Home নিয়মিত স্বাধীনতার সুখ । ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

স্বাধীনতার সুখ । ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

স্বাধীনতার সুখমার্চ!
মহান স্বাধীনতার মাস!
বহু রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের মাঝে অর্জিত আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতা। এজন্যই তো এই স্বাধীনতা আমাদের এতো বড় গর্বের বিষয়। মানুষের স্বাধীনতা যদি না থাকে, তাহলে সেই মানুষের জীবন ভয়ানক কষ্টের হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার অর্থ ব্যাপক- বিশাল। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের সেই অগ্নিঝরা স্বাধীনতা প্রকৃত অর্থে আমাদের কাছে অনেক বেশি দামি ও মূল্যবান।
প্রাণপ্রিয় বন্ধুরা, এসো আজ গল্পচ্ছলে আমাদের সেই প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতার মূল্য একটু বুঝতে চেষ্টা করি।

মাহমুদ ও ছোট্ট নাবিল স্কুলের পর খুব বেশি একটা বাইরে যায় না। সারাদিন বাসায় থাকে। কিন্তু তাদের দাদাভাই ফোরকান উদ্দিন একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। তিনি সকাল হলেই মাঠের ধারে, নদীর পাড়ে, প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন। আর বিকেল হলেই গ্রামের পাঠাগার ও খেলার মাঠে সব মানুষের সাথে কথা বলে সময় কাটাতে খুব ভালো বাসতেন।
এ বিষয়টি মাহমুদ ও নাবিলকে ভাবায় কেন ফোরকান সাহেব এখন আর তেমন ঘরের বাইরে বের হন না। ফোরকান সাহেব মাঝে মাঝে তাদের দু’জনকে নিয়ে বাইরে যেতে চান, খেলতে চান এমনকি জীবনের গল্প শোনাতে চান। কিন্তু কোথায় যেন একটা ব্যথা অনুভব করেন। বাসার ভেতরে এবং বাইরে সব জায়গায় তিনি কেমন যেন চুপ করেই থাকেন। ইচ্ছে করেই নাতিদের জোর করেন না।
কিন্তু মাহমুদ ও নাবিল এ বিষয়টি নিয়ে আজকাল খুব ভাবছে। দু’জন মাঝে মাঝে আলাপ করে ঠিক করার চেষ্টা করছে, তাদের দাদা ঘুরতে ভালোবাসতেন, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন। কিন্তু এখন? এমন হাজার প্রশ্ন তাদের মাথায় আসে।
তবু যেন…
একদিন মাহমুদ নাবিলকে ডেকে বলল, ‘শোন, নাবিল। দাদাভাইয়ের কাছে জানা দরকার কেন তিনি চুপচাপ থাকেন?’
– ঠিক আছে ভাইয়া! কিন্তু আমরাতো দাদা ভাইয়াকে বুঝতে পারছি না। তিনি যদি রেগে ওঠেন?
– আরে না। রাগবেন না!
– কেন? তোমার কাছে কেন এমন মনে হলো?
– তবে শোন-দাদাভাইয়ার চোখে মুখে বিরক্ত হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং মনে হয় তিনি কোন বিষয় নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত।
এমন নানা কথাবার্তার পর দু’জন সিদ্ধান্ত নিলো আজ ফোরকান সাহেব বাসায় ফিরলে একসাথে মাগরিবের নামাজ পড়ে উঠানে বসে চাঁদের আলো দেখবে, আর নানাভাবে ফোরকান সাহেবের মনের অবস্থা জানার চেষ্টা করবে।
বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মাহমুদ ও নাবিল ঐ বিকেলে গাছে বসে থাকা পাখি, লতাপাতায় জড়িয়ে থাকা বাহারি নাম নাজানা ফুল দেখে বেশ বিমোহিত। নিজেদের অজান্তেই দু’জন বাড়ি থেকে একটু দূরে বড় দীঘির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তা খেয়াল করতে পারেনি। বরং দু’জনের চোখ তালগাছের মাথায় দোল খাওয়া বাবুই পাখির বাসার ওপর দৃষ্টি থামল।
এক দৃষ্টিতে দু’জন তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যেন ঝড় নেমে এলো খেয়াল করেনি। কিন্তু দেখল বাবুই পাখির বাসাটি ঝড়ের প্রচণ্ড আঘাতে এদিক সেদিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। তাতেও কেন জানি মনে হলো ভেতরে থাকা বাবুই পাখির মনে কোনো কষ্ট বা উদ্বিগ্নতা নেই। মাহমুদ ও নাবিল ভাবছে এত কষ্টের পরও তারা এ বাসায় থাকে কেন?
ভাবনার মাঝে দু’জনের মনে পড়ল ঝড়ের কারণে চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে। দেরি না করে বাসায় ফিরতে হবে। এ ছাড়া বাসায় সবাই অপেক্ষা করছে। দৌড়ে বাসায় ফিরে এলো। দু’জনে এতক্ষণে ভিজে একাকার হয়ে গেছে। ঝড়ের সময় বাইরে থাকায় মা হাসনা বেগম রেগে যান। কোন জবাব না দিয়ে মাহমুদ ও নাবিল জামা পালটিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা দাদা ফোরকান সাহেবের পাশে এসে দাঁড়াল। কোন কথা বলার আগেই দু’জনের নজর গেল তাদের বাবা আফজাল সাহেব যে ময়না পাখিটি পোষেণ তার দিকে। দু’জনেই খেয়াল করল বাইরে ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে গেল। চারদিকে কেবল নিকষ কালো অন্ধকার। তবুও খাঁচায় থাকা পাখিটি ছটফট করছে উড়ে যেতে। কিন্তু কেন?
মাগরিবের নামাজের পর দু’জন টেবিলে পড়তে বসল। কিন্তু তাদের পড়ায় মন নেই। মনের মধ্যে কেবল আসছে দাদা ফোরকান সাহেব এত চুপচাপ থাকেন কেন? বাবুই পাখি আর ময়না পাখির আচরণও কেমন যেন উদ্ভট! এসব ভাবনার মাঝে নাবিল হঠাৎ দাদা ফোরকান সাহেবকে টেনে এনে টেবিলের পাশে বসালো। এরপর এ-কথা সে- কথার মধ্যে মাহমুদ হঠাৎ ফোরকান সাহেবকে প্রশ্ন করে বসলো, ‘আচ্ছা দাদা ভাই, বলতো তুমি এত চুপচাপ থা কেন?’
ফোরকান সাহেব বেশ কিছুক্ষণ কোন জবাব দিলেন না। কিন্তু ছোট্ট নাবিল এবার জোর করল। নানা কিছু ভেবে ফোরকান সাহেব ভাবল সব বলে দেয়াই ভালো। কেননা এরা বড় হচ্ছে। এরা আগামীদিন দেশকে নেতৃত্ব দিবে। এদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ। এরা যদি সব না জানে, তবে ভুল তথ্য তাদের মাথায় থাকলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার পথ তৈরি হবে। এত কিছুর পরও নিজের মধ্যে ভয় কাজ করছে যদি এরা অতি সাহসী হয়ে ওঠে আর হানাদারদের রক্তশূলে পরিণত হয়!

বাবুই পাখি আর ময়না পাখির ইচ্ছাকে বুঝতে পারলেই বুঝতে পারবে প্রকৃত স্বাধীনতা কী?
বাবুই পাখি আর ময়না পাখির ইচ্ছাকে বুঝতে পারলেই বুঝতে পারবে প্রকৃত স্বাধীনতা কী?

এমন সময় নাবিল আচমকা জিজ্ঞেস করল, ‘দাদাভাই তোমার মনে কি সত্যি অনেক দুঃখ? না, তুমি ভয় পাচ্ছ?’ অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে ফোরকান সাহেব বললেন, ‘নারে দাদাভাই!’
এ জবাবে এরা দু’জন খুশি নয়। তবু উৎসাহ নিয়ে মাহমুদ জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা দাদাভাই, মানুষ তার অধিকারের কথা বলতে এত ভয় পায় কেন?’
এবার ফোরকান সাহেব সিদ্ধান্ত নিলেন সত্য প্রকাশ করাই ভালো। আর লুকিয়ে রাখলে মাহমুদ ও নাবিল উল্টাপাল্টা ভেবে ভেবে হয়তো এক সময় মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে যাবে। এর মধ্যে তিনি নিজের অজান্তেই নাবিলের বাংলা বইটি উল্টাতে উল্টাতে রজনীকান্ত সেনের লেখা ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতায় এসে চোখ রাখলেন। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে তিনি নাবিলকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘দাদুভাই এ কবিতাটি কি পড়েছ?’
– হ্যাঁ দাদাভাই, পড়েছি। কিন্তু বুঝি নাই।

বাবুই পাখির বাসাটি কত বৈচিত্র্যময় তার চেয়েও বড় কথা হলো-বাবুই পাখি সারাদিন মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারে
বাবুই পাখির বাসাটি কত বৈচিত্র্যময় তার চেয়েও বড় কথা হলো-বাবুই পাখি সারাদিন মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারে

– কেন? কেন? এত সুন্দর কবিতাটি কি স্কুলে ভালো করে বুঝিয়ে দেয়নি?
– না দাদু, সে রকম কিছু নয়। আমাদের স্যার যখনই কবিতাটি পড়াতে যান তখনই কেমন জানি কান্না কান্না ভাব দেখান। তার চেয়েও মজার বিষয় যখনই তাকে ‘স্বাধীনতা কী?’ জিজ্ঞাসা করা হয়, তখনই কেমন জানি ভয়ে ওনার পুরো মুখখানি ভরে যায়। উনার মুখ দিয়ে ফিসফিস করেও কথা বের হতে চায় না।
মাহমুদও তখন বলল, ‘হ্যাঁ দাদু আমাদের ওপরের ক্লাসে স্যারেরা কেমন জানি ভয়ে থাকেন। দেশ নিয়ে কথা বললে এড়িয়ে যান। কেবল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কথাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলেন।’
ফোরকান সাহেব এবার স্পষ্ট করে বললেন, ‘দাদাভাই তোমরা স্কুল থেকে এসে কেন বাইরে খুব একটা যেতে চাও না? কারণ ভয় পাও। চারদিকে আতঙ্ক! কিসের আতঙ্ক? আতঙ্কটি হলো গুনগুনিয়ে তোমার ভাষায় কথা বললে শাসকেরা খুশি হয় না। এই যে তোমার স্কুলে বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমাদের ভাওয়াইয়া, মারফতি, ভাটিয়ালি গান গাওয়া হয় না। এ হয় না বা হতে দেয়া হয় না এটাই পরাধীনতা। এটাই বন্দিদশা।
– কেন দাদাভাই? এটাকে পরাধীনতা বলে কেন? অন্য গানতো আমরা গাই? হিন্দি বা ইংরেজি গানতো গাইতে বলা হয়!
– হ্যাঁ দাদুভাই, সমস্যাতো এখানে। এসব গান শোনার পর কি আমাদের কারো মন ভরে? ভরে না। কেন ভরে না? কারণ, এগুলো আমার মনের কথা বলে না!
– ‘তাহলে কি আমাদের ভাষায় গান গাইতে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে?’মাহমুদ জিজ্ঞাসা করল।
– না, দাদাভাই। এর বাইরেও আরো অনেক বিষয় আছে। এ যেমন, তোমার পড়াশোনা শেষ করে তোমার পছন্দের চাকরি করতে চাইবে। কিন্তু তোমাকে সে চাকরি করতে যদি দেয়া না হয়! তখন কি তুমি একে স্বাধীনতা বলবে? তুমিতো স্বাভাবিকভাবে এখানে সেখানে যাচ্ছ, কিন্তু তোমার পছন্দের কাজ করতে পারছ না! আবার ধর তুমি কোন কলকারখানা তৈরি করে ব্যবসা করছ। কিন্তু তোমার ব্যবসার টাকা কেউ নিয়ে যাচ্ছে! তখন তোমার কেমন মনে হবে?
ফোরকান সাহেবের এমন জবাবে মাহমুদ ও নাবিল কিছুটা ভাবনায় পড়ে গেল। সত্যিতো এমন করে কোন দিনতো ভাবেনি। আর তখনি নাবিল জিজ্ঞাসা করল, আর এই যে সবার মাঝে এত ভয়! এ ভয় কেন?’
ফোরকান সাহেব তখন ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসলেন। হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো যেন মনে হয় সবার সামনে আছড়ে পড়বে এক্ষুনি। তবুও শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘মনে পড়ে দাদুভাই, ঐ যে তোমার শিক্ষকেরা তোমাদের প্রশ্নের জবাবে কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কোন জবাব দেন না! তাদের চোখে মুখে কেবলই ভয়। এ ভয়ের কারণ পরাধীনতা।’
– কিন্তু দাদাভাই, আরেকটা প্রশ্ন- তালগাছের পাতায় বাবুই পাখিরা শত বাধাবিপত্তি, ঝড় ঝাপটার পরও নিজেদের বাসায় থাকতে খুব আনন্দ পায়। অথচ দেখ তোমাদের বাবা যে ময়নাটি পুষছে তাকে প্রতিদিন আমরা সবাই কত খাবার দিচ্ছি, আদর করছি; এমনকি পাখিটিকে আমাদের ভাষাও শিখিয়েছি। তবুও পাখিটা সব সময় ছটফট করছে কখন সে মুক্তি পাবে। কেন?’
– দাদাভাই তোমরা ঠিক ধরেছ। বাবুই পাখি আর ময়না পাখির ইচ্ছাকে বুঝতে পারলেই বুঝতে পারবে প্রকৃত স্বাধীনতা কী?
– বল না দাদাভাই, প্রকৃত স্বাধীনতা কী?
– তবে শোন, বাবুই পাখির বাসাটি কত বৈচিত্র্যময় তার চেয়েও বড় কথা হলো-বাবুই পাখি সারাদিন মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারছে কি না। ও নিজের পছন্দমত খাবার সংগ্রহ করে, যেখানে যখন খুশি তাই করে। নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করে। আবার মনের আনন্দে গান গায়। আর এ ময়না কত কিছু খায়, কিন্তু সে কি নিজের পছন্দে খাবার খেতে পারে? না, পারে না। এমনকি সে যখন যেখানে খুশি যেতে পারে? না, তাও পারে না। আবার দেখ এ ময়না পাখির নিজস্ব একটা ভাষা আছে সে কি তার ভাষায় আওয়াজ করতে পারে? না, পারে না তো। এমনকি দেখ, সে অন্য কোন পাখির সাথে মেলামেশাও করতে পারে না। তাই ও সারাদিন সুযোগ খুঁজে কখন খাঁচা ভেঙে বাইরে যাবে। এ বাসনা কেবল মানুষের নয় প্রতিটি প্রাণীরও।
– দাদাভাই তুমি কি বলবে আর কিভাবে একজন মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে?
– শোন শান-শওকত খাবার- পোশাক-আশাকে কারো স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় না। স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় মানুষ যখন নিজের ইচ্ছামত ঘুরে বেড়াতে পারে এবং নিজের পছন্দমতো এখানে সেখানে যেতে পারে, ব্যবসা- চাকরি করতে পারে। নিজের ভাষায় কথা বলতে পারে এবং অন্যের পছন্দকে সম্মান জানাতে পারে। এ ছাড়া সমাজে ভয়ের কোনো লক্ষণ থাকবে না তাহলে কেবল স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।
এভাবে অনেকক্ষণ স্বাধীনতার বিষয়ে কথা হলো। কিন্তু মাহমুদ ও নাবিল তখনও বুঝতে পারেনি স্বাধীনতার সুখ সত্যিকার অর্থে কোথায় লুকিয়ে থাকে এবং তাকে কিভাবে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। দুই নাতির মনের অবস্থা ঠিক ফোরকান সাহেব বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বললেন, ‘যাও দাদাভাই তোমরা ঘুমিয়ে পড়। সকাল হলেই দেখাব স্বাধীনতার সুখ কোথায়।’
এরপর সবাই মিলে খাবার শেষ করে যার যার বিছানায় ঘুমাতে গেল। কিন্তু নানা ভাবনায় আচ্ছন্ন থাকায় মাহমুদ ও নাবিলের ঘুম হয়নি। তারা কেবল ভাবতে লাগল সত্যি দাদাভাই কি পারবেন স্বাধীনতার সুখ কি তা বুঝিয়ে দিতে। ভাবনার মাঝেই ভোর হলো। সূর্য পূর্ব আকাশে হেলান দিয়ে একটু একটু করে পশ্চিমমুখী হয় এগিয়ে চলছিল। ঠিক সে সময়েই ফোরকান সাহেব ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি গায়ে লাগিয়ে দুই নাতিকে চড়া কণ্ঠে ডাকলেন। মাহমুদ আর নাবিল এমন হুড়মুড় করে বেরিয়ে এলো যেন তারা যুদ্ধে যাচ্ছে।
স্বাধীনতার সুখফোরকান সাহেব কোন কথা বললেন না। কেবল ময়না পাখির খাঁচাটি হাতে নিয়ে বাড়ির উঠানে নেমে এলেন। ধীরে ধীরে পাখির খাঁচার দরজা খুলে দিলেন। আর ওমনি ময়নাটি ফুড়ুৎ করে নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে গেল। যাবার সময় একবারও পেছন ফিরে তাকায়নি। মজার বিষয়টি তারা খেয়াল করল ময়না এখন আর তাদের ভাষায় আওয়াজ করেনি। বরং নিজের ভাষায় শব্দ করে জানান দিলো সবাইকে যে, সে এখন স্বাধীন!
এ দৃশ্য দেখে মাহমুদ আর নাবিলের চোখ বেয়ে নেমে আসা পানি মুছতে মুছতে ফোরকান সাহেব বললেন, ‘দেখ দাদাভাই, ঐ উঁচু তালগাছের মাথায় বাবুই পাখি বাসা থেকে বলছে “কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।/ পাকা হোক, তবু ভাই, পরেরও বাসা,/ নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচাঘর, খাসা।”
আর ফোরকান সাহেবও তাদের জড়িয়ে ধরে বললেন ‘দাদাভাই এটাই স্বাধীনতার সুখ!’
এটা মার্চ মাস। মার্চ মানেই স্বাধীনতার মাস। আমরাও যেন স্বাধীনতার সুখ হৃদয় ভরে নিতে পারি সেই প্রত্যাশাই করছি।

SHARE

Leave a Reply