Home চিত্র-বিচিত্র ছদ্মবেশী প্রাণী ফ্ল্যাটফিশ – নুসাইবা মুমতাহিন

ছদ্মবেশী প্রাণী ফ্ল্যাটফিশ – নুসাইবা মুমতাহিন

গভীর সমুদ্রের তলদেশে বাস করে বিচিত্র সব প্রাণী। এদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এদেরকে পৃথক করে। তেমন বৈচিত্র্যে ঘেরা একটি প্রাণী ফ্ল্যাটফিশ। এটি একটি সামুদ্রিক মাছ। ফ্ল্যাটফিশের প্রায় পাঁচশত প্রজাতি রয়েছে। চাঁদামাছের মতো চ্যাপ্টা এই ফ্ল্যাটফিশের এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে প্রাণিজগতে অদ্বিতীয় করেছে।
ফ্ল্যাটফিস মহাসাগরে পাওয়া যায়। আর্কটিক থেকে অ্যান্টার্কটিকা পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি রয়েছে। অধিকাংশ প্রজাতি সমুদ্রের প্রায় ৫০০ মিটার গভীরে পাওয়া যায়। তবে কয়েকটি প্রজাতির ১৫০০ মিটার গভীরে যাবার রেকর্ড পাওয়া যায়। কী অদ্ভুত ব্যাপার তাই না! সম্প্রতি মরিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে বাথিসক্যাফে ট্রিস্টের প্রায় ১১ কিলোমিটার গভীরতায় একটি ফ্ল্যাটফিশের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের কাছে এখনও বিষয়টি অনেকটা সন্দেহযুক্ত।
ফ্ল্যাটফিশের এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা এদের অনন্য করে তুলেছে। তার একটি হচ্ছে ক্যামোফ্লেজ বা ছদ্মবেশ ধারণ। পরিণত ফ্ল্যাটফিশ বেশির ভাগ সময় সমুদ্রের তলদেশের মাটিতে শুয়ে থাকে। এ সময়ে শত্রু থেকে আত্মরক্ষা ও শিকার ধরার প্রয়োজনে এটি যেখানে শুয়ে থাকে অল্প সময়ের ভেতরেই সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে শরীরের রঙ পরিবর্তন করে ফেলে।
এদের আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো চোখের অবস্থান পরিবর্তন। সদ্য জন্ম নেয়া ফ্ল্যাটফিশের দু’টি চোখ শরীরের দুই পাশে থাকলেও পরিণত ফ্ল্যাটফিশের দুইটি চোখই শরীরের একদিকে পাশাপাশি অবস্থান নেয়। প্রথমাবস্থায় যখন এটি সমুদ্রতলে শুয়ে থাকে তখন এর একটি চোখ ওপরের দিকে এবং আরেকটি চোখ নিচে মাটির দিকে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে এর নিচের চোখটি অবস্থান পরিবর্তন করে ওপরের অন্য চোখটির পাশে চলে আসে।
ফ্ল্যাটফিশের যে পাশটি নিচের দিকে থাকে সেই পাশটির রঙ থাকে হালকা ধূসর। আর ওপরের দিকের পাশটি পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন হয়। আরেকটি মজার কথা হলো ফ্ল্যাট ফিশের একটি প্রজাতি সব সময় একই দিকটি নিচের দিকে রেখে সমুদ্র তলে শুয়ে থাকে। কোন প্রজাতি বাম দিকে আর কোন প্রজাতি ডান দিকে। সেই হিসেবে বাম বা ডান চোখটি অবস্থান পরিবর্তন করে।
বিভিন্ন দেশে ফ্ল্যাটফিশ খাদ্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। আটলান্টিক ও প্যাসিফিক মহাসাগরে ফ্ল্যাটফিশ সহজলভ্য। উপকূলীয় দেশগুলোতে বড় প্রজাতির ফ্ল্যাটফিশগুলো জনপ্রিয় খাবার। ফ্ল্যাটফিশকে হোয়াইট ফিশ বলে মনে করা হয়। কারণ তার লিভারের মধ্যে উচ্চ ঘনত্বের তেল রয়েছে। ফ্ল্যাটফিশ বিভিন্ন পদ্ধতিতে খাওয়া হয়। তার মাঝে গ্রিলিং, প্যান ফ্রাইং, পেকিং এবং ডিপ ফ্রাইং অন্তর্ভুক্ত।
ফ্ল্যাটফিশের পূর্বসূরি হিসেবে ৫০ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্রে বিচরণ করা অ্যাম্ফিস্টিয়ামকে ধরা হয়। প্রাপ্ত এই ফসিল থেকে দেখা যায় এর দুটি চোখ শরীরের একই দিকে না থাকলেও এর একটি চোখ মাথার ওপরে চলে এসেছে। ধারণা করা হয় বিবর্তনের মধ্যবর্তী অবস্থানটা হচ্ছে এই অ্যাম্ফিস্টিয়াম ।।

SHARE

Leave a Reply