Home প্রচ্ছদ রচনা বিজয় আমার বিজয় সবার । জয়নুল আবেদীন আজাদ

বিজয় আমার বিজয় সবার । জয়নুল আবেদীন আজাদ

বিজয়-আমারস্বাধীনভাবে বাঁচতে হলে প্রয়োজন স্বাধীন দেশ। স্বাধীন দেশেই মানুষ নিজেকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারে, পারে স্বপ্ন পূরণ করতেও। তাই তো স্বাধীন দেশ আমাদের এতো প্রিয়। নিজের দেশকে আমরা সবাই ভালোবাসি। কিন্তু দেশকে চিনি কতোটা?

দেশকে যতো চিনবো, ভালোবাসা বাড়বে ততো। আজকে দেশকে চেনার একটা সহজ পরীক্ষা নেবো। পরীক্ষাটা তোমাদের দিয়েই নেয়াবো। তোমরা সবাই নিজের খাতায় বাংলদেশের ১৫টি নদীর নাম, ১৫টি ফুলের নাম, ১৫টি পাখির নাম, ১৫টি গ্রামের নাম, ১৫টি ফলের নাম লিখতো। যারা পারলে তারা তো পরীক্ষায় পাস করলে। আর যারা পারলে না, তারা দেশকে চেনার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছো। দেশকে আসলেই যদি ভালোবাসতে চাও, তাহলে তো চেনার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলে চলবে না।


ছোটদের মূল কাজটা হলো, নিজকে গড়ে তোলা। ছোটরা নিজেদের জ্ঞানে, গুণে এবং নৈতিকতায় পুষ্ট করলে জাতি আগামীতে যোগ্য নাগরিক পাবে।


বিজয়-আমারবন্ধুরা, দেশকে চেনার আর একটি ভালো উপায় হলো দেশের ইতিহাসকে জানা। আমাদের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল তারিখ হলো ১৬ ডিসেম্বর। এদিন আমরা পালন করে থাকি মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবসের কথা বলতে গেলে চলে আসে বিজয়-সংগ্রামের কথা। আর আমাদের বিজয়-সংগ্রাম হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম। পাকিস্তানের স্বৈরশাসকরা এই জনপদের মানুষের ভোটের রায়কে মেনে নেয়নি। তারা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, দেশ শাসনের অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। অস্ত্রের ভাষায় জনপদের মানুষকে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু জাগ্রত জনতাকে তারা রুখতে পারেনি। জাতির স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে বীর জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। জীবন ও রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ হয় শত্রুমুক্ত। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে জাতি স্মরণ করে মহান বিজয় দিবস হিসেবে। এদিন ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর ৯০ হাজার সদস্য বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে জাতি এই দিনটি উদযাপন করে থাকে। ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে প্রত্যুষে দিবসটির সূচনা ঘোষণা করা হয়। এদিন রাজধানী ঢাকায় সামরিক কুচকাওয়াজে সবধরনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করে থাকেন। এ কুচকাওয়াজ দেখার জন্য শত সহস্র লোক জাতীয় প্যারেড-স্কয়ারে সমবেত হয়ে থাকেন। স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এদিন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিজয় দিবসে বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও মাঠে এবং মিলনায়তনে উদ্দীপনমূলক ও দৃষ্টিনন্দন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
মানুষ তো স্বাধীন থাকতে চায়, তাই স্বাধীন দেশ সব মানুষের কাম্য। যেমন কবি বলেছেন-
‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে
কে বাঁচিতে চায়
দাসত্ব-শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে
কে পরিবে পায়?’


আমাদের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল তারিখ হলো ১৬ ডিসেম্বর। এদিন আমরা পালন করে থাকি মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবসের কথা বলতে গেলে চলে আসে বিজয়-সংগ্রামের কথা


১৬ ডিসেম্বর আমাদের স্বাধীন দেশের স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে। বিজয়ের এই দিনে সবাই মন খুলে কথা বলতে চায়।
বিজয়-আমারমনের আনন্দে কথা বলতে চায় শিশু-কিশোররাও। কবি ওদের মনের খবর রাখেন। তাই তো লিখেছেন-
বিজয় আমার দেশের মাটি
বিজয় গোলার ধান
বিজয় আমার দোয়েল পাখি
মিষ্টি মধুর গান।

বিজয় আমার মায়ের ভাষা
বিজয় মুক্ত হাসি,
বর্ণমালার পাতায় পাতায়
বিজয় রাশি রাশি।

বিজয় আমার এই পতাকা
লাল-সবুজে গড়া
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে
এই পতাকাই ওড়া।
বিজয় আমার দীপ্ত শপথ
দেশ ও জাতির জন্য,
বিজয়-পরাগ ছড়াবো আজ
হবো আমি ধন্য।

বিজয় দিবসে দেশ ও জাতিকে ভালোবেসে কাজ করার শপথ নেয়া হয়। দেশপ্রেমিক মানুষতো এমন শপথই নেবে। দেশকে, দেশের মানুষকে ভালোবাসলে কাজ করে দেখাতে হয়। কারণ মুখের কথা সত্য হয়ে ওঠে কাজের মাধ্যমেই। আমাদের সামনে অনেক কাজ। আমাদের সমস্যা আছে, আছে সম্ভাবনাও। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও আমরা উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে পারিনি। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। এ বিষয়ে বড়রা কাজ করছেন, তবে ছোটদেরও কিছু করণীয় আছে। ছোটদের মূল কাজটা হলো, নিজকে গড়ে তোলা। ছোটরা নিজেদের জ্ঞানে, গুণে এবং নৈতিকতায় পুষ্ট করলে জাতি আগামীতে যোগ্য নাগরিক পাবে। আর আমরা তো এ কথা জানি যে, দেশকে উন্নত দেশের কাতারে শামিল করতে হলে অনেক যোগ্য নাগরিকের প্রয়োজন। যোগ্য নাগরিকেরা কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হন। এ কথাটাই কবি ছন্দে বলেছেন-
‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।’
মহান বিজয় দিবসের এই বেলায় অনেক কথাই বলা যায়। তবে বর্তমান সময়ে ‘নিজকে গড়ে তোলা’ এবং দায়িত্বের আলোকে ‘কর্মসম্পাদন’-এর বিষয়টাই বোধ হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সময়ের এই দাবি পূরণে সফল হলে আমাদের বিজয় দিবস উদযাপন সার্থক হয়ে উঠবে।

SHARE

Leave a Reply