Home কুরআন ও হাদিসের আলো সোনার কলস

সোনার কলস

 

মামার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বহুদূর চলে এসেছে আনান। গ্রামের সবুজপথ, পথের দু’পাশে ফসলের মাঠ- এক অন্যরকম ভালো লাগার আবেশ তৈরি করেছে মনে। তা ছাড়া, এই রুপালি বিকেলের পরিবেশটাও মনোরম। চারদিকে আলো-ছায়ার লুকোচুরি আর ঝিরিঝিরি হাওয়ার সঙ্গীত! মামা বললেন, চলো- এবার কোথাও একটু বসি। ওই তো, ওই বটগাছটার নিচেই।

এই বটগাছটা অনেক পুরনো। অনেক কিছুর সাক্ষী হয়ে সে আজও দাঁড়িয়ে আছে পথের পাশে। ভাষা থাকলে সে হয়তো বলতে পারতো- কত মানুষের স্মৃতি জমা আছে তার কাছে। কত ইতিহাস জানে সে! এসব বলতে বলতেই মামার চোখ গেল একটি মানিব্যাগের ওপর। তাদের পাশেই পড়ে আছে। আনান বলল, মামা! দেখি ভেতরে কী আছে। মামা তার হাত ধরে বললেন, প্রয়োজন নেই। হয়তো কোনো পথিক ফেলে গেছে মনের ভুলে। আর এর মালিক তো আমরা নই। পথে যদি সোনা-দানাও পড়ে থাকে, কখনো তা ছুঁয়েও দেখবে না।

মামা বললেন, আজ তোমাকে এক অপূর্ব সততার গল্প শোনাবো। আনান নড়েচড়ে বসলো। – দেখো! ওই যে একজন কৃষক তার জমিতে কাজ করছে। সে যদি সেখানে কোনো গুপ্তধন পেয়ে যায়, তখন কী করবে সে? আনান বলল, কেন! সে তার বাসায় নিয়ে যাবে। সুখের দিন ফিরে এসেছে ভেবে সে আনন্দে আত্মহারা হবে- এটাই তো স্বাভাবিক! মামা বললেন, তা স্বাভাবিক বটে! তবে এর বিপরীত ঘটনাও ঘটেছে পৃথিবীতে।

তাহলে শোনো- এক লোক একটুকরো জমি কিনেছিল। লোকটা সেই জমিতে পেয়ে গেল সোনাভর্তি এক কলস! যার থেকে সে জমি কিনেছিল, তার কাছে গিয়ে বলল- ভাই! আমি জমি কিনেছি, সোনা কিনিনি। এগুলো আপনার। তখন ওই লোক বলল- আমি জমি এবং জমিতে যা আছে সবই বেচে দিয়েছি। সুতরাং এগুলো আপনারই। আনান বলল- এমন সততার গল্প তো আর কখনোই শুনিনি। এরপর কী হলো মামা? -এরপর তারা অন্য একজনের কাছে গেলো ফয়সালার জন্য। তিনি বললেন- তোমাদের কোনো ছেলে-মেয়ে আছে? একজন বলল- আমার একটি ছেলে আছে। অন্যজন বলল- আমার একটি মেয়ে আছে। ফয়সালাকারী বললেন- ‘তাহলে তোমার মেয়ের সাথে তার ছেলের বিয়ে দাও। এ সোনা থেকেই বিয়েতে খরচ করো। তারপর যা থেকে যাবে- উভয়ের মাঝে ভাগ করে দাও।’ (বুখারি)। বাহ! কী চমৎকার ফয়সালা। বলল আনান।

মামা বললেন- আমরা সবাই যদি এমন হতে পারতাম! তাহলে ভালোবাসায় ভরে উঠতে চারদিক। এ সবুজ পৃথিবী হয়ে উঠতো আরও সবুজ।

-বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply