Home কুরআন ও হাদিসের আলো সবুজ ছায়া

সবুজ ছায়া

সুন্দর একটি বাড়ি। চারপাশে সবুজ আর সবুজ। যেন গ্রামের ভেতর আরেকটি গ্রাম। এ বাড়ির আঙিনায় পা রাখলেই বুকের ভেতর যেন ফুল ফোটে। চোখে নামে রূপকথার ছবি। কানে বাজে পাখির গান।
যার হাতে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এ বাগানবাড়ি, তিনি জনাব আনোয়ার হোসাইন খান। সবুজেই যার বসবাস। বাড়ির আশপাশেও তিনি গড়ে তুলেছেন ফুল-ফল-কাঠ ও ঔষধি গাছের বাগান। তার নেশা বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ তার ভালোবাসা। এ জন্য তার পরিচয় হয়ে গেছে ‘বৃক্ষমানব’। খান সাহেব প্রতিদিন একটি হলেও গাছের চারা লাগান। প্রতিদিন বাগানের পরিচর্যা করেন।
বিকেল হলেই নাতি-নাতনীদের নিয়ে গল্পে মেতে ওঠেন তিনি। কখনো ফুলের বাগানে। কখনো ডানা মেলা বৃক্ষের নিচে। একদিন তিনি গল্প করছেন। এক ফাঁকে তিনি লক্ষ করলেন, তার নাতি মূসা গল্প শুনছে আর আনমনে গাছের পাতা ছিঁড়ছে। মূসার চুল ধরে তিনি দিলেন এক টান। সে-তো ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল। বলল, এ-কী করলে দাদাভাই? খান সাহেব বললেন, আমাদের মহানবী (সা) এমনই করেছিলেন। তোমার মতো একজনকে গাছের পাতা ছিঁড়তে দেখে তিনি তার চুল টান দিয়ে বলেছিলেন, “তুমি যেমন শরীরে আঘাত পেলে ব্যথা পাও, গাছও তেমন ব্যথা পায়।” গাছেরও জীবন আছে, এ কথাটি বুঝতে পেরে পরম কৌতূহলে মূসা বলল, গাছ কাটলে কি গুনাহ হয় দাদাভাই? এ কথার জবাবে খান সাহেব একটি হাদিস শোনালেন। রাসূল (সা) বলেছেন, “যে বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটবে, আল্লাহ তার মাথা আগুনে নিক্ষেপ করবেন।” (আবু দাউদ)
এবার সরব হলো মূসার সাথে থাকা জামীল এবং জারীনও। তারা সমস্বরে জানতে চাইলো, গাছ আমাদের কী উপকারে আসে? মুচকি হেসে দাদাভাই বললেন, বৃক্ষ না থাকলে কোনো প্রাণীই বাঁচতে পারে না। বৃক্ষ আমাদের নিঃশ্বাস থেকে নির্গত বাতাস ও কল-কারখানার ধোঁয়া খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে পরিবেশ শুদ্ধ ও স্বাভাবিক থাকে। বৃক্ষ ও বনভূমি কমে যাওয়ার কারণেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
মূসা বলল, ও আচ্ছা! এ জন্যই কি তুমি ‘বৃক্ষমানব’? হেসে উঠলো সবাই। হাসলেন খান সাহেবও। বললেন, আমাদের মহানবী (সা) নিজেও অনেক বৃক্ষ রোপণ করেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, “কারো হাতে যদি কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তেও একটি গাছের চারা থাকে, সম্ভব হলে সে যেন তা রোপণ করে।” (আল-আদাবুল মুফরাদ)

– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply