Home কুরআন ও হাদিসের আলো ফল বাগান

ফল বাগান

মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে জারীরদের আমের বাগান। ছোট ছোট আমগুলো যেন বারবার উঁকি দিচ্ছে। এই তো, ক’দিন পরেই থোকা থোকা আমে ভরে যাবে প্রতিটি গাছের শাখা। জারীর বাগানে পায়চারি করছে আর অনাবিল আনন্দে গুনগুন করে গান গাইছে। হঠাৎ তার আনন্দে একটু ভাটা পড়ল। মনে পড়ল, প্রতি বছরই আব্বু আম পাড়ার দিন অ-নে-ক অ-নে-ক আম মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেন। এটা তার একদম ভালো লাগে না। কেন, শুধু শুধুই এতগুলো আম অন্যদের দিয়ে দিতে হবে?
ঘরে ফিরে আব্বুকে বলেই ফেলল তার কষ্টের কথাটা। আব্বু হাসলেন। বললেন, শোনো! তোমাকে একটি গল্প বলি। তখন তোমার মনে আর কোনো কষ্ট থাকবে না।
সে অনেক দিন আগের কথা। ইয়েমেনের যারওয়ান নামক গ্রামে এক দানশীল লোক বাস করতেন। তার ছিল অনেক সুন্দর একটি ফলের বাগান। তিনি বাগানের ফলমূল থেকে গরিব-দুঃখীদের অকাতরে দান করতেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলেদের মধ্যে একজন ছাড়া অন্য সবাই ভাবল, নাহ! এমন কাজ আর করা যাবে না। সিদ্ধান্ত নিলো, বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করবে খুব ভোরে। যাতে কেউ বুঝতেই না পারে। এমনকি তারা আল্লাহর নামটি পর্যন্ত স্মরণ করল না। কথা অনুযায়ী তারা একে অপরকে ডেকে নিয়ে চুপিচুপি বাগানের পথে পা বাড়াল। যাতে কোনো অভাবী লোক তাতে প্রবেশ করতে না পারে। কিন্তু বাগানের কাছে পৌঁছে তো তারা হতবাক। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে আছে। চিরচেনা সেই সবুজ নেই। রঙিন সব বাহারি ফলের চিহ্নমাত্র নেই। সবকিছু কালো রং ধারণ করে আছে। হায়! এ কি হলো। তারা হয়ে গেল দিশেহারা। তাদের মধ্যে যে ভাইটি ছিল শ্রেষ্ঠ, যে আগেও অন্য ভাইদের সাথে একমত ছিল না; সে বলল, আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতে বলিনি? এখন একে অপরের ওপর দোষারোপ করতে লাগল এবং তারা বুঝতে পারল যে, তাদের সিদ্ধান্তটা একেবারেই সঠিক ছিল না। তারা আল্লাহর কাছে প্রাণপণে ক্ষমা চাইল।
আব্বু বললেন, দেখলে তো! অহঙ্কারের কী পরিণতি। আর অসহায়-দরিদ্র মানুষদের বঞ্চিত করার পরিণাম এমনই হওয়া উচিত। জারীরও তার ভুল বুঝতে পারল। আব্বুকে বলল, আচ্ছা! এই গল্প তুমি কোথায় পেলে? আব্বু বললেন, আল-কুরআনের সূরা ‘কলাম’ এর সতেরো থেকে তেত্রিশ নম্বর আয়াতে এর বিবরণ আছে। তুমি সেখান থেকে পড়ে নিতে পারো।
জারীর অজু করে কুরআন পড়া শুরু করল। আর ভাবল, এখন থেকে তাদের বাগান থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত।

– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply