Home খেলার চমক বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলো । আবু আবদুল্লাহ

বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলো । আবু আবদুল্লাহ

বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলো । আবু আবদুল্লাহএসেছে ঈদ উৎসব। জমজমাট একটি ঈদসংখ্যা হাতে পেয়ে তোমাদের ঈদের খুশিতে নিশ্চয়ই নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ওদিকে ইংল্যান্ডে চলছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় উৎসব- বিশ্বকাপ। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তাই এক সাথে দুই উৎসব। বিশ্বকাপের এটি ১২তম আসর। আজ তোমাদের জানাবো বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা কয়েকটি ম্যাচ সম্পর্কে। যে ম্যাচগুলোকে বলা হয় বিশ্বকাপের সবচেয়ে জমজমাট, উত্তেজনাময় আর আকর্ষণীয় ম্যাচ।

বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলো । আবু আবদুল্লাহঅস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা
দ্বিতীয় সেমিফাইনাল, ১৯৯৯

মাত্র চার দিন আগে সুপার সিক্সের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করার সুযোগ হাতছাড়া করেছে প্রোটিয়ারা। ২৭২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চাশ রানের আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া; কিন্তু ৫ নম্বরে নেমে অপরাজিত ১২০ রানের ইনিংস খেলে দলকে বাঁচান অজি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। তবুও বার্মিংহামের এজবাস্টনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম রাউন্ডের পর দাপটের সাথে সুপার সিক্সে খেলে আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিলো জোড়া হার দিয়ে। প্রথম দুই ম্যাচেই তারা হেরেছিল নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে।
সেদিন পুরো ম্যাচেও দক্ষিণ আফ্রিকাই এগিয়ে ছিলো। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিলো, তবে কখনো মনে হয়নি তারা হারতে পারে; কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় কপাল পোড়ে প্রোটিয়াদের। প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার খুব কাছ থেকে ফিরে আসে তারা।
টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। দুই পেসার শন পোলক আর অ্যালান ডোনাল্ডের দাপটে অজিরা ছিলো শুরু থেকেই কোণঠাসা। স্কোর বোর্ডে ৬৮ রান তুলতেই মার্ক ওয়াহ, রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আর ড্যারেন লেহম্যানের উইকেট হারায় তারা। এরপর অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ (৫৬) আর সেই সময়ের সেরা ফিনিশার মাইকেল বেভানের (৬৫) দু’টি হাফ সেঞ্চুরিতে কোন মতে স্কোর দুইশ পার হয়। ৫০তম ওভারে ২১৩ রানে অলআউট হয় তারা। পোলক ৩৬ রানে ৫টি আর শ্বেতবিদ্যুৎ খ্যাত ডোনাল্ড ৩২ রানে নেন ৪ উইকেট।
২১৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে হার্র্শেল গিবস আর গ্যারি কারস্টেনের উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেখান থেকেই শুরু হয় ম্যাচের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্কোর ৬১ রানে পৌঁছতে ৪ উইকেট চলে যায়। শেন ওয়ার্নের জাদুকরী লেগস্পিনে ম্যাচ জমে ওঠে। মিডল অর্ডারে জ্যাক ক্যালিস আর জন্টি রোডস আবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের পথ দেখাতে থাকেন; কিন্তু দলীয় ১৪৫ রানে রোডস আর ১৭৫ রানে ক্যালিস ফিরে গেলে আবার লড়াইয়ে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তখন বড় ভরসা ছিলেন অলরাউন্ডার ল্যান্স ক্লুজনার। বামহাতি এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলেছেন (সেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তিনি)। ক্লুজনার মাঠে নেমে দ্রুত বল আর রানের ব্যবধান কমিয়ে আনেন।
শেষ দুই ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিলো ১৮ রান। ৪৯তম ওভারের প্রথম চার বলে মাত্র ২ রান তোলার বিনিময়ে ২টি উইকেট হারায় তারা। ক্রিজে আসেন সর্র্বশেষ ব্যাটসম্যান ডোনাল্ড। ৮ বলে দরকার ১৬ রান। পঞ্চম বলে লং অনে ক্লুজনারে শট পল রাইফেলের হাত ফসকে ছক্কা হয়ে যায়। ওই ক্যাচটি নিতে পারলে সেখানেই ম্যাচ শেষ হয়ে যেত। শেষ বলে একটি সিঙ্গেল নিয়ে পরের ওভারে আবার স্ট্রাইক নেন ক্লুজনার।
শেষ ওভারে দরকার হয় ৯ রান, ক্রিজে শেষ উইকেট জুটি। ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের প্রথম দুই বলে দু’টি চার মেরে স্কোরে সমতা আনেন ক্লুজনার। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে যেমন দাপটের সাথে খেলে এসেছেন- তার কাছ থেকে সেটাই ছিলো প্রত্যাশিত। পরপর দুটি শটে স্কোর টাই হয় (২১৩)। বিশ্বকাপের ফাইনালে যাওয়ার জন্য ৪ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ১ রান। ক্লুজনারের সংগ্রহ ১৪ বলে ৩১ রান। টিভি কমেন্ট্রি বক্সে ভাষ্যকাররা তখন ক্লুজনারকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। টিভির পর্র্দায় অজি ক্রিকেটারদের হতাশ মুখগুলো বারবার দেখানো হচ্ছিল।
এক রান দরকার তাই স্টিভ ওয়াহ সব ফিল্ডারকে কাছে এনে উইকেটের চারদিকে বৃৃৃত্ত তৈরি করেন। তৃৃৃতীয় বলে ড্যারেন লেহম্যানের হাতে বল দেখেও রান নেয়ার চেষ্টা করেন ননস্ট্রাইকার অ্যালান ডোনাল্ড। লেহম্যানের থ্র্রো স্ট্যাম্পের গা ঘেঁষে চলে যায়। বল স্ট্যাম্পে লাগলে আউট হয়ে যেতেন ডোনাল্ড, ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান তিনি। চতুর্র্থ বলেও শট ঠিক মতো নিতে পারেননি ক্লুজনার। বোলারের ডান পাশে দাঁড়ানে মার্ক ওয়াহর কাছে যায় বল। এই বলেও রান হওয়ার কোন যুক্তি নেই; কিন্তু কী মনে করে মাথা নিচু করে ভোঁ-দৌড় দেন ক্লুজনার। ডোনাল্ড ক্রিজ থেকে সামান্য বের হয়ে আবার ফিরে আসেন, তার হাত থেকে পড়ে যায় ব্যাট; কিন্তু ক্লুজনার প্রায় চলে এসেছেন দেখে খালি হাতেই আবার দৌড় দেন ডোনাল্ড।
ওদিকে মার্ক ওয়াহ ঝাঁপিয়ে পড়ে ননস্ট্রাইকিং প্রান্তে স্ট্যাম্প ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বল যায় পিচের ওপর দাঁড়ানো বোলার ফ্লেমিংয়ের হাতে। খালি হাতে দৌড়ে ডোনাল্ড পিচের অর্র্ধেকটা যেতে পেরেছেন। ফ্লেমিং বল দেন উইকেট রক্ষক গিলক্রিস্টকে। রান আউট!
অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা তখন দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিততে না দেয়ার আনন্দে মাতোয়ারা, কিন্তু ড্রেসিং রুমে ফিরে শুনতে পেলেন আনন্দের সংবাদটি। তখন নিয়ম ছিলো নক আউট পর্র্র্বে ম্যাচ টাই হলে গ্রুপ পর্র্বে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে (হেড টু হেড) বিজয়ী দল যাবে পরের রাউন্ডে। সুপার সিক্সে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর সুবাদে তাই অস্ট্রেলিয়া চলে যায় ফাইনালে। দক্ষিণ আফ্রিকার নামের সাথে স্থায়ী হয় চোকার্স উপাধি। ফাইনালে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জেতে অস্ট্র্রেলিয়া। সেই থেকেই ক্রিকেট বিশ্বে সূচনা হয় অজিদের আধিপত্যের যুগ। এরপর ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপও জেতে তারা। মাঝখানে ২০১১ বাদ দিয়ে আবার জেতে ২০১৫ বিশ্বকাপ শিরোপা।
এই ম্যাচটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃৃৃতি পেয়েছে সবার কাছে। তোমাদের যদি সুযোগ হয় ইউটিউবে ওই ম্যাচের শেষ দু’টি ওভারের ভিডিও দেখে নিও। ২০ বছর আগের একটি ম্যাচ, সবার জানা ফলাফল কী হবে, তবুও ওই ভিডিও দেখলে উত্তেজনায় নিজের অজান্তেই চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলো । আবু আবদুল্লাহওয়েস্ট ইন্ডিজ – অস্ট্রেলিয়া
ফাইনাল, ১৯৭৫

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম আসর বসে ১৯৭৫ সালে। সেই টুর্নামেন্টের ফাইনালটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ম্যাচগুলোর একটি। ফাইনাল বলেই নয়, টানটান উত্তেজনাই ম্যাচটিকে সেরার তালিকায় নিয়ে এসেছে। লর্ডসে সেদিন টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারালেও মিডল অর্ডারে হাল ধরেন অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড। তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন রোহান কানহাই। ডেনিস লিলিকে বিশাল এক ছক্কা মেরে ৮২ বলে সেঞ্চুরি করেন। টেস্ট ক্রিকেটের সেই যুগে যা ছিলো অকল্পনীয়। লেট অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও খেলেছেন ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংস। সব মিলে ৬০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯১ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে একটি উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে টার্র্নার ও অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল অজিদের লড়াইয়ে ফেরান; কিন্তু এই দু’জন সেই সাথে গ্রেগ চ্যাপেলও রান আউট হলে পিছিয়ে পড়ে তারা। পরপর তিনটি রান আউটই করেন তখনকার তরুণ ব্যাটসম্যান ভিভ রিচার্ডস। ব্যাট হাতে মাত্র ৫ রান করলেও ভিভ দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে দলের পক্ষে অবদান রাখেন। এক পর্যায়ে ২২৩ রানে নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ যখন সবাই শেষ ভাবছে তখনই শেষ উইকেট জুটিতে লড়াই শুরু করেন ডেনিস লিলি ও জেফ থমসন; কিন্তু জয় থেকে ১৮ রান দূরে থাকতে আরেকটি রান আউটে শেষ হয় তাদের লড়াই। ২৭৪ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া। সেই ইনিংসে মোট ৫ অজি ব্যাটসম্যান রান আউট হয়েছিলেন। ১৭ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
(বি: দ্র: ১৯৮৩-এর আগে পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রতি ইনিংস হতো ৬০ ওভারে)

বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলো । আবু আবদুল্লাহপাকিস্তান – নিউজিল্যান্ড
প্রথম সেমিফাইনাল, ১৯৯২

অকল্যান্ডের সেই ম্যাচে খেলারই কথা ছিলো না তরুণ ইনজামাম উল হকের। শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে গেলেন সেই ম্যাচের নায়ক। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছিল নিউজিল্যান্ড। প্রথম ৭ ম্যাচে টানা জয় পেয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠেছিল ভাগ্যের সহায়তায়। অবশ্য প্রথম রাউন্ডে নিউজিল্যান্ডকে একমাত্র তারাই হারিয়েছিল।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক মার্টিন ক্রোর ৮৩ বলে ৯১ রানে ভর করে কিউইরা ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬২ রান তোলে। ক্রো ছাড়াও কেন রাদারফোর্ড করেছিলেন ৬৮ বলে ৫০ রান। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে ওয়াসিম আকরাম ও মুশতাক আহমেদ ২টি করে উইকেট নিয়েছিলেন।
রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দলীয় ৩০ রানে আমির সোহেলের উইকেট হারালেও রমিজ রাজা (৪৪) ও অধিনায়ক ইমরান খানের (৪৪) জুটিতে ম্যাচে ফেরে। তবে মিডল অর্ডারে রান তোলার গতি ছিলো ধীর। যে কারণে আস্কিং রেট বেড়ে ওভার প্রতি ৮ এর ওপরে চলে যায়। শেষ দিকে বলের সাথে রানের ব্যবধান বাড়তে থাকে দ্রুত। এ সময় তাই দরকার ছিলো একটি ঝড়ো ইনিংস। অকল্যান্ডের গ্যালারিতে উপস্থিত অল্প কিছু পাকিস্তানি দর্শক তখন তাকিয়ে জাভেদ মিয়াঁদাদের দিকে; কিন্তু মিয়াঁদাদকে পার্শ্বনায়ক বানিয়ে সেদিন নায়ক হয়ে ওঠেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণ ব্যাটসম্যান। তার নাম ইনজামাম উল হক। ৩৭ বলে ৬০ রানের এক ক্যামিও ইনিংস খেলে রানের ব্যবধান কমিয়ে আনার সাথে সাথে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে রাখেন ইনজি। অথচ পেটের অসুখের কারণে সেদিন খেলতেই চাননি ইনজামাম। অধিনায়ক ইমরান খান অনেকটা জোর করে তাকে মাঠে নামিয়েছিলেন। আর নেমেই দলকে তুললেন বিশ্বকাপ ফাইনালে। সেদিনই বিশ্ব টের পেয়েছিল কিংবদন্তি এক ব্যাটসম্যানের আবির্ভাব।
জয় থেকে ৩৬ রান দূরে থাকতে ইনজামাম রান আউট হয়ে যান। অন্যপ্রান্তে জাভেদ মিয়াঁদাদ আছেন তখনো। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসা মইন খান দ্রুততার সাথে ১১ বলে ১৫ রান তুলে ম্যাচ শেষ করেন। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে মইন খান যখন উল্লাসে মাতেন, পাকিস্তান তখন প্রথমবারের মতো চলে গেছে বিশ্বকাপ ফাইনালে। আর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেবার জিতেছিল বিশ্বকাপ শিরোপা।

SHARE

Leave a Reply