Home কুরআন ও হাদিসের আলো গিবত

গিবত

গিবতপরিবারের সবাই একসাথে খেতে বসলেই রাজ্যের কথা এসে ভিড় জমায় সেখানে। নাওরীন ভাবে, কথাগুলো কি ডানাওয়ালা পরী? ইচ্ছে হলেই উড়ে এসে জুড়ে বসে খাওয়ার টেবিলে। কখনো হাসায়। কখনো স্বপ্ন দেখায়। আবার কখনো নিয়ে যায় মন খারাপের দেশে।
আব্বু-আম্মু, ভাই-বোন সবাই মিলে আজ রাতেও যেন রূপকথার হাট বসেছে খাওয়ার টেবিলে। কথায় কথায় নাওরীন তুলল তার এক সহপাঠীর কথা। যে দেখতে একটু বেশিই খাটো। সবাই নাকি তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। এই বলে নাওরীনও হাসির ঝড় তুলল। তার সাথে হাসল সবাই। শুধু আব্বু হাসলেন না। বরং জিহ্বায় কামড় দিয়ে তাকিয়ে থাকলেন নাওরীনের দিকে। নাওরীন বলল, কী হলো আব্বু? আব্বু বললেন, তুমি তো তোমার সহপাঠীর গিবত করলে! আর আল্লাহ তো বলেছেন, ‘তোমরা একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে?’ (সূরা হুজুরাত : ১২০)
গিবত? এ শব্দটি এই প্রথম শুনল নাওরীন। অন্যরাও অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। আব্বু বললেন, ‘গিবত হচ্ছে কারও ব্যাপারে এমন কথা বলা, যা শুনলে সে অপছন্দ করবে।’ মহানবী (সা)-কে বলা হয়েছিল, ‘আমি যা বলছি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তা-ও কি গিবত হবে? তিনি বললেন, তুমি যা বলছো, তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলেই তো তুমি গিবত করলে। আর যদি না থাকে, তাহলে তো তুমি অপবাদ আরোপ করলে।’ (মুসলিম)
নাওরীন বলল, আমি তো আমার সহপাঠীর খুব বেশি দোষের কথা বলিনি। আব্বু বললেন, তুমি যে কথা বলেছো, এ কথাই একবার আয়েশা (রা) বলেছিলেন সাফিয়্যা (রা) সম্পর্কে। তখন মহানবী (সা) তাকে বললেন, তুমি এমন কথা বলেছো, তা যদি সমুদ্রের পানিতে মেশানো যায়, তাহলে তা সমস্ত পানিকে নষ্ট করে দেবে। (আবু দাউদ)। এবার বুঝতে পেরেছো, সামান্য কথাও কতটা বিষাক্ত হতে পারে?
আব্বু বললেন, মহানবী (সা) বলেছেন, ‘মিরাজের রাতে আমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছ দিয়ে গেলাম, যাদের নখ ছিল তামার। তারা তাদের মুখ ও দেহের মাংস আঁচড়াচ্ছিল। আমি জিবরাইলের কাছে জানতে চাইলাম, এরা কারা? তিনি বললেন, এরা তাদের ভাইয়ের গিবত করত। (আহমাদ, আবু দাউদ)
নাওরীন থমকে গেলো। তার চেহারায় অনুতাপের ছায়া। চোখের কোণে অশ্রুর ফোঁটা টলমল করছে। সে বলল, আব্বু! আমি আর কারো গিবত করব না। আব্বু বললেন, চলো- সবাই শপথ করি। মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া যেমন অপছন্দনীয়, গিবতকেও তেমন অপছন্দ করব আমরা। সবাই বলল ইনশাআল্লাহ।

বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply