Home কুরআন ও হাদিসের আলো বৃষ্টি চাই

বৃষ্টি চাই

বেশ কিছুদিন ধরে ভীষণ গরম পড়ছে। অসহ্য। গনগনে রোদে তেঁতে আছে সবকিছু। প্রকৃতির দিকে তাকালে মনে হয়, সবখানে হাহাকার। খালে-বিলে পানি নেই। পাতায় পাতায় রোদন। মাঠে মাঠে চিৎকার। সবাই যেন দু’হাত তুলে বলছে- ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে রে তুই”!
এমনই এক দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফিরল হেনা। মা হাতপাখা নিয়ে দৌড়ে এলেন মেয়ের কাছে। আঁচল দিয়ে তার ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, আল্লাহ! এবার একটু বৃষ্টি দাও। এবার একটু রহম করো। হেনাকে বললেন, তুমিও দোয়া করো। হেনা বলল, বৃষ্টির জন্যও কি দোয়া করতে হয়? আম্মু বললেন, অবশ্যই। তাহলে শোনো-
কোনো এক জুমার দিনে মহানবী (সা) মসজিদে খুতবা দিতে শুরু করলেন। হঠাৎ একলোক এসে তাঁর সামনে দাঁড়াল। এবং উঁচু আওয়াজে বলতে লাগল- হে রাসুল (সা)! গবাদি পশু ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে পথ-চলাচল। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দেন। মহানবী (সা) হাত তুললেন। তিনবার বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দিন! তখনো আকাশে কোনো মেঘ ছিলনা। ছিল না মেঘের কোনো ছিটেফোঁটাও। হঠাৎ করেই পাহাড়ের পেছন থেকে মেঘ বেরিয়ে আসল। বৃষ্টি নামল। চলল একটানা ছয়দিন। এ ছয়দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি একবারও!
পরের জুমায় ওই লোক আবার আসল। মহানবীর সামনে দাঁড়াল এবং বলল- ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে।
পথ-ঘাট ভেঙে গেছে। দোয়া করুন, যেন বৃষ্টি থেমে যায়!
মহানবী (সা) মুচকি হাসলেন। হাত তুললেন। বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন। টিলা, পাহাড়, উচ্চভূমি, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনভূমিতে। এরপর বৃষ্টি থামল। হেসে ওঠল রোদ! (বুখারী)।
হেনা বলল, সুবহানাল্লাহ! মা বললেন, এটা ছিল মহানবী (সা) এর মুজিযা। তবে আমাদের মুজিযা না থাকলেও আমরা দোয়া করতে পারি। সোলায়মান (আ)-এর সময়ে পিঁপড়ের দোয়ায়ও বৃষ্টি হয়েছিল। চলো বলিÑ ‘হে আল্লাহ আমাদের বৃষ্টি দাও। তোমার রহমতের বৃষ্টি। ভালোবাসার বৃষ্টি। প্রকৃতিকে সতেজ করো। সতেজ করো আমাদের হৃদয়।’ হেনা বলল, আমীন।

– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply