Home ধারাবাহিক উপন্যাস নাবিলের কান্না । জুবায়ের হুসাইন

নাবিলের কান্না । জুবায়ের হুসাইন

নাবিলের-কান্নাগত সংখ্যার পর

আবার নাদেরের কথার সাথে যোগ করে নাহিদ, ‘নাবিলকে আমাদের বাঁচাতেই হবে। ওর এই অবস্থা আর সহ্য করা যাচ্ছে না।’ সরাসরি বিপ্লবের চোখের দিকে তাকাল, ‘তুমি কিছু একটা করো বিপ্লব।’
বিপ্লব বলল, ‘আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম, এর মধ্যে নিশ্চয়ই একটা কোনো রহস্য আছে। আর এখন তো সবটা জানলাম। কাজেই এই রহস্যের শেষ না দেখে তো আমি ছাড়ব না।’ একটু থামল বিপু ভাইয়া। তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘তোমাদের বাবার বন্ধু মিজানুর সম্পর্কে কিছু বলো।’
নাহিদ বলল, ‘কী বলব তার সম্পর্কে? আমরা নিজেরাই তো কিছু জানিনে।’
‘কোনোদিন তার কাছে জানতেও চাওনি কিছু?’
‘নাহ্!’
বিপ্লব যেন কী ভাবছে। কিছু একটা মেলাতে চেষ্টা করছে। হঠাৎ পকেট থেকে ভাঁজ করা কাগজটা বের করল। মেলে ধরল নাবিলের সামনে।
আশ্চর্য একটা ঘটনা ঘটল এই সময়। কাগজটা দেখেই ছোঁ মেরে কেড়ে নিলো নাবিল। লুকিয়ে ফেলল হাতের মধ্যে।
অন্যরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগল। সবার চোখেই প্রশ্ন, ‘ব্যাপার কী?’
‘তুমি কি জানো কাগজটায় কিসের নকশা আঁকা আছে, নাবিল ভাইয়া?’ প্রশ্নটা করল বিপ্লব।
নাবিল কোনো কথা না বলে ওপর-নিচ মাথা নাড়ল। বোঝায় যাচ্ছে, ভয় পাচ্ছে বলতে। এদিক ওদিক তাকাচ্ছে বারবার।
‘কিসের নকশা, বলো আমাদের?’ বিপ্লবের পুনরায় জিজ্ঞাসা।
এ কথার কোনো জবাব দিল না নাবিল। উঠে দাঁড়ালো। কাগজটা দেখল একবার ভালো করে। তারপর মনে মনে কী যেন হিসাব করল। এগিয়ে চলল সামনে। বাগানের একটা ডুমুর গাছের নিচে গিয়ে থামল।
সবাই ওর পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। সবার মনের মধ্যেই ওৎসুক্য।
নাবিল হাঁটু মুড়ে বসল। বসল অন্যরাও। এই সময় পেছনে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াল বিপ্লব। সেই লোকটা- মিজানুর। মুখে একটা বিশ্রী হাসি নিয়ে ওদেরই পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন।
এতক্ষণ নিজেদের মধ্যে এতই মগ্ন ছিল যে তার উপস্থিতি কেউই টের পায়নি।

নাবিলের-কান্নাআট.

লোকটাকে প্রথম দেখাতেই পছন্দ হলো না তারেক বা ডিটু ভাইয়া কারোর। আর নাবিল তো আবার নিজের মধ্যে সিটিয়ে গেল। কাগজটা হাতের মধ্যে শক্ত করে ধরে দৌড়ে পালালো।
বিপ্লব বলল, ‘আমি বিপ্লব।’ বলে হাত বাড়িয়ে দিল।
মিজানুর তার বিশাল থাবার মধ্যে বিপ্লবের হাতটা নিয়ে ঝাঁকিয়ে দিল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও হ্যান্ডশেক করল তারেক ও ডিটু ভাইয়াও।
‘নাইস টু মিট ইউ।’ বললেন মিজানুর। কেমন ঘরঘরে শব্দ বেরোল কথাটা উচ্চারণের সময়। তারপর নাহিদদের উদ্দেশে বললেন, ‘ইদানীং দেখছি তোমরা পড়াশোনায় বেশ ঢিলা দিচ্ছ। এখন বোধ হয় বন্ধুদের বিদায় দিয়ে সেদিকে মনোযোগী হওয়া দরকার।’ বলে চলে গেলেন বাড়ির ভেতরে।
বিপ্লব বলল, ‘আমরা বরং আজ আসি। এক কাজ করো, কাল স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়িতেই থেক। আমরা আসব। বিস্তারিত আলাপ করে একটা সমাধান বের করা যাবে। তখন তোমাদের আম্মুর সাথেও একটু কথা বলা যাবে।’
নাদের বলল, ‘সেটা আর সম্ভব না। আম্মু আজই মামা বাড়ি চলে গেছেন।’
বিপ্লব বলল, ‘ও’। বিষম রকম হোঁচট খেল যেন ও। নাহিদদের আম্মুর সাথে কথা বলাটা বেশ জরুরি ছিল।
নাহিদ বলল, ‘তোমরা বরং কালই এসো। আব্বু অফিসে থাকবেন। কাজেই আলাপ করতে অসুবিধা হবে না।’
বিদায় নিয়ে চলে এলো বিপ্লবরা।
সে রাতেও ভালো ঘুম এলো না বিপ্লবের। এ কয়দিনে ঘটে যাওয়া সমস্ত ব্যাপারগুলো বারবার ওর মগজের মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগল।
নাসরুল্লাহর বিষয়টা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না ও। কত সুন্দর একটা ছেলে নাবিল। তার ওপর কেন এত অত্যাচার করবেন তিনি? এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না ও। এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্য কোনো কারণ আছে। ওর মন বলছে, সবকিছুর পেছনে মিজানুরের হাত আছে। তিনিই পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। তার সম্পর্কে তথ্য উদ্ধার করতে হবে। কাল সকালেই বিষয়টা সেরে নিতে হবে।
এসব ভাবতে ভাবতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ল বিপ্লব। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি পরদিন ঘটে যাবে বড় একটা ঘটনা।

নয়.

ফজরের নামাজের পর ঘুমিয়ে পড়েছিল বিপ্লব। ঘুম ভাঙলো মোটরসাইকেলের শব্দে। ধড়মড় করে উঠে দেয়াল ঘড়িতে দেখল সকাল দশটা বাজে। দ্রুত দরোজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলো। দেখল, নাহিদ ও নাদের এগিয়ে আসছে। ব্যাপার কী?
দৌড়ে আসতে আসতেই নাহিদ বলল, ‘সর্বনাশ হয়ে গেছে! দলিলটা হাতছাড়া হয়ে গেছে।’
হতভম্ব হয়ে গেল বিপ্লব। বলল, ‘আগে ভেতরে এসে বসো। তারপর বলো কী হয়েছে।’
বিপ্লবের রুমে বসল ওরা। নাহিদ বলল, ‘আম্মু কাল যাওয়ার আগে আব্বুকে একটা চিঠি লিখে রেখে গিয়েছিলেন। কাল রাতে তোমরা চলে আসার পর আব্বু চিঠিটা পড়েন। পড়েই কেমন যেন হয়ে যান। আমাদেরকে ডাকেন। বললেন, ‘আমি খুবই অন্যায় করে ফেলেছি। আমি আর দলিলটা চাই না। কিন্তু এখন কী করা বল তো?’ আমরা বলি, সব ঠিক হয়ে যাবে আব্বু। তুমি শুধু মিজানুর চাচাকে চলে যেতে বলো। আব্বু তাই করেন। মিজানুরকে ডেকে তাকে আর আমাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। কিন্তু বেঁকে বসেন তিনি। এই নিয়ে আব্বু ও তার মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটি হয়।’
দম নেয়ার জন্য একটু থামল। তারপর আবার বলল, ‘রোজ সকালে আব্বু আমাদের বাগানের মধ্যেই হালকা জগিং করেন। আজও যথারীতি জগিং করতে গিয়ে ডুমুর গাছটার নিচে যেতেই দেখেন ওখানকার মাটি খোঁড়া। একটা পিতলের বাকসো পড়ে আছে। পাশেই পড়ে আছে একটা তালার ভাঙা অংশ। শূন্য বাকসো। ভেতরে কিছুই নেই। আমাদেরকে ডাকেন তিনি। আমরা এসে দেখলাম। বললাম কাল রাতের কথা। আব্বু নাবিলকে আনতে বললেন। নাদের নিয়ে এলো। নাবিল এসে দেখেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। আব্বুকে জড়িয়ে ধরে কেবলই বলতে লাগল, ‘চাচ্চু, দলিলটা নেই! চাচ্চু, দলিলটা নেই!…’ আব্বু বুঝে ফেললেন কী ঘটেছে। মিজানুরকে দিয়ে একটা নকল দলিল করে রেখেছিলেন। আসল দলিলটা পেলে সই নকল করে সব লিখে নেয়ার সকল বন্দোবস্তই করে রাখা ছিল তাতে। কিন্তু আব্বুর এখন সন্দেহ মিজানুর দু’জনের নামে না করে নিজের নামেই নকল দলিলটা করে রেখেছিলেন। আর সেটা নিয়েই উড়াল দিয়েছেন মিজানুর।’
সব শুনে বিপ্লব কিছু সময় কিছুই বলতে পারল না। ওর কাছে মনে হচ্ছে ও কোনো রহস্য উপন্যাসের কাহিনী শুনছে। মনে মনে কিছু একটার হিসাব মিলিয়ে নিল। অবশেষে নীরবতা ভেঙে বলল, ‘নাবিল এখন কোথায়?’
নাহিদ বলল, ‘আমরা আসার সময় ও তো বাড়িতেই ছিল।’
‘মিজানুর পালালে কোন্ পথে পালাতে পারেন?’
‘বুঝলাম না তোমার কথা।’
‘মানে আমি বলতে চাচ্ছি তিনি যদি পালিয়ে যেতে চান তবে কোন্ পথটা বেছে নেবেন? বাস না ট্রেন? নাকি…’
এই কথাটার জবাব দিল নাদের। বলল, ‘তিনি সাধারণত ট্রেনে করেই যাতায়াত করেন। আমাদের বলেছেন তিনি।’
মুহূর্তে করণীয় ঠিক করে ফেলল বিপ্লব। বলল, ‘এক কাজ করো, মোবাইলে তোমার আব্বুকে বলে দাও তিনি যেন পুলিশ নিয়ে রেলস্টেশনে চলে যান।’
বলতেই পকেট থেকে মোবাইল বের করে আব্বুকে ফোন করল নাদের। এই সুযোগে গায়ে একটা শার্ট চাপিয়ে নিলো বিপ্লব। বলল, ‘কুইক!’
হাওয়ার বেগে চলল মোটরসাইকেল। পথে তারেককে বলল জঙ্গলে গিয়ে গহনাগুলো উঠিয়ে নিতে। যদিও বিপ্লব নিশ্চিত না এখনও ওগুলো ওখানে আছে কি না। নিশ্চয়ই ওগুলো উঠিয়ে নিয়ে গেছেন মিজানুর।
ট্রেন ছেড়ে যেতে আর মাত্র চার-পাঁচ মিনিট বাকি। অথচ পথ এখনও অনেক বাকি। নাহিদকে আরও জোরে চালাতে বলল বিপ্লব।
স্পিডের কারণে থরথর করে কাঁপছে মোটরসাইকেল। কানের পাশ দিয়ে শো শো করে ছুটছে বাতাস। সেদিকে খেয়াল করল না নাহিদ। দিল এক্সিলেটারের গ্যাস বাড়িয়ে। মাথার মধ্যে ভোঁ-ভোঁ শব্দ হচ্ছে। বাতাসে ঢাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চাচ্ছে ওদের। কেয়ার করল না কেউ।
যে করেই হোক ট্রেন ছাড়ার আগেই পৌঁছাতে হবে রেল স্টেশনে। থামাতে হবে মিজানুরকে।
বিপ্লব তো রীতিমতো প্রার্থনা করছে ট্রেনটা আজ যেন অন্তত পাঁচ মিনিট লেটে ছাড়ে। তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।
ওরা যখন প্লাটফরমে পৌঁছল তখন দেখতে পেল একটা ছেলে ট্রেনের একটা কামরা থেকে দ্রুত নেমে তীরবেগে ছুটে আসছে। চিনতে পারল ওকেÑ নাবিল। ওর হাতে কয়েকটা কাগজ লম্বালম্বি ভাঁজ করা। দলিল হবে, ভাবল ছেলেরা।

দশ.

নাদের পেছনে বসে ছিল। মোটরসাইকেল থামতেই দৌড় দিল ও।
নাবিলের পেছনে ছুটে আসছেন মিজানুর। কিছুতেই ছেড়ে দিতে রাজি নন পিচ্চিটাকে। কিন্তু দৌড়ে পেরে উঠছেন না।
বিপ্লব এদিক-ওদিক তাকিয়ে পুলিশ খুঁজল। কিন্তু না, কোথাও পুলিশের দেখা মিলল না। ওদিকে ট্রেনটা ছেড়ে দিয়েছে। ঠিকই পাঁচ মিনিট লেটে ছেড়েছে- হাতঘড়ি দেখে নিলো ও। ধীরে ধীরে প্লাটফরম ত্যাগ করছে ট্রেনটা।
নাদের ধরে ফেলল নাবিলকে। কোলে তুলে নিয়ে এদিকেই আসতে লাগল।
মিজানুর তখনও বেশ কিছুটা দূরে। থমকে দাঁড়ালেন তিনি। বুঝতে পারলেন আর লাভ নেই। ধরতে পারবেন না ওকে। তা ছাড়া পিচ্চিটার ভাইয়েরাও চলে এসেছে। সঙ্গে এসেছে বিচ্ছু ছেলেদের একটা। থমকে দাঁড়ালেন। এখন আপন প্রাণ বাঁচানোই শ্রেয়। ঘুরে দাঁড়ালেন। হাত দুটো প্যান্টের দু’পকেটে ঢোকানো। বোঝাই যায় পকেটে কী আছে। কিন্তু ট্রেনটা তখন প্লাটফরম ছেড়ে চলে গেছে। হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি।
ইতোমধ্যে নাসরুল্লাহ পুলিশ নিয়ে হাজির হয়েছেন। মিজানুরকে দেখিয়ে দিলেন তিনি। পুলিশ তাকে অ্যারেস্ট করল। হাতে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে গেল। যাবার সময় মিজানুর নাসরুল্লাহর দিকে তাকালেন করুণা প্রার্থনার ভঙ্গিতে। নাসরুল্লাহ মুখ ঘুরিয়ে রাখলেন।
ছেলেদের কাছে এগিয়ে এলেন নাসরুল্লাহ। কিছুক্ষণ কিছুই বলতে পারলেন না। আসলে মুখে কোনো কথা জোগাচ্ছে না।
নাবিল বলল, ‘চাচ্চু, এই নাও দলিল।’
নাবিলকে কোলে তুলে নিলেন নাসরুল্লাহ। বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে খুব করে আদর করতে লাগলেন। চুমু খেতে লাগলেন এখানে ওখানে। বললেন, ‘ওটা আমার দরকার নেই আব্বু। ওটা তোমার। আমি শুধু তোমাকেই চাই। আর কিছু চাই না আমি। আর কিছু চাই না।’ হুহু করে কেঁদে ফেললেন তিনি।
নাবিল তার চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলল, ‘ছি চাচ্চু, এভাবে কেউ কাঁদে নাকি? তুমি তো বড় মানুষ। লোকে মন্দ বলবে না! চলো, বাড়িতে চলো।’
‘কাল থেকে তুমি আবার স্কুলে যাবে।’ বললেন আবার নাসরুল্লাহ। ‘কেউ তোমার আর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমি তোমার আর কোনো ক্ষতি হতে দেবো না। তুমি আমার সোনা আব্বু!…’ হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছলেন। তারপর আবার বললেন, ‘হ্যাঁ আব্বু, বাড়িতে চলো। আর কখনও তোমাকে আমি মারব না। কক্ষনো না। কক্ষনো না সোনা।’
ওদের এই মিলনমেলা দেখে ছেলেরাও স্থির থাকতে পারল না। ওদের সবার চোখেই তখন পানি টলমল করছে।
নাহিদ ও নাদের তো তখন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে চলেছে। বিপ্লব ওদের সান্ত¡না দিল। কিছুটা শান্ত হলো ওরা তাতে।
এই সময় হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো তারেক ও ডিটু ভাইয়া। তারেক হড়বড় করে বলল, ‘ওখানে গুপ্তধনগুলো নেই!’
একজন পুলিশ কনস্টেবল এসে বলল, ‘এইগুলো নিশ্চয়ই আপনাদের জিনিস। আসামির পকেটে ছিল।’
নাহিদ নিলো ওগুলো। একটা পুঁটলিতে স্বর্ণের গহনা, যেগুলো ওরা জঙ্গলে পুঁতে রেখেছিল।
নাসরুল্লাহ বললেন, ‘তোমরা আজ দুপুরে আমাদের বাসায় খাবে। আর নাহিদ, তুই যা তোদের আম্মুকে নিয়ে আয়।’
নাবিল বলল, ‘চাচ্চু, আমি যাই নাহিদ ভাইয়ার সাথে?’
নাসরুল্লাহ বললেন, ‘ঠিক আছে, তুমিও যাও। আচ্ছা করে বকে দেবে তোমাকে এভাবে ফেলে রেখে গেছে বলে।’
নাহিদ সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নাবিলকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে স্টার্ট দিয়ে চলে গেল।
স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলল বিপ্লব। অবশেষে দলিল রহস্যের সমাধান হয়েছে। নাবিল তার কান্না ভুলে আবার হাসিখুশি হয়ে উঠেছে।
স্টেশনের পাশে একটা হিজল গাছ। গাছটার মগডালে একটা হলুদরঙা পাখি লেজ উঁচিয়ে লাফাচ্ছে আর মনের সুখে ডেকে চলেছে। যেন বলছে, ‘সময় খুবই মূল্যবান। একে হেলায় হারিয়ে ফেল না। নইলে শেষে পস্তাতে হবে। তাই সময় থাকতেই নিজের ভুল শুধরে নাও। এতে করে পরম সুখে তোমার হৃদয় ভরে উঠবে। কান্নারা ফিরে পাবে হাসির বার্তা।’

[সমাপ্ত]

SHARE

Leave a Reply