Home কুরআন ও হাদিসের আলো কাউসার

কাউসার

বড় আপুর কাছেই কুরআন পড়া শিখেছে নামিরা। এখন সে নিজে নিজেই সহিহভাবে কুরআন পড়তে পারে। আপু বললেন, কুরআন শুধু পড়তে জানলেই হবে না। এর অর্থ জানতে হবে। বুঝতে হবে। তাহলেই তুমি আলোকিত হবে। সুরভিত হবে। নামিরা বলল, সে-তো অনেক কঠিন কাজ! আপু বললেন, মোটেও নয়। আল্লাহ তায়ালাই বলেছেন, তিনি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছেন। চলো আমরা শুরু করি কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরাটি দিয়ে। সূরা আল-কাউসার।
নামিরা সূরাটি তিলাওয়াত করল। আপু প্রথমেই তার অনুবাদ করে শোনালেন। এরপর বললেন, আজ আমরা এর প্রথম আয়াত নিয়েই কথা বলব- ‘হে রাসূল (সা)! নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি।’ একদিন মহানবী (সা)-কে হাসতে দেখে সাহাবীরা এর কারণ জানতে চাইল। তিনি বললেন, এখনই আমার নিকট একটি সূরা নাজিল হয়েছে। সূরা কাউসার পাঠ করে তিনি বললেন, তোমরা কি জানো- কাউসার কী? তারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, এটা জান্নাতের একটি ঝরনা। আমার রব আমাকে এটা দেয়ার ওয়াদা করেছেন। এতে আছে অনেক কল্যাণ। এই হাউজে কিয়ামতের দিন আমার উম্মত পানি পান করতে যাবে। এর পেয়ালার সংখ্যা আকাশের তারকার সমান। (বুখারি)
নামিরা বলল, আপু! এ ঝরনা দেখতে কেমন হবে? এর স্বাদই বা কেমন? আপু বললেন, শোনো তাহলে। এর রঙ হচ্ছে দুধের চেয়েও সাদা, স্বাদ- মধুর চেয়েও মিষ্টি। মহানবী (সা) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম। হঠাৎ দেখি, আমি একটি ঝরনার পাশে দাঁড়িয়ে আছি। যার দু’পাশে মুক্তোর তৈরি গম্বুজ। পানিতে হাত দিয়ে দেখলাম, তাতে মিশকের ঘ্রাণ। জিবরাইলের কাছে জানতে চাইলাম- এটা কী? তিনি বললেন, এটা কাউসার, যা আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন। (আহমদ)
নামিরা জানতে চাইল, আপু! হাউজ আর কাউসার কি একই জিনিস? আপু বললেন, খুব সুন্দর প্রশ্ন! না, হাউজ আর কাউসার একই জিনিস নয়। হাউজ থাকবে হাশরের মাঠে। কাউসার জান্নাতে। কাউসারের পানি হাউজে এনে ঢালা হবে। এক হাদিসে এসেছে, জান্নাত থেকে দু’টি খাল কেটে তাতে পানি সরবরাহ করা হবে। এর পানি যে পান করবে, সে কখনোই পিপাসিত হবে না। আল্লাহর রহমতে আমরাও এ পানি পান করবো ইনশাআল্লাহ।
নামিরা আবেগে দুলে উঠছে। বলল, আপু! কুরআন এত মধুর। এত সুন্দর কথা আছে কুরআনে! আমি প্রতিদিনই তোমার কাছে নতুন কিছু শিখব। আপু বললেন, ইনশাআল্লাহ।
– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply