কবির দৃষ্টি। তাদের প্রতিদিনের দুঃখ-দারিদ্র্য-বঞ্চনা-কান্না কবির কাব্য সৃজনের উপজীব্য; সেই দিক বিবেচনা করেই কবি এইসব লাঞ্ছিত-নিপীড়িত গণমানুষের আবাসস্থল নদীর চরে- যেখানে সাধারণত কোন ধনী-সম্পদশালীরা বসবাস করে নাÑ সেখানে নৌকা ভেড়ানোর কথা বলেন। প্রকৃতপক্ষে চর এখানে সেইসব মানুষের আশ্রয়ের জায়গা যাদের স্থায়ী বাস্তুভিটা নেই, নদীর ভাঙন ও প্লাবনে প্রতি বছরই যাদের জীবন বিপন্ন হয়ে যায়, ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আর সেখানে নৌকা নোঙর করার তাৎপর্য হলো ধনী সম্পদশালীদের স্থায়ী প্রতিষ্ঠার বিপরীতে বিপন্ন কিন্তু সংগ্রামী ঘামঝরা মানুষের অস্থায়ী ও অনির্দিষ্ট আবাসভূমির দিকে গন্তব্য নির্ধারণ।
মুক্তি সংগ্রামের অংশ হিসেবে পুরাতন শ্রেণীভিত্তিক শোষণমূলক সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ গড়ার সুর ধ্বনিত, যেখানে মানুষের সমাজ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি বৈশাখের শক্তিশালী ঝড়ের বাতাসকে রামায়ণে বর্ণিত ‘হনুমানের পিতা’, ‘রাজা সোলেমানের’ বাহন, ‘মেঘের সাথী’ ও মহাপ্রতাশালীরূপে চিহ্নিত করে যেমন তিনি একদিকে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে তেমনি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর বিনাশ কামনা করেছেন-
ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান
ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের
পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান
বাড়তি তাদের বাহাদুরী গুঁড়িয়ে ফেলো।
(‘বোশেখ’, পাখির কাছে ফুলের কাছে)
গরিব কৃষকের বাসস্থান, পাখির খড়ের বাসা, বুনো হাঁসের ঝাঁক, জেটের পাখা, টেলিগ্রাফের খাম ইত্যাদি ধ্বংসের কৈফিয়ত কবি চেয়েছেন বৈশাখের তুফানের কাছে। সাথে সাথে তার কীর্তি গাঁথা পুরনো শুষ্ক সবকিছুকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দেবার মতো রবীন্দ্রনাথের চিরন্তন আহ্বানও কবি স্মরণ করেছেন। পরিশেষে কবি এই বাতাসের শক্তি ও ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে বলেন যারা সংগ্রামী মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে বিভেদ সৃষ্টিকারী, অন্যের রক্ত পানি করা শ্রমের বিনিময়ে সু-উচ্চ প্রাসাদ অট্টালিকা নির্মাণকারী এবং পুঁজির জোরে শক্তিমান। কবি আসলে প্রকৃতির অসামান্য শক্তিকে ডাক দিয়েছেন দুনিয়ার বুকে শোষণে ও শাসনে ক্ষমতাবান শ্রেণীর বিরুদ্ধে; যে আহ্বানের মধ্যে বৈপ্লবিক সুর প্রতিধ্বনিত। প্রতাপশালী পুঁজিবাদের বিপক্ষে কবির অবস্থান পরবর্তী সময়ে আরো স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যে আল মাহমুদ একটি নিজস্ব রঙিন পৃথিবী গড়েছেন। তাঁর ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ (১৯৮০), ‘একটি পাখি লেজ ঝোলা’ (২০০৮), ‘মোল্লাবাড়ির ছড়া’ (২০১০) ইত্যাদি ছড়ার বই শিশুসাহিত্যে তাঁকে দিয়েছে নিজস্ব মহিমা ও জনপ্রিয়তা। বাংলার প্রকৃতি আর মানুষ তাঁর লেখায় আপন স্বভাবে উজ্জ্বল। শিশুর মন ও মনের সীমানায় উড়ে বেড়ানো কল্পনার পাখিদের কলরব সেখানে গুঞ্জরিত। তবে সমাজ বাস্তবতার দাগ জ্বলজ্বল করে অভিনব কায়দায়-
দিঘির কথায় উঠলো হেসে ফুলপাখিরা সব
কাব্য হবে কাব্য হবেÑ জুড়লো কলরব
কি আর করি পকেট থেকে খুলে ছড়ার বই
পাখির কাছে ফুলের কাছে মনের কথা কই।
(পাখির কাছে ফুলের কাছে)

লিয়ানা গো লিয়ানা
সোনার মেয়ে তুই
কোন পাহাড়ে তুলতে গেলি-
জুঁই?

বন-বাদারে যাইনি মাগো
ফুলের বনেও না,
রাঙা খাদির অভাবে মা
পাতায় ঢাকি গা।
(ছড়া)
ফুল, পাখি, গাছপালা, লতাগুল্ম, সবুজ বন, ফসলের মাঠ, নদী, পাহাড় এবং মানুষের বসতির চলচ্ছবির সঙ্গে শিশুমনের কল্পনা, স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, সঙ্কল্প ও প্রত্যাশার রসায়নে আল মাহমুদের ছড়া এককথায় অনন্য। জীবন বাস্তবতার ছড়ার ছন্দও সমানভাবে উচ্চারিত।
কবি শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলিতে প্রাণবন্ত স্মৃতিময় গাঁয়ের বটের ছায়ায়, খালি গায়ে মজার খেলা খেলে ছিলেন তা পরিণত বয়সে মনে পড়ে, মনকে আলোড়িত করে। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ দৃশ্যপটও সেখানে আঁকা হয়ে যায় সহজে।
গাঁয়ের শেষে বটের তলে
আমিও ছিলাম ছেলের দলে
উদোম দেহে গাছে ভিড়ে
খেলেছিলাম নদীর তীরে
আজ মনে হয় মনের ছায়া
সেই সুদূরের সজল মায়া
বুকের নিচে রোদন করে
চোখের পাতায় বৃষ্টি ঝরে।
(ছেলেবেলা)
আবার নদীর চরে যে পাখি স্রষ্টার নাম ধরে ডাকে তার নামধাম জানতে কবি আহ্বান করেছেন চর-হাওরের কবি হিসেবে নিজেকে তৈরি করার জন্য।
সকাল বেলা যে পাখিটি আল্লা বলে / একলা থাকে একলা ডাকে চরাঞ্চলে /
সেই পখিটির নাম ঠিকানা জানতে কি চাও / নিজকে তবে চর হাওরের কবি বানাও।
(একলা ডাকে চরাঞ্চলে)
কবি শুধু গাঁয়ে জীবন ও প্রকৃতিতে আবদ্ধ থাকেননি। শহরেও দৃষ্টি দিয়েছেন, তবে গ্রামের সংস্কৃতিকে নগরে স্থাপন করেন সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে। অনেকটা কৌতুক ও তীব্র কল্পনা-স্বপ্নের মিশেলে এই ছড়াটি শিশু-কিশোরের জন্য দারুণ উপভোগ্য ও আনন্দময়।
ভয়ের চোটে ভাবতে থাকি শহর ভেঙে কেউ
দালান কোঠা বিছিয়ে দিয়ে তোলে খেতের ঢেউ
রাস্তাগুলো নদী এবং গলিরা সব খাল
ইলেকট্রিকের খাম্বাগুলো পাল্টে হলো তাল
মোটর গাড়ি গরুর পালে হাম্বা তুলে হাঁটে
পুলিশগুলো গুলিস্তানে নিড়ানি ঘাস কাটে।
(ভয়ের চোটে)
সব মিলিয়ে কবি আল মাহমুদ কিশোর মন-মানসিকতা ও স্বপ্ন-কল্পনার জগতে নতুন সুর ও কথার বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। সেই সঙ্গে এটা স্পষ্ট যে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য মুক্তির জন্য একটি স্বপ্নের পৃথিবী সৃষ্টির জন্য কবি একদিকে সংগ্রামী ও প্রতিবাদী; অন্যদিকে নতুন পৃথিবীর জন্য একদল প্রাণোচ্ছল ও সুস্থ-সবল কিশোর-নবীন দলের প্রত্যাশা করেছেন। অর্থাৎ স্বপ্ন ও সংগ্রামের কবি হিসেবে সবুজ বাংলাদেশের কবি হিসেবে আল মাহমুদ চূড়ান্ত সফলতার পরিচয় দিয়েছেন।

SHARE

Leave a Reply