Home চিত্র-বিচিত্র ছদ্মবেশী পোকা । রাজু ইসলাম

ছদ্মবেশী পোকা । রাজু ইসলাম

ছদ্মবেশী পোকাপ্রাণীদের গঠনের ভিন্নতা আমাদের যেমন অবাক করে তেমনি ভালোও লাগে। বৈচিত্র্যময় প্রাণীদের রয়েছে নানা রকম কৌশল। সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রতিকূল পরিবেশে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ছদ্মবেশ ধারণ করে এসেছে বিভিন্ন প্রাণী। অনুকরণ করেছে অন্য কারো রূপ। এমনকি পোকাও দেখতে হয় ফুলের মতো!
অবাক লাগছে তাই না বন্ধুরা! অবাক লাগলেও সত্যি। এমন একটি পোকা আছে যা অর্কিডের আকার ধারণ করতে পারে। অর্কিড আমাদের অতি পরিচিত বিদেশি ফুল। প্রায় সব মানুষের কাছেই পছন্দের ফুল এটি। আমাদের ধোঁকা দিতে এই অর্কিডের রূপই ধারণ করছে অর্কিড ম্যান্টিস নামক এক ধরনের পতঙ্গ।
অর্কিড ম্যান্টিসের শরীর ঠিক অর্কিড ফুলের পাপড়ির মতো দেখতে। তাদের শরীরের রঙ ও আকৃতি দেখে বোঝাই যায় না যে এটি একটি পতঙ্গ। মনে হবে চমৎকার অর্কিড ফুল। অর্কিড ফুলের মতো দেহের বিচিত্র রঙের ছোঁয়া থাকায় এদের নাম হয়েছে অর্কিড ম্যান্টিস। এরা যখন কোন ফুলের ওপর বসে তখন এদের ফুল থেকে আলাদা করা খুবই দুষ্কর। ম্যান্টিস আর্থোপোডা পর্বের এক জাতীয় পতঙ্গ। অর্কিড ম্যান্টিস দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার রেইন ফরেস্টের এক বর্ণিল পতঙ্গ। এদের রঙ ও গড়ন শুধু দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই নয়, অনিন্দ্য রঙ ও গড়নকে এরা অসাধারণ নৈপুণ্যের সাথে খাদ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করে। বর্ণিল অর্কিড ফুলের আদলে নিজেদের ছদ্মবেশ সৃষ্টিকে এরা নিয়ে গিয়েছে শিল্পের পর্যায়ে। যেখানে কোনটি সত্যিকারের ফুল আর কোনটি ছদ্মবেশী পোকা, বোঝা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে। অর্কিডম্যান্টিস এতই বেশি প্রাকৃতিক অর্কিড ফুলের মতো দেখতে যে মানুষ শুধু নয়, বিভ্রান্ত হয় অন্যান্য প্রাণীও। সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ান একদল গবেষকের মতে পোকামাকড়েরা সত্যিকারের ফুলের চেয়ে এই পতঙ্গকে দেখে বেশি আকৃষ্ট হয়।
ছদ্মবেশী পোকাএমন ছদ্মবেশী রূপ ধারণ করা প্রাণীদের বেঁচে থাকার একটা কৌশল যাকে বলে ক্যামোফ্লাজ। মূলত শিকার ধরার জন্যই এই বেশ ধারণ অর্কিড ম্যান্টিসের। তাদের এরকম রূপ দেখে ফুল ভেবে আকৃষ্ট হয়ে পোকামাকড় মধু খেতে এলেই খপ করে শিকার ধরে ফেলে তারা। চালাকিই বটে। এ ছাড়াও শিকারের কাছ থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও অর্কিড ফুলের মতো শরীর কাজে আসে অর্কিড ম্যান্টিসের। এভাবে লুকিয়ে থাকার কারণে এদের শিকারি প্রাণী যেমন পাখিদের হাত থেকেও বেঁচে যায় পতঙ্গটি।
ছদ্মবেশী পোকাএদের শিকার করার ধরনটাও বেশ সুন্দর। এদের দেহের সামনের কাঁটাযুক্ত দুই পা শিকার ধরতে এবং বাকি চার পা যে কোনো কাঠামো ধরে থাকতে ব্যবহার করে। এরা ফুলের মতো ছদ্মবেশ ধরে অর্কিড গাছের ডালে দুলতে থাকে যতক্ষণ না কোনো শিকারকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়। বিজ্ঞানীদের মতে অর্কিড ম্যান্টিস পৃথিবীর একমাত্র পতঙ্গ যা শিকারকে আকৃষ্ট করতে ফুলের রূপে নিজেদের উপস্থাপন করে।
আকারের দ্বিরূপতায় এরা অন্যতম। একটি পুরুষ ম্যান্টিস একটি স্ত্রী ম্যান্টিসের অর্ধেকেরও বেশি ছোট হতে পারে। স্ত্রী অর্কিড ম্যান্টিস ৬-৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, আর পুরুষ অর্কিড ম্যান্টিস হয় মাত্র ২.৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা। এদের শরীরের রং হয় হালকা গোলাপি। সঙ্গে সাদার শেডও থাকে। আবহাওয়া, পরিবেশ ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে রঙ পরিবর্তন করতে পারে পতঙ্গটি।
এদের শরীরে অবস্থিত অর্ধ-স্বচ্ছ কোষগুলোই এদের অর্কিড ফুলের মতো ছদ্মবেশ ধারণে সাহায্য করে। সর্বোপরি সাদা ও গোলাপি আভায় রাঙা অর্কিড ম্যান্টিস প্রকৃতির এক সুন্দর সৃষ্টি।

SHARE

Leave a Reply