Home ফিচার অন্ধকার গুহায় দুই সপ্তাহ -লতিফুর রহমান

অন্ধকার গুহায় দুই সপ্তাহ -লতিফুর রহমান

২৩ জুন ২০১৮ শনিবার থাইল্যান্ডের ‘মাই ছাই’ গ্রামের কিশোর ‘নাইট’ এর জন্মদিন ছিল। সেদিন তার সতেরো বছর পূর্ণ হয়। বাড়িতে পরিবারের অন্যরা জন্মদিনের কেক ও উপহার নিয়ে বসে ছিল। কিন্তু নাইট বাড়ি পৌঁছেনি। সে তার বন্ধুদের সাথে তাদের ফুটবল দলের সতীর্থ ও সহকারী কোচ এক্কাপোল অক চান্তাওয়াং এর সাথে বাইরে ছিল। এই খুদে ফুটবল দলের নাম ‘ওয়াইল্ড বোরস’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘বুনো শূকর’। ফুটবল অনুশীলন শেষ হলে সাইকেল নিয়ে ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে পাহাড়ি জঙ্গলে চলে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল থাম লাং গুহায় যাওয়া। গুহাটি ‘থাম লাং খুন নাম নাং নন’ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। যারা পাহাড়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিতে পছন্দ করে তারা সেখানে যায়।

থাম লাং গুহা পাহাড়ের নিচে ভেতরে দশ কিলোমিটার লম্বা। গুহার পথটি অন্ধকার এবং দু’ এক স্থানে খুবই সরু। বর্ষা মৌসুমে এর ভেতরে যাওয়া মারাত্মক বিপজ্জনক। বৃষ্টির পাহাড়ি পানি এর ভেতরে বন্যার মতো অবস্থা করে। পানির স্রোত অনেক বেশি থাকে তখন। নভেম্বর থেকে এপ্রিল গুহার ভেতরে প্রবেশের উপযুক্ত সময়। সে সময় গুহাতে পানি থাকে না। শুকনা থাকে। বেড়াতে যাওয়া এই ফুটবল দল বড্ড ভুল সময়ে সেখানে গিয়েছে। তারা কিছুদূর যাওয়ার পরই প্রচণ্ড বৃষ্টি ও পানির স্রোত সৃষ্টি হয়। গুহামুখের দিকে তারা আর ফেরত আসতে পারেনি। তারা চেয়েছিল মাত্র এক ঘণ্টা সেখানে কাটাবে। কিন্তু আটকা পড়ে সবকিছু ভ-ুল হয়ে যায়।
এদিকে কিশোররা সন্ধ্যার পরেও বাড়িতে না যাওয়ায় এই ফুটবল দলের প্রধান কোচের কাছে পরিবারের সদস্যরা ফোন দিতে থাকেন। তিনি খেয়াল করেন অনেকগুলো মিসকল তার মোবাইলে উঠে রয়েছে। ফোন করে জানতে পারলেন অনুশীলন শেষে ফুটবলাররা বাড়িতে যায়নি। তিনি ফোন দিলেন সহকারী কোচকে। কিন্তু সেটা ধরলো অন্য একজন খুদে ফুটবলার। সে জানালো যে মোবাইল রেখে তারা গুহায় বেড়াতে গেছে। প্রধান কোচ সেখানে ছুটে যান। গিয়ে দেখেন গুহা মুখে তাদের সাইকেল ও খেলার বুট পড়ে রয়েছে। গুহার ভেতরে প্রবেশ করার পায়ের চিহ্নও রয়েছে। তিনি বিপদ বুঝতে পেরে কর্তৃপক্ষকে জানান। এর আগে গুহায় মানুষ ঢুকে ফিরে আসেনি এমন ঘটনা ঘটেছে। আরো বিপদের কারণ হচ্ছে সময়টা বর্ষাকাল এবং বৃষ্টি হচ্ছে প্রচুর।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে প্রাথমিকভাবে কিছুই করতে পারছিল না। গুহাতে তখন পানি বন্যায় রূপ নিয়েছে। আর গুহা দশ কিলোমিটার লম্বা। এ অবস্থায় ভেতরে প্রবেশ বিপজ্জনক। গুহার অপর প্রান্ত থাইল্যান্ড পেরিয়ে মিয়ানমারে ঢুকে গেছে। থাইল্যান্ডের সরকার মিয়ানমারকেও জানিয়েছে। কিন্তু গুহার মুখ একটাই। অপর প্রান্ত থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। একটিই পথ দিয়ে ঢুকতে হয় আবার সেটা দিয়েই বের হতে হয়।
থাইল্যান্ডের ডুবুরিরা নিজেদের সাধ্যমতো গুহার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেন কিন্তু যতদূর যেতে পারলেন তাতে জীবিত বা মৃত কিছুই পেলেন না। বৃষ্টির পানি গুহার ভেতরে বন্যার আকার নেয়ায় আরো ভেতরে ঢোকা বিপজ্জনক ছিল। থাইল্যান্ডের সরকার আন্তর্জাতিক বিশ্বের সহযোগিতা চাইলেন। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ডুবুরিরা আসতে থাকেন। একে একে প্রায় দশ হাজার মানুষ এই উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হন। এদের মধ্যে আছেন শ’খানেকের বেশি দেশি বিদেশি ডুবুরি, শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা, ৯০০ পুলিশ কর্মকর্তা, দুই হাজার সেনাসদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, মিডিয়াকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিখোঁজদের আত্মীয়স্বজন। কাজে লাগানো হয় দশটা পুলিশের হেলিকপ্টার, সাতটা অ্যাম্বুল্যান্স, ৭০০ এর বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার, আর মেশিন দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ষোল লাখ লিটার পানি গুহা থেকে বের করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্বের অভিজ্ঞ ডুবুরিরা এসে সন্ধান অভিযানে নেমে পড়েন। নয় দিন পর ব্রিটিশ দুই ডুবুরি প্রথম তাদের দেখা পান। গুহামুখ থেকে জায়গাটা চার কিলোমিটার ভেতরে। পাতোয়া বিচ নামক স্থানের নিকট তারা অবস্থান করছিল। স্থানটা আশপাশ থেকে একটু উঁচু প্লাটফরমের মতো। স্থানটা বালুময়। বালুর ওপরেই তারা শুয়ে বসে ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। শুধুমাত্র বৃষ্টির পানি খেয়ে তারা বেঁচে ছিল। ক্ষুধার কারণে দু’একজন মাঝে মাঝে জ্ঞান হারাতো। ভেতরে কত দিন কাটিয়েছে তারা তা জানে না। ডুবুরিদের প্রথম দেখতে পেলে তাদের কাছে সেটা জানতে চেয়েছে। ডুবুরি জন ভোলান্থেন ও রিক স্ট্যানটন সর্বপ্রথম তাদের খুঁজে পান।

ডুবুরিদের সাথে প্রথম দেখায় কিশোরদের কী কথা হয়েছে তা নিচের বাংলা অনুবাদ থেকে জেনে নিতে পারি।
১ম ডুবুরি : আমরা তাদের পেয়েছি! আমরা তাদের পেয়েছি! তোমরা হাত ওপরে উঠাও। ধন্যবাদ তোমাদের। তোমরা কতজন আছো?
কিশোর দল : তেরো জন।
১ম ডুবুরি : তেরো জন! অবিশ্বাস্য!
কিশোর দল : হ্যাঁ।
২য় ডুবুরি : তারা সবাই বেঁচে আছে!
কিশোর দল : (কিশোররা তাদের ভাষায় কথা বলতে থাকে)
১ম ডুবুরি : আজকে নয়, আজকে নয়। আজ আমরা মাত্র দু’জন এসেছি। আমাদের সাঁতার কাটতে হয়েছে।
২য় ডুবুরি : ডুবুরি বলছেন আজকে নয়।
১ম ডুবুরি : আমরা আসবো। বুঝতে পেরেছো? অনেকে আসছে। আমরা প্রথমে এসেছি।
কিশোর দল : কোন দিন?
১ম ডুবুরি : আগামীকাল।
২য় ডুবুরি : না না, তারা জানতে চাচ্ছে আজকে কোন দিন?
১ম ডুবুরি : সোমবার। এক সপ্তাহ ও সোমবার। তোমরা দশ দিন ধরে এখানে আছো। দশ দিন। তোমরা বেশ শক্ত আছো। অনেক শক্ত। কে ইংরেজি জানো? তোমাদের কথা অনুবাদ করে দাও। আমি কথা বুঝছি না।
২য় ডুবুরি : পেছন দিকে সরে যাও। সরে যাও।
১ম ডুবুরি : আমরা ফিরে আসবো। আমরা আসবো।
কিশোর দল : আমরা ক্ষুধার্ত।
১ম ডুবুরি : আমি জানি। আমি জানি। আমি বুঝতে পারছি। (নরম সুরে)
২য় ডুবুরি : আমরা আসবো। আসবো। ওপরে যাও। একসাথে হও।
কিশোর : উনারা আমাদের ছবি নিবেন।
কিশোর দল : তাদের বলো যে আমরা ক্ষুধার্ত।
কিশোর : আমি তাদের বলেছি। তারা জানে।
কিশোর দল : কবে আপনারা আমাদের সাহায্য করতে আসবেন?
১ম ডুবুরি : আমরা এখানে এসেছি সাঁতার কেটে। আগামীকাল, আগামীকাল।
২য় ডুবুরি : থাই নেভি আসবে। আগামীকাল আসবে।
কিশোর দল : আজ আপনাদের কাছে কি আলো আছে?
১ম ডুবুরি : আমরা তোমাদের আরো আলো দিবো।
২য় ডুবুরি : তোমরা ওপরে যাও। ঠিক আছে? ওপরে। (স্থানটা ঢালু। কিশোররা পানির কাছাকাছি বসে ছিল। তাদেরকে শুকনো জায়গায় যেতে তাগাদা দিচ্ছে)
কিশোর দল : ভাইয়েরা ওপরে আসো। উঠে দাঁড়াও।
২য় ডুবুরি : তোমাদের দেখতে সুন্দর লাগছে!
কিশোর : আমি খুব খুশি!
১ম ডুবুরি : আমরাও খুব খুশি! তোমাদের অনেক ধন্যবাদ।
কিশোর দল : আপনাদেরও ধন্যবাদ। আপনি কোথা থেকে এসেছেন?
১ম ডুবুরি : ইংল্যান্ড। ইউকে থেকে।
কিশোর দল : ও ..

কিশোররা এ ক’দিনে না খেতে পেরে চিকন হয়ে গেছে। তারপরও তারা নড়তে এবং উঠে দাঁড়াতে পারছিল। বালক বা কিশোর বয়সী হলেও তারা নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন ও খেলাধুলা করে বিধায় তাদের স্ট্যামিনা বা শারীরিক শক্তি অন্যদের তুলনায় বেশি। অন্ধকার গুহায় খাবার ছাড়া শুধু পানি খেয়ে বেঁচে থাকার এটা একটা কারণ। তারপরও ফুটবল অনুশীলন শেষে তারা সেখানে প্রবেশ করে। অর্থাৎ প্রথম দিন থেকেই ক্লান্ত ছিল। এ ছাড়া গুহার ভেতরে বেশ ঠা-া থাকে। তদুপরি বৃষ্টির কারণে চারিদিকে থৈ থৈ পানিতে ঠা-া আরো বেশি ছিল। যেখানে আটকা পড়েছিল সেখান থেকে বের হওয়ার আশায় তারা গুহার দেয়াল পাঁচ মিটার পর্যন্ত খুঁড়েছিল। সবার ছোট জনের বয়স এগারো বছর আর বড় জনের সতেরো বছর। তাদের সাথে থাকা সহকারী কোচের বয়স পঁচিশ বছর। ছোট হলেও অন্ধকারে তারা ভয় পেয়ে যায়নি। ভয় না পেয়ে মনোবল ধরে রাখতে কোচ তাদেরকে ধর্মীয় ধ্যান করান।
কিশোরদের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে তাদের বের করে নিয়ে আসার উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ভাবতে শুরু করেন। তাদের সুস্থ রাখার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার, তরল খাবার, পানি, ওষুধ, গায়ে জড়ানোর জন্য ফয়েল পেপার দেয়া হয়। ডুবুরি ডাক্তাররা সেখানে গিয়ে তাদের চিকিৎসা ও সাহস দিতে থাকেন। বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা ২১% এর নিচে নেমে এলে মানুষ ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং আরো কমে গেলে মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাদের সন্ধান পাওয়ার পর দেখা গেল সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা ১৫% এ নেমে এসেছে। দুর্বলতার কারণে কিশোরদের সাথে সাথে বের করে আনা যাচ্ছিলো না। বের হওয়ার পথে কিছু কিছু স্থানে ডুব সাঁতার দিতে হচ্ছে। পানির তীব্র স্রোত তো আছেই। গুহামুখ থেকে ডুবুরিদের সেখানে যেতে চার ঘণ্টা লেগেছে। অবশ্য একবার পথ চেনার পর থেকে তারা দুই ঘণ্টাতেই সেখানে যেতে পেরেছেন। এমতাবস্থায় নয় দিন অভুক্ত থাকা সাঁতার না জানা কিশোরদের বের করে আনা সম্ভব হচ্ছিলো না। পথে এমনও সরু রাস্তা ছিল যে সেখানে ডুবুরির পিঠে যে অক্সিজেন সিলিন্ডার বাঁধা থাকে সেটা খুলে হাতে নিতে হচ্ছে। তা-না-হলে গুহার দেয়ালে সিলিন্ডার আটকে যাচ্ছে। একজন থাইল্যান্ডের ডুবুরি ‘সামান গুনান’ কিশোরদের অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে ফিরে আসার সময় তার সিলিন্ডারের অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ায় গুহার ভেতরে পানিতে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান। সামানের স্ত্রী বলেন, সামান একবার বলেছিল ‘আমরা কেউ জানি না কখন মারা যাবো। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন নিজেদের যত্ন নেয়া।

কিশোররা ভেতর থেকে ডুবুরিদের মাধ্যমে বাবা মার উদ্দেশ্যে চিঠি লেখে। নাইট লিখেছে, ‘নাইট মা, বাবা, বড় বোনকে ভালোবাসে। তোমরা কেউ চিন্তা করো না।’ একজন মজা করে লিখেছে, ‘টিচার! আমাদের খুব বেশি বাড়ির কাজ দিবেন না!’ কোচ ছেলেদের পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘আমি সত্যিই খুব দুঃখিত।’ কিন্তু কিশোরদের নিয়ে এহেন বিপজ্জনক বেড়ানোর জন্য অকথ্য ভাষায় তিরস্কার না করে অভিভাবক কোচের প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করেন। উত্তরে অভিভাবক লেখেন, ‘কোচ অক, আমি সত্যিই তোমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তুমি বাচ্চাদের যত্ন নিয়েছো এবং তাদের নিরাপদ রেখেছো। নিজেকে তিরস্কার করো না।’

৭ জুলাই বিকেলে ১৪ দিন পর চারজনকে সুস্থ অবস্থায় বের করে আনা হয় এবং রাত হয়ে যাওয়ায় সেদিন উদ্ধারতৎপরতা বন্ধ করা হয়। ৮ তারিখে আরো চারজন এবং ৯ তারিখে সর্বশেষ পাঁচজনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। কিশোরদের মুখে মাস্ক বা অক্সিজেন সিলিন্ডারের মুখোশ পরানো হয়েছিল। গুহার সম্পূর্ণ রাস্তায় দড়ি বাঁধা হয়। দড়ি ধরে পথ চিনে তাতে ডুবুরিরা যাতায়াত করেছেন। প্রত্যেক কিশোরকে দু’জন করে ডুবুরি সামনে ও পেছন থেকে বহন করে আনেন। ডুবুরিদের সাথেও কিশোরদের দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল।
বন্ধুরা! যদিও তাদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তবুও এ ধরনের বিপজ্জনক ভ্রমণ থেকে আমাদের সাবধান হতে হবে। অসতর্কতার কারণে কোথাও আটকা পড়া বা দুর্ঘটনা ঘটার সমূহ আশঙ্কা থাকে। পিতা-মাতা ও বড়দের কাছ থেকে আমাদের চারপাশের বিপজ্জনক স্থান সম্পর্কে জেনে নেয়া দরকার। তাদের নিষেধ বা নির্দেশনা মেনে আমাদের চলা উচিত। একটু সচেতন হয়ে চললে নিজেকে যেমন বিপদ থেকে রক্ষা করা যাবে পাশাপাশি অন্যদের মারাত্মক দুশ্চিন্তা ও বিড়ম্বনা থেকে রেহাই দেয়া হবে। আর সর্বোপরি আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আস্থা রাখা। সেই সাথে পরম করুণাময়ের সকল নির্দেশনা মেনে চলা। কী বন্ধুরা, পারবে না?

SHARE

Leave a Reply