Home চিত্র-বিচিত্র লাল পান্ডা । নুসাইবা মুমতাহিন

লাল পান্ডা । নুসাইবা মুমতাহিন

অদ্ভুত একটি প্রাণী। দেখতে অনেকটা বিড়ালের মত। দেখতে গোলগাল, লেজ ফোলা। বিড়ালের মত দেখতে হলেও মুখটা কেমন ভল্লুকের মতো।অদ্ভুত একটি প্রাণী। দেখতে অনেকটা বিড়ালের মত। দেখতে গোলগাল, লেজ ফোলা। বিড়ালের মত দেখতে হলেও মুখটা কেমন ভল্লুকের মতো। এই অদ্ভুত সুন্দর প্রাণীটির নাম হলো লাল পান্ডা। কেউ কেউ একে ছোট পান্ডা, বিড়াল পান্ডা ইত্যাদিও ডেকে থাকে।
লাল পান্ডারা পৃথিবীর খুব বিরল একটা প্রাণী। এরা প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথেই আছে। তাই চাইলেও তোমরা এই প্রাণীকে সহজে কোথাও দেখতে পাবে না। খুব বড় কোনো চিড়িয়াখানা, নেপাল বা ভারতের শীতল পাহাড়ি অঞ্চল, মধ্য চায়না আর মিয়ানমারের কিছু এলাকা। ব্যাস এই কয়টা জায়গাতেই শুধু এই প্রাণীটিকে দেখা যায়। তাও খুবই অল্প পরিমাণে।
লাল পান্ডা প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮২১ সালে। অথচ জায়ান্ট পান্ডা আবিষ্কৃত হয় এর ৪৮ বৎসর পরে ১৮৬৯ সালে। বনের ভিতর মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে এদের অবস্থা ধীরে ধীরে সঙ্গিন হয়ে উঠেছে। যার জন্য এদের নাম বিপন্ন প্রজাতির খাতায় উঠে গেছে। নেপাল ও চীনের দক্ষিণ প্রান্তের বনে এই লাল পান্ডার বাস। এদের নামকরণ করা হয়েছে নেপালি ভাষায়। নেপালি ভাষায় “nigalya ponya” শব্দের অর্থ যেসব প্রাণী বাঁশ এবং বিভিন্ন ধরণের গাছ খায় আর চীনা ভাষায় এদের নাম Hunho অথবা Firefox, গায়ের রং এবং আকারের জন্য এদের এরকম নাম হয়েছে। ইংলিশ নাম Shining cat বা The Red Panda। খুব জোরে জোরে চিৎকার করে বলে এদেরকে সহজেই দেখা যায়। এরা সম্পূর্ণরূপে উদ্ভিদভোজী। লাল পান্ডা তাদের শরীরের ওজনের ৪৫ ভাগেরও বেশি ওজনের খাবার খেয়ে থাকে। দিনে প্রায় ২০০,০০০টি বাঁশের পাতা এরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এদের কথা প্রথম লিখিত অবস্থায় পাওয়া যায় ১৩শ শতকের ছৌ রাজবংশের সময়।
এরা রেকুন প্রজাতির প্রাণী। দেখতেও প্রায় রেকুনের মত। লাল পান্ডা বেশ লাজুক এবং শান্ত। দিনের বেশির ভাগ সময় গাছের ডালে ঘুমিয়ে কাটায়। সমস্ত শরীর লাল রঙ দিয়ে মোড়ানো।
অদ্ভুত একটি প্রাণী। দেখতে অনেকটা বিড়ালের মত। দেখতে গোলগাল, লেজ ফোলা। বিড়ালের মত দেখতে হলেও মুখটা কেমন ভল্লুকের মতো।লাল পান্ডারা আট বছর মতো বাঁচে। ওদের দৈর্ঘ্য হয় ২০-২৬ ইঞ্চি সঙ্গে মোটাসোটা একটা ১২ থেকে ২০ ইঞ্চি লম্বা ল্যাজ থাকে। যেহেতু লাল পান্ডারা শীতল পাহাড়ি অঞ্চলে থাকে ওদের শরীর পুরু নরম লোম দিয়ে আবৃত থাকে। ঠিক যেন দামি কোনো কোট। এই সব কিছু নিয়ে একটা লাল পান্ডার ওজন মাত্র ১২ থেকে ২০ পাউন্ড হয়।
এরা আকারে গৃহপালিত বিড়ালের চেয়ে একটু বড়।
এদের শরীরের প্রধান রং বাদামি, পেট, গলা ও বাহুগুলো কালো রঙের। মাথা, মুখ, চোখ ও হাত-পায়ের সম্মুখভাগ সাদা রঙের। জায়ান্ট পান্ডার মত এদের অতিরিক্ত একটা বৃদ্ধাঙ্গুলি আছে। এটা আসলে কোন আঙ্গুল নয়, শরীরের একটা হাড়ের বর্ধিতাংশ মাত্র।
এরা প্রধানত বাঁশ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এ ছাড়াও বিভিন্ন রকমের ফল, গাছের শিকড় এবং মাঝে মধ্যে পাখির ডিম এবং ছানা খেয়ে থাকে।
১-৪ বৎসরের মধ্যে স্ত্রী প্রজাতির লাল পান্ডা বাচ্চা প্রসব করে। এদের গর্ভধারণকাল ১১২-১৫৮ দিন। একবারে এরা তিনটার বেশি বাচ্চা প্রসব করে।
এরা সাধারণত সকাল এবং অপরাহ্নে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এই সময় তারা খাবার খেয়ে থাকে। আর দিনের অন্যান্য সময় ঘুমিয়ে কাটায়। এরা সাধারণত একা থাকে। তবে প্রজননকালে জোড়া বাঁধে।
যদিও লাল পান্ডার সংখ্যা কম, তবে এ ছাড়াও এদের সহজে দেখতে না পারার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। এই প্রাণীরা মাটিতে পা-ই ফেলে না। তাদের বাস উঁচু উঁচু গাছের মগডালে। সেইসব ডালে বসে তারা খায়, ঘুমায়। তা ছাড়া এই প্রাণী নিশাচর। দিনের বেলায় এরা গাছের ওপরে ঘুমিয়ে থাকে। রাত নামলে এদের কার্যকলাপ শুরু হয়।
লাল পান্ডা দেখতে বিড়ালের মতো হলেও এদের কাজ, পছন্দ-অপছন্দ সব কিছু জায়েন্ট পান্ডাদের মতো। এরা খুব আদুরে, নিজেদের মতো থাকতে ভালোবাসে।
লাল পান্ডা কিন্তু খুবই পরিচ্ছন্ন প্রাণী। এরা সারাদিন নিজের গা চেটে চেটে পরিষ্কার করতে থাকে। এমনকি যখন ঘুমিয়ে থাকে তখনও। গায়ের মধ্যে এক কণা ধুলাও ওদের পছন্দ না।
অদ্ভুত একটি প্রাণী। দেখতে অনেকটা বিড়ালের মত। দেখতে গোলগাল, লেজ ফোলা। বিড়ালের মত দেখতে হলেও মুখটা কেমন ভল্লুকের মতো।লাল পান্ডাকে বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকির প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সারা পৃথিবীতে এদের সংখ্যা কমতে কমতে এমন দাঁড়িয়েছে যে তারা নিজেদের মধ্যেই বংশবৃদ্ধির জন্য সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না। লাল পান্ডারা যে দেশগুলোতে বাস করে সেদেশের মানুষেরা দ্রুত বন উজাড় করে বসতি বানাচ্ছে। এদিকে পান্ডার খাবার হলো বাঁশ। এভাবে বাঁশ এবং থাকার জায়গা কমে যাওয়ায় লাল পান্ডারা মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়ছে। এর বাইরে প্রাণী শিকারের মতো কাজগুলো তো আছেই।
তাই আমাদের উচিত লাল পান্ডাদের প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করা। শুধু লাল পান্ডাই নয়, এমন অন্য অনেক প্রাণী আছে যাদের বেঁচে থাকার জন্য চাই মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা।

SHARE

Leave a Reply