Home তোমাদের গল্প পাখির উপহার । খালিদ নিসাদ

পাখির উপহার । খালিদ নিসাদ

সৈয়দপুরের এই বাসাটায় আমরা নতুন উঠেছি।

মূল শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার ভেতরে। এখানে মূল শহরের দূষিত বায়ু ও গাড়ির প্যাঁ…পুঁ.. শব্দের কোন ভয় নেই।

ভোরে পাখিদের মিছিলের শব্দে, যে কেউ ইচ্ছা করলেও ঘুমাতে পারবে না। বাবা গুড়ের মিলে কাজ করে, বেশ কয়েক মাস ধরে মিল ভালো চলছে না। তাই বেতনও ঠিকমত দেয়া হচ্ছে না কর্মচারীদের। খরচ বাঁচাতে বাবা হলুদডাঙা অঞ্চলের এই বাসাটায় আমাদের এনেছে। এক বিকেলে ক্রিকেট বলটা ফেটে গেল। হন্তদন্ত হয়ে যখন নতুন ক্রিকেট বলের চাঁদার টাকাটা আনতে বাসায় গেলাম তখন দেখলাম বাসায় হুলস্থূল কাণ্ড। বড় আপুর একমাত্র সোনার হারটা আর পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ির সবার মুখে বিষাদের ছায়া। রাত পেরিয়ে সকাল কিন্তু হারের আর কোন চিহ্ন পাওয়া গেল না।

তবে প্রতিদিন সকালের মতো হলুদ আর নীল রঙ মিশ্রণের পাখিটা হাজির।

প্রতিদিন বড় আপুই ওকে খেতে দিত। তবে আজ ও অনেকক্ষণ বসে থেকেও খাবার পায়নি।

সন্ধ্যা থেকেই লোডশেডিং, কোথায় যেন তার মেরামত চলছে। আমরা কয়েকজন লোডশেডিংয়ের কারণে মাঠের শিমুল গাছটার নিচে বসে ছিলাম। রাত ৯টা-১০টা নাগাদ দেখলাম ৪০-৫০ জনের একটা দল আমাদের হলুদডাঙার দিকে যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দু’ চার মিনিটের ভেতর পাড়ায় শোরগোল শুনতে পেলাম। এরা যে ডাকাত তা আমি মাত্রই বুঝতে পারলাম। তবে হুট করে যেমন এসেছিল তেমন হুট করে চলেও গেল।

তার কিছুক্ষণ পর পাড়ায় এসে জানতে পারলাম আমাদের বাড়িসহ আর ৯টা বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ২-১ জন আহত হলেও কেউই মারা পড়েনি।

আলমারির ১০ হাজার টাকা আর মায়ের হাতের বালাটা গেছে। এ ছাড়া ওরা আর কিছু পেল না। পাবেই বা আর কী। কোন সম্বলই আর রইল না।

দেখতে দেখতে আর একটা সকাল এল।

হলুদ-নীল পাখিটা আবারও সকালে হাজির। বড় আপা ফিরেও তাকায়নি ওর দিকে। আমি চোখ ফিরাতেই দেখলাম ওর ঠোঁটে আপার হার। হলুদ-নীল আর স্বর্ণের এক অপূর্ব মিশ্রণ।

SHARE

Leave a Reply