Home ভ্রমণ প্রাকৃতিক নৈসর্গের ভূমি বিছনাকান্দি -নাঈম মুহাম্মদ রুবেল

প্রাকৃতিক নৈসর্গের ভূমি বিছনাকান্দি -নাঈম মুহাম্মদ রুবেল

বাংলাদেশের মধ্যে নানা ধরনের দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো বৃহত্তর সিলেটের জন্য গৌরবময় জায়গা, যার নাম বিছনাকান্দি। সিলেট জেলা থেকে এটি ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই জায়গাতে রয়েছে জলপ্রপাত, ছোট বড় পাথর, পাহাড়, পানি ও মনোরম দৃশ্য। আল্লাহর এই সৃষ্টি জগৎ অপরূপ। তিনি তার বান্দাদেরকে কত রকম নেয়ামত দান করেছেন। পুরো বাংলাদেশের মধ্যে বিছনাকান্দি একটি অপরূপ জায়গা। বৃহত্তর সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এটি অবস্থিত। জানা গেছে ২০১১ সাল থেকে এই বিছনাকান্দির যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে পর্যটক আসেন। সিলেট বিভাগের মধ্যে আরও অনেক জায়গা রয়েছে। এই সব জায়গাগুলোতে বিভিন্ন দেশের পর্যটক আসেন এবং আমাদের এই দেশের মর্যাদা পৃথিবীর বুকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। ২য় বারের মতো আবারো আমি বিছনাকান্দিতে যাই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। আর জীবনের প্রথম গিয়েছিলাম ২০১৬ সালের মার্চ মাসে। আমরা সকাল ৭টার সময় রেডি হয়ে বসেছিলাম। আমাদের গাড়ি ৯টার সময় নিজ এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করল। পথিমধ্যে আমরা বিছনাকান্দিতে যাওয়ার যে আনন্দটা তা গাড়িতে বসে একজন অন্যজনকে উৎসাহিত করেছি। সবার মনেই আনন্দের জোয়ার বয়ে গেছে। কখন বিছনাকান্দিতে পৌঁছব। গাড়ি যতই চলছিল আমাদের গন্তব্যস্থানও মনে হচ্ছিল খুব নিকটে আসছে। পথিমধ্যে একপর্যায়ে আমরা সবাই গাড়ি থামিয়ে নাস্তা করলাম। নাস্তা করার পর আবার গাড়ি তার গতিতে চলতে থাকল। ঐখানে যেতে আমাদের প্রায় ৬ ঘণ্টার মতো লেগেছিল। যখন আমরা গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রবেশ করলাম সেখানকার রাস্তা ছোট ও ভাঙা ছিল। আমাদের গাড়ি ছিল দু’টি নোহা। চলতে চলতে যখন আমরা ঐ জায়গায় পৌঁছলাম তখন সবার মনে আনন্দের অনুভূতি জাগ্রত হয়। তখন আমরা আমাদের গাড়ি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে তারপর আর ১ ঘণ্টার মত হেঁটে বিছনাকান্দি গেলাম।
কারণ ঐদিকে না চলে কোন গাড়ি, না চলে কোন রিকশা। ভাঙাচোরা রাস্তা। তবে ট্রাক ও ট্রাক্টরগুলো ভয়াবহ ভাবে পাথর আনার কাজে ব্যবহার করে। বিছানাকান্দি যত সুন্দর তার থেকে বেশি সুন্দর হচ্ছে যাওয়ার পথের চারদিকের পরিবেশ। আমাদের শহর তৈরি করার জন্য যে সব পাথর ব্যবহার করে, তা এসব অঞ্চল থেকেই নেয়া হয়। পাথরগুলো নেয়ার কারণে প্রকৃতির ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। কারো ক্ষতি, কারো লাভ। সমান সমান। ১ ঘণ্টা হাঁটার পর সেই স্থানের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছলাম। প্রথমেই আমাদের একজন বড় ভাইয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মূল স্থানে পৌঁছানোর আগে কয়েকজন ভাইয়ের কাছ থেকে কিছু দিকনির্দেশনা মূলক বাণী ও আল্লাহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নেয়ামত সম্পর্কে কোরআন হাদিস থেকে আলোচনা শুনলাম। তারপর কিছু প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তখন আমরা সবাই বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা করে থাকি। খেলাগুলো ছিল- ১. বেলুন ফুটানো ২. বেলুন বড় করা ৩. হাঁড়ি ভাঙা। আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ করে আমরা আমাদের মূল জায়গায় পৌঁছলাম। প্রথমে আমরা বড় ছোট পাথর দেখলাম ও এর ওপর হাঁটলাম। ক্যামেরা ও মোবাইল দিয়ে পাথরের ওপর বসে অনেক ছবি তুললাম। ঐখানে পাহাড়ের মাঝে ছোট ছোট ঝর্ণা ছিল। আমরা ঝর্ণাগুলো দেখলাম। তারপর ঐখানে ফ্লাইওভারের মতো একটি পুল ছিল। আমরা দূর থেকে পুলটা দেখলাম এবং পুলের ওপর ওঠার জন্য আফসোস করলাম কিন্তু উঠতে নিষেধ থাকায় তা সম্ভব হলো না। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের লীলা ও মনোরম দৃশ্য দেখে হৃদয়ে বারবার গেয়ে উঠতে থাকে রবীন্দ্রাথের সেই গানটি, পাগল হাওয়ার বাদল দিনে, পাগল আমার মন জেগে ওঠে, চেনাশোনার কোন বাইরে যেখানে পথ নাই নাই রে, সেখানে অকারণে যায় ছুটে। আসরের আজানের সময় আমাদের গাড়ি ছাড়ল। একপর্যায়ে আমরা আমাদের বাড়িতে চলে এলাম রাত ১১টায়। আমাদের এই ভ্রমণ আমার জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছে। আল্লাহর এই সৃষ্টি দেখে আমি অনেক বদলে যাই। এই ভ্রমণ আমি কখনই ভুলতে পারব না।

SHARE

Leave a Reply