Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাজার মাসের সৌরভ

হাজার মাসের সৌরভ

জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আনমনে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছেন দাদাভাই। সন্ধ্যারাত। তারা ঝিলমিল আকাশ। শীতল জোছনা গলে গলে পড়ছে উঠোনে। গাছের পাতায়। হাসনাহেনার সাদা পাপড়িতে। হাসান ‘দাদাভাই’ বলে ডাক দিতেই দাদা তার দিকে ফিরে তাকালেন। মুখে মুচকি হাসির ঢেউ। বললেন, কিছু বলবে? হাসান বলল, তোমাকে আনমনা দেখে এর কারণ জানতে ইচ্ছে হলো। তুমি কি প্রকৃতির রূপে ডুবে আছো? নাকি মন খারাপ?
দাদা বললেন, ও আচ্ছা! না, এসব কিছুই না। আমি মূলতঃ ফেরেশতাদের পথ চেয়ে আছি! আহা! যদি দেখা হয়ে যেত কারো সাথে!
হাসান অবাক। ফেরেশতা? দাদা তুমি ঠিক আছো তো? দাদা বললেন, আমি অবশ্যই ঠিক আছি। তুমি হয়তো ভুলেই গেছো, আজ একুশে রমাদানের রাত। এ রাতই হতে পারে লাইলাতুল কদর। এ রাতে পৃথিবীতে এত ফেরেশতা নেমে আসেন যে, তাদের সংখ্যা পাথরকুচির চেয়েও বেশি!
হাসান নড়েচড়ে বসল। কপালে ভাঁজ পড়ল তার। বলল, কিন্তু আমরা তো জানিÑ লাইলাতুল কদর আসে সাতাশে রমাদান। দাদা বললেন, তোমার কথাও ভুল নয়। তবে মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা রমাদান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। তাই এর কোনো নির্ধারিত তারিখ নেই। আবার একেক রমাদানে একেক তারিখে তা আসতে পারে। এ জন্য নিরাপদ হলো, বেজোড় প্রতিটি রাতেই লাইলাতুল কদর খুঁজে ফেরা। খুঁজে ফেরা আল্লাহর রহমতের নদী। ফেরেশতার মোলাকাত!
হাসান বলল, আমি তো জানতামই না বিষয়টা। দাদা বললেন, এবার যেহেতু জানলে, কথা দাওÑ তুমি আমার সাথী হবে। আমরা দু’জনেই লাইলাতুল কদর খুঁজব। ইবাদাতে কাটিয়ে দেবো সামনের প্রতিটি বেজোড় রাত। কুড়িয়ে নেবো হাজার মাসের ইবাদাতের সৌরভ। কারণ, আল্লাহ বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’। (সূরা আল-কাদর : ০৩)।
হাসানের দু’চোখ অশ্রুতে টলমল করছে। যেন এখনই এক এক করে ঝরে পড়বে আবেগের শিশিরফোঁটাগুলো। দাদাকে জড়িয়ে ধরে সে বলল, কথা দিলাম দাদাভাই, কথা দিলাম!

– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply