Home আইটি কর্নার স্মার্টফোনে রিডিং মোড বা নাইট মোড । তানভীর তাজওয়ার

স্মার্টফোনে রিডিং মোড বা নাইট মোড । তানভীর তাজওয়ার

স্মার্টফোনে রিডিং মোড বা নাইট মোড । তানভীর তাজওয়ারজ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম বইপড়া। আর বই মানেই তো কাগজের ওপর ছাপা অক্ষর। সেলাই করে বাঁধাই করা মলাটবদ্ধ জ্ঞান। কিন্তু ইদানীং কাগুজে বইয়ের বাইরেও বই আছে। অনলাইন বই। পিডিএফ বই। এগুলো পড়ার জন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস প্রয়োজন হয়। স্মার্টফোন, ট্যাব, কম্পিউটার ইত্যাদির মাধ্যমে পড়তে হয়। বিরাট বিরাট বইয়ের ওজন বহনের ঝক্কিঝামেলা এখানে নেই। তবে কিছু অসুবিধা তো আছেই। সেসব অসুবিধা বা সমস্যা ও তার সমাধান নিয়েই এবারের আলোচনা।স্মার্টফোনে রিডিং মোড বা নাইট মোড । তানভীর তাজওয়ারঘুম থেকে ওঠা, ঘুমাতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত মুঠোফোনের দিকে সারা দিন তাকিয়ে থাকা আর নতুন কিছু নয়। সস্তায় ফোরজি, বড় ডিসপ্লে, দারুণ ক্যামেরা, আকর্ষণীয় সব অ্যাপ্লিকেশন, প্রয়োজনে বা স্রেফ সময় কাটাতে, স্মার্টফোনের বিকল্প নেই। কিন্তু সারা দিন এই ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের কতটা ক্ষতি হতে পারে? টোলেডো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, এর ফলে ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। এমনকি, এর ফলে অকালে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া থেকে পুরোপুরি অন্ধ পর্যন্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ফোন নয়, যে কোনও ডিজিটাল ডিসপ্লে থেকে নির্গত নীল আলো, এমনকি সূর্য থেকে আসা নীল আলো চোখের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। তবে, সমস্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী অন্ধ হয়ে যাবে, ব্যাপারটা এমনটা নয়। গবেষণায় জানা গেছে, সূর্য বা এই ডিজিটাল ডিসপ্লে (টিভি, ফোন, ট্যাবলেট ইত্যাদি) থেকে নির্গত নীল আলোর জন্য সব থেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে চোখের রেটিনার। বিষাক্ত কিছু রাসায়নিক রশ্মি চোখের এমন ক্ষতি করছে, যা আর ঠিক হওয়ার নয়। দিনের পর দিন এরকম চলতে থাকলে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সে চোখের সমস্যা কিংবা অন্ধত্ব আসাটাও অসম্ভব নয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় অন্ধকারে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে। অন্ধকার ঘরে চোখ সয়ে যাওয়ার জন্য আইরিশ অনেকটা খুলে যায়, যাতে বেশি আলো ঢোকে। ফলে অন্ধকারেও আমরা কিছুটা দেখতে পাই। কিন্তু তখন চোখের সামনে ফোন থাকলে অনেক বেশি আলো প্রবেশ করে চোখে। ফলে তা সাধারণের থেকে অনেক বেশি ক্ষতি করে। তাই ঘুমোতে যাওয়ার আগে মেসেজ করা বা ফেসবুকে কিছুটা সময় কাটানোর ফলাফল চোখের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকারক। এর থেকে বাঁচার জন্য প্রধান উপায়, যতটা কম সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। বিশেষ করে অন্ধকারে। কিন্তু একান্তই যদি দিনে অনেকটা সময় কাটাতে হয় ফোনের সঙ্গে, প্রথমেই ফোনের ডিসপ্লের আলো যতটা কমিয়ে দেখা যায়, ততটাই দাও। এর সঙ্গে এখন প্রায় প্রতিটা ফোনেই ‘নাইট মোড’ বা ‘রিডিং মোড’ আছে, যাতে স্ক্রিনে একটা হলুদ আভা থাকে, নীলের পরিমাণ কমে। যাদের অনেকটা সময় কাটে কম্পিউটারের সামনে, তাদের জন্যও এই নীল আলো সমান ক্ষতিকর। মনিটরের সেটিংস থেকে ডিসপ্লেটা একটু হলুদ করে নাও। বাড়ির টিভিতেও ব্রাইটনেস কনট্রাস্ট ঘরের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে রাখো, স্যাচুরেশন অতিরিক্ত করবে না। আর খেয়াল রাখো নীলচে ভাব যতটা কমানো যায়। তবেই আপাতত ক্ষতি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

SHARE

Leave a Reply