Home ফিচার হারিকেন ও কুপিবাতি অতীত এবং বর্তমান – আবদাল মাহবুব কোরেশী

হারিকেন ও কুপিবাতি অতীত এবং বর্তমান – আবদাল মাহবুব কোরেশী

প্রযুক্তির এই যুগে আমরা গ্রাম-বাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়েছি। হারিয়েছি পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রে ব্যবহৃত অতি-অপরিহার্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছু, যা ছিলো একেবারেই মানুষের অতীব প্রয়োজনীয় জিনিস। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা আর নিত্যনতুন আবিষ্কারের ফলে এসব প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে ঢেঁকি, পালকি থেকে শুরু করে লাঙ্গল, জোয়াল, মইসহ অনেক কিছু। আবার অনেক সামগ্রী বিদায়ের প্রহর গুনছে। হয়ত ইতোমধ্যে তারা বিলুপ্ত হবে খুব নীরবে এবং নিঃশব্দে। বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার এদের স্থান দখল নিয়েছে বেশ দাপটের সাথে। এক সময়ের দুর্দান্ত দাপট নিয়ে চলা এসব সামগ্রী বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম তার শিশুসন্তানদের কিচ্ছা-কাহিনীতে ব্যবহার করে ঘুমের সঙ্গীত শুনাবে সন্দেহ নেই। অথবা বার্ষিক ক্যালেন্ডারের ছবি করে এসব জিনিসের হারানো গৌরবময় ইতিহাস জাতির কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। কিংবা ডাস্টবিনের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। তা শুধু সময়ের কাছেই ছেড়ে দেয়া উত্তম। সময়ই বলে দেবে তাদের যথাযথ নিবাসের আসল ঠিকানা। তবে এ কথা শতভাগ আস্থার সাথে বলা যায় যে, কালের বিবর্তনে যারাই হারিয়ে যাচ্ছে বা গেছে তারা যে এ নবযুগে আবার তাদের হারানো জৌলুস নিয়ে সগৌরবে ফিরে আসবে, সেটা অসার কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। তবে আমরা আশা করতে পারি অথবা দাবি জানাতে পারি, হারিয়ে যাওয়া এসব সামগ্রী চার দেয়ালে আবদ্ধ কোন এক জাদুঘর কক্ষে রেখে তার নিজের অতীত মহিমা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ যেন করে দেয়া হয়। বন্ধুরা, এ রকম এক হারিয়ে যাওয়া সামগ্রী হচ্ছে গ্রামবাংলা তথা মানুষের অতি-পরিচিত এবং শতভাগ প্রয়োজনীয় জিনিস হারিকেন ও কুপিবাতি। ভিন্ন খানে ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও হারিকেন ও কুপিবাতি নামেই ওরা সবার কাছে পরিচিত। যা অতীতে আমাদের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলো। চিরচেনা এ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী দেশের প্রত্যন্ত কোন এক অঞ্চলে দেখা গেলেও আজ সেটা প্রায় বিলপ্তির রাস্তায় পা রেখেছে। সেই বিলুপ্ত প্রায় হারিকেন আর কুপিবাতি নিয়েই আজ আমাদের বিস্তর আলোচনা।

হারিকেন ও কুপিবাতি কী

কুপিবাতি

হারিকেন ও কুপিবাতি কী? হারিকেন হলো কেরোসিন তেলের মাধ্যমে বদ্ধ এক কাচের পাত্রে ঢাকা আলো জ্বালানোর এক সুব্যবস্থা। যার বাইরের অংশ হালকা কাচের আবরণ দিয়ে মোড়ানো থাকে, যার কোনটা লম্বাটে আবার কোনটা মধ্যম চ্যাপ্টা গোলাকার। যাকে আমরা চিমনি বলে থাকি। চিমচির ভেতরের অংশে থাকে একটা ছোট ছিপি এবং ছিপির মধ্যখানে থাকে আলো জ্বালানোর জন্য এক টুকরো কাপড়। ছিপির মধ্যে সে কাপড়ের টুকরা ঢুকিয়ে একটি ছোট গিয়ারের মাধ্যমে ওঠা-নামা করানো যায় এবং আলো কমানো বা বাড়ানোর কাজ হয়ে থাকে। হারিকেনের নিচের অংশে থাকে তেল ধারণ করার জন্য ছোট্ট একটা ট্যাংকি। সে ট্যাংকির তেল কাপড়ের টুকরো শোষণ করে আলো বিলিয়ে দেয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে এবং কাপড়ের টুকরোর মাথায় অগ্নি সংযোগের ফলে সে আলো দিয়ে থাকে। তবে কাপড়ের টুকরো কতক্ষণ আলো দেবে তা নির্ভর করে ট্যাংকিতে রাখা তেলের ওপর। অর্থাৎ ট্যাংকিতে তেল থাকলে আলো থাকবে। তেল শেষ হলে আলোও শেষ হবে। অর্থাৎ তেলের ওপরই নির্ভর করে হারিকেনের আলো দেয়া বা না দেয়া। হারিকেনকে বহন করার জন্য তার বাইরের অংশে থাকে একটি লোহার ধরুনি। যেটা ধরে আমরা হারিকেনকে অতি সহজে বহন করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অনায়াসে নিয়ে যেতে পারি। কুপিবাতি বা ল্যাম্পের আকার একটু ভিন্ন ধরনের। বিভিন্ন অঞ্চলে কুপিবাতিকে অনেকে আবার ‘ল্যাম্প’ বলেও ডাকে। এই ল্যাম্প বা কুপিবাতির আকার অনেকটা গোলাকার ছোট ও চ্যাপ্টা। কাচের ঔষধের ছোট্ট শিশি দিয়ে কুপিবাতি বা ল্যাম্প তৈরি করা যায়। কিন্তু পিতল ও সিলভারের তৈরি কুপিবাতি দেখতে ছিলো খুবই সুন্দর ও শৈল্পিক। পিতল ও সিলভারের তৈরি ভিন্ন ডিজাইনের এসব কুপিবাতি হাটবাজারে পাওয়া যেত অহরহ।

হারিকেন ও কুপিবাতির ব্যবহার

হারিকেন

এক সময় রাতের আঁধার থেকে ফকফকা আলোতে নিজেকে আবিষ্কার করতে হারিকেন ছাড়া বিকল্প আর কোনো ব্যবস্থা ছিলোই না। মানুষ হারিকেনের ওপর ভর করেই তার রাতের যাবতীয় কাজ সমাধা করতো। তাই তাকে রাতের বন্ধু, নিশি বেলার সাথী, আলোর পথ-প্রদর্শক, লণ্ঠন, গৃহমশাল, ঘরের আলো, প্রদীপ বাতি, কেরোসিন বাতি ইত্যাদি নামে ডাকা হতো। গ্রামের বাড়িতে হারিকেন ছিলো না এমন কথা ভাবাই যেত না। হারিকেনের পাশাপাশি কুপিবাতি নামেও এক প্রকার বাতির প্রচলন ছিলো গ্রামে, যা আলো দিতে সাহায্য করতো। ঠিক কখন থেকে হারিকেন বা কুপিবাতির প্রচলন হয় তা সঠিকভাবে বলা না গেলেও ধারণা করা যায় মোগল আমলের অনেক আগে থেকে বাংলায় এর প্রচলন শুরু হয় এবং অদ্যাবধি বাংলাদেশের অনেক এলাকায় তার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। এক সময় হারিকেনের আলো ব্যবহার করে ট্রেন চলাচল করতো। প্রতিটি রেলওয়ে স্টেশনে হারিকেন থাকা ছিলো অপরিহার্য। হারিকেনের আলো রেলের সিগন্যাল হিসেবে কাজ করতো। তা ছাড়া এই হারিকেন হাতে নিয়ে আমাদের ‘রানার’ ছুটত গ্রাম থেকে গ্রামে। দূর থেকে দূরান্তে। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা আজ শুধুই স্মৃতি। আজ এ আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতির যুগে হারিকেন ও কুপিবাতি নিজেকে বড় অসহায় এবং বড্ড বেমানান মনে করে। তাই ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, সে যে চিরতরে আমাদের কাছ থেকে বিলুপ্তির পথ খুঁজছে তা বলতে কোনো সংকোচ নেই। কিন্তু বেশি দিন দূরের কথা নয়, এখন থেকে প্রায় ২ দশক আগেও বেশির ভাগ ঘরেই ব্যবহার হতো হারিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের কুপিবাতি। কিন্তু আজ ২ দশক পরে এসে সেই দৃশ্য পুরোটাই পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে হারিকেন বা কুপিবাতির উপস্থিতি আমাদের প্রজন্মের কাছে হাস্যরসের সৃষ্টি করে। কিন্তু ২ দশক আগেও চিত্রটি ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। সন্ধ্যা আসার আগেই ঘরের ঝি-বউরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো সন্ধ্যায় ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য। তাই তারা প্রতিটি হারিকেন ও কুপিবাতি সন্ধ্যার আগেই মুছে সাফ করে নিতো। বিশেষ করে হারিকেনের চিমনি খুলে এবং ট্যাংকিতে কেরোসিন তেল ঢেলে তা জ্বালানোর জন্য প্রস্তুত করে নিতো। পরবর্তীতে কাপড়ের টুকরোর মাথায় দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে তা নির্দিষ্ট ঘরের সীমানায় জ্বালিয়ে রেখে দিতো। ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা এ কাপড়ের টুকরা রেশা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আলো কমানো ও বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট একটি গিয়ার ব্যবহার করে তা হাতের সাহায্যে ইচ্ছেমতো ঘুরিয়ে আলোর গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যেতো। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় আলো কমিয়ে জ্বালিয়ে রাখা হতো। ঠিক একইভাবে কুপিবাতিকেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত করা হতো। কুপিবাতির প্রকারভেদ ছিলো কয়েক ধরণের। প্রতিটি পরিবারে বা ঘরে এদের পরিচয়ও ছিলো ভিন্ন নামে ভিন্নভাবে। যেমন- একনলা কুপিবাতি, দুইনলা কুপিবাতি, একতাক কুপিবাতি, দুইতাক কুপিবাতি ইত্যাদি। পিতল ও সিলভারের তৈরি কুপিবাতির ব্যবহারই ছিলো সবচে বেশি। যথারীতি হারিকেনের মতো কুপিবাতির নলে আগুন জ্বালানোর জন্য রেশা হিসেবে ব্যবহার করা হতো ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো কিংবা পাটের সুতলি। এসব কাপড়ের টুকরো কিংবা পাটের সুতলি ৫-৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে মতো চিকন ও লম্বা করে কুপিবাতির নল দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হতো। প্রতিদিন এর কিছু অংশ জ্বলে পুড়ে গেলে ফের পরদিন আবার একটু উপরের দিকে তুলে দেয়া হতো। একপর্যায়ে তা পুরোটাই পুড়ে গেলে নতুন করে তা আবার কুপিনলে লাগানো হতো। তবে সে ক্ষেত্রে আলো কম-বেশি করানোর জন্য কোন গিয়ার ব্যবহার করা হতো না, হাতের সাহায্যে কাপড়ের টুকরা ওঠা-নামা করে আলো বাড়ানো বা কমানো হতো। হরেক রকম ডিজাইনের কুপিবাতি পাওয়া যেত স্থানীয় হাটবাজারে। সস্তাদরে কুপিবাতি কিনে মানুষের জীবনের অতিব প্রয়োজন মেটাতো বাতিগুলো। এ বাতি কাজে লাগিয়ে বাড়ির গিন্নিরা হাসিমুখে সংসারের নানান কাজ করতেন। যেমন- রান্নাবান্না, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প, সেলাই কাজ, ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া এমনকি ধান মাড়ানোর মতো কঠিন কাজও করা হতো এই কুপিবাতির আলো কাজে লাগিয়ে।

হারিকেন ও কুপিবাতির সেকাল

গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে একসময় হারিকেন ও কুপিবাতি-ই ছিলো একমাত্র আলোর উৎস। সন্ধ্যা হলে হারিকেন বা কুপিবাতি নিয়ে পড়তে বসতো গ্রামীণ জনপদের শিশুরা। অ, আ, ক, খ বণর্মালার সুর ছন্দে আলো আঁধারির এক মজার দৃশ্য ফুটে উঠতো তখন গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি ঘরে। গৃহের আলোর ঝলক, বাড়ির প্রতিটি গৃহে আলোর মশাল, গৃহকর্তার এটা-সেটা কাজ এমনকি রাত্র যাপনে নিরাপদে থাকার জন্য হারিকেন ও কুপিবাতি-ই ছিলো গ্রামের মানুষের কাছে একমাত্র অবলম্বন। রাতের বেলা এ বাড়ি ও বাড়ি কোথাও বেড়াতে গেলে তাদের আলোয় পথ দেখিয়ে দেয়ার সঙ্গী হিসেবে হারিকেন-ই ছিলো প্রধান নিয়ামক। একজন এই হারিকেন ধরে সামনে হাঁটতো, অন্যরা তাকে অনুসরণ করতো। অর্থাৎ হারিকেনের আলো দেখে দেখে পেছনের সবাই সামনে হাঁটতো। এ ছাড়াও গ্রামের প্রতিটি দোকানে সন্ধ্যা-রাতের প্রদীপ হিসেবে হারিকেন ও কুপিবাতির কদর ছিলো অনন্য। দোকানিরা কিংবা পথচারীরা রাতের বেলায় হাঁটাচলা করা কিংবা বাড়ি ফেরার পথের একমাত্র সাথী ছিলো এই হারিকেন। এক কথায় হারিকেন আর কুপিবাতি-ই ছিলো তাদের আঁধার রাতের সঙ্গী। ঘরের সকল দামি আসবাবপত্রের চেয়েও মূল্যবান ছিলো এই ক্ষুদ্র হারিকেন এবং কুপিবাতি। গভীর ভালোবাসায় গ্রামের মানুষ তাদের জীবনের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবেই হারিকেন ও কুপিবাতিকে বিবেচনায় রাখতো। হারিকেন আর কুপিবাতি-ই ছিলো তাদের আলোর জানালা। শুধু তাই নয়, হারিকেন আর কুপিবাতি এ-দুই ছিলো তাদের পরিবারের এক একটি সদস্যের মত। দিনের আলোয় এদের প্রয়োজন না হলেও সূর্য ডুবার সাথে সাথে এদের কদর বেড়ে যেত বহুগুণে। কোন পরিবারের কারো অসুবিধা হলে সবাই এগিয়ে আসতো। বিশেষ করে অসাবধানতার জন্য হারিকেন ও কুপিবাতি জ্বালানোর পর্যাপ্ত কেরোসিন তেল না থাকলে অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়ে রাতের কাজ সমাধা করা হতো। যদি কারো কাছে তেল পাওয়া না যেত সে ক্ষেত্রে ঐ পরিবারকে দারুণ খেসারত হিসেবে সারা রাত আঁধার ঘরে থাকাসহ নানা ঝামেলায় পড়তে হতো। অবশ্য বর্তমান সময়ে তেলের কারণে আজ কোন পরিবারকে তেমন খেসারত দিতে হয় না। কারণ এসব জনপদে হারিকেন ও কুপিবাতির বদলে বিদ্যুতের আগমন ঘটেছে। তাই এসব জনপদ আজ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত ।

বর্তমান সময়ে হারিকেন ও কুপিবাতি

কিন্তু তারপরও হারিকেন বা কুপিবাতি আমাদের কাজ থেকে যে একেবারে বিদায় নিয়েছে তা কিন্তু বলা যাবে না। আজও তার আবেদন অনেকাংশে অনেক স্থানে লক্ষ করার মতো। যেমন- আজো নৌকা কিংবা জাহাজে হারিকেনের ব্যবহার উল্লেখ করার মতো। উত্তাল সাগর কিংবা নদীতে মিটিমিটি আলোর ঝলকানি চোখে পড়ার মতো। ডিঙির খুঁটির আগায় কিংবা ঘোমটি নায়ের ভেতর হারিকেনের সমাদর এতটুকুও কমেনি। এখনো রাতের বেলা নদীর দিকে তাকালে দেখা যায় হারিকেনের মিটিমিটি আলো জ্বলছে। জাহাজের পেছনের অংশে ব্যাকলাইট হিসেবে এখনো হারিকেনের যথেষ্ট ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তা ছাড়া রিকশার পেছনে আজও হারিকেনের ব্যবহার সবার দৃষ্টি কাড়ে। তবে এ কথা স্বীকার্য যে, হারিকেনের সেই একচেটিয়া দাপট আজ আর নেই। হারিকেনের জ্বালানি কেরোসিন তেলের ব্যবহারের এক পরিসংখ্যান থেকে তা পরিষ্কারভাবে প্রমাণ পাওয়া যায়। বিপিসির পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা বলেন, একটা সময় বছরে দেশে কেরোসিনের চাহিদা ছিল ৫ থেকে ৬ লাখ টন। মাত্র এক দশক আগেও বছরে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন কেরোসিন বিক্রি করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে এর বিক্রি ২ লাখ টনে নেমে এসেছে। তার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে যে, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ এর ফলে এখন বাসা-বাড়িতে হারিকেন ও কুপিবাতির ব্যবহার কমে যাওয়া। সুতরাং বলা চলে অদূর ভবিষ্যতে দেশে বিদ্যুৎ উন্নয়নের ফলে হারিকেনের চিরবিদায় আবশ্যিক ।

শেষের কথা

মানুষের সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে অনেক কিছুরই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আগে মানুষ দূর থেকে দূরান্তর মাইলের পর মাইল হেঁটে হেঁটে পথ চলতো। এখন মানুষ সেকেন্ডে হাজার মাইল পাড়ি দিতে শিখেছে। আজ গোটা বিশ্ব মানুষ তার হাতের মুঠোয় ভরে নিয়েছে। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা মানুষকে এ পথ দেখিয়ে দিয়েছে। আগামীতে বিজ্ঞান মানুষকে কোথায় নিয়ে যাবে তাই শুধু দেখার বিষয়। সুতরাং বিজ্ঞানের এ যুগে বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন আর কুপিবাতি যে ধোপে টিকবে না তা যৌক্তিক বাস্তবতা। এটা আমাদের যে কোনভাবে মেনে নিতেই হবে। তাই বলে আমরা আমাদের ঐতিহ্য হেলায় ফেলে দেবো? তা কিন্তু নয়। আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে যত্ন সহকারে লালন করবো। সংরক্ষণ করবো। মোটেই অবহেলা করা যাবে না। নতুন প্রজন্ম আমাদের কাছ থেকে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য জানবে, শুনবে এবং দেখবে। এবং তা শুনা জানা ও দেখার দায়িত্ব আমাদেরকেই করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারসহ সকলেই এগিয়ে আশা উচিত বলেই আমরা মনে করি ।।

SHARE

Leave a Reply