Home প্রচ্ছদ রচনা বহুরূপী ক্যামেলিয়ন -ড. রফিক রইচ

বহুরূপী ক্যামেলিয়ন -ড. রফিক রইচ

আগামীর প্রাণিবিজ্ঞানী ছোট বন্ধুরা, তোমাদের জন্য আজকের লেখাটি লক্ষ লক্ষ প্রাণিপ্রজাতির মধ্যে থেকে একটি উল্লেখযোগ্য প্রাণিপ্রজাতি ক্যামেলিয়ন নিয়ে লিখবো। লেখাটি পড়লে তোমাদের অনেক ভালো লাগবে। ক্যামেলিয়ন আসলে বর্ণ বদলকারী অদ্ভুত এক প্রাণী। একে প্রাকৃতিক বর্ণচোরাও বলে অনেকে। গ্রিকরা এই ক্যামেলিয়নকে বলতো লিটল লায়ন। অর্থাৎ ক্ষুদ্র সিংহ। ক্যামেলিয়ন বুকে ভর দিয়ে হাঁটে। তোমরা হয়তো, অনেকেই জানো, যারা বুকে ভর দিয়ে হাঁটে তাদেরকে সরীসৃপ বলে। যেমন ধর, কুমির, সাপ, গুইসাপ, টিকটিকি, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ ইত্যাদি।
এদের মতই বুকে ভর দিয়ে হাঁটা একটি আজব প্রাণী হলো ক্যামেলিয়ন বা রঙ বদলকারী গিরগিটি। এই ক্যামেলিয়ন বা বর্ণচোরা গিরগিটি সাধারণত এক ফুটের বেশি লম্বা হয় না। ঘন ঘন গায়ের রঙ বদলের ক্ষেত্রে এরা বেশ ওস্তাদ। গায়ের এই রঙ বদলের জন্য এরা বিশ্বে বেশ বিখ্যাত এবং ব্যাপক পরিচিত। এই প্রাণীটির একটি লম্বা লেজ আছে। এই লম্বা লেজের সাহায্যে এরা শক্ত কোন কিছুকে পেঁচিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে। এদের হাত-পাগুলোর মাথায় সুচালো আঙুলের মত অংশ আছে যার সাহায্যে গাছের শাখা-প্রাশাখা আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে। এদের জিহবা বেশ লম্বা।
দেহের দ্বিগুণ। যখন চুপচাপ থাকে তখন পুরো জিহবাটা মুখের ভেতর থাকে। কোন পোকা মাকড় বা জীবন্ত খাদ্যবস্তু সামনে এলে জিহবা ছুড়ে মেরে শিকার আঁকড়ে ধরে মুখে নিয়ে নেয়। এরা অনেকটা অলস প্রকৃতির প্রাণী। শিকার ধরতে বেশি হাঁটাচলা বা পরিশ্রম করে না। একটি নির্দিষ্ট স্থানে এটি অবস্থান করে এবং সেই স্থানের সাথে এটি রঙ মিশিয়ে চুপচাপ থাকে।
যখন কোনো শিকার বা খাদ্য সামনে আসে বা সামনে দিয়ে চলে যেতে শুরু করে তখন লম্বা জিহবাটা ত্বরিত ছুড়ে মারে এবং খাদ্য মুখে পুরে নেয়। একটি মজার বিষয় হলো কোনো পোকা মাকড় ক্যামেলিয়নের সামনে দিয়ে চলে যাওয়ায় সময় ক্যামেলিয়নকে দেখতে পায় না। কারণ ক্যামেলিয়ন যে ডালে বা যে স্থানে স্থির হয়ে বসে থাকে সেই স্থানের সাথে বা ডালের সাথে রঙ মিশিয়ে অবস্থান করে। কিন্তু ক্যামেলিয়ন পোকা মাকড় বা কোন শিকারকে ঠিকই দেখতে পায় এবং আঠালো জিহবা দিয়া শিকার করে নেয়। এরপর আবার অন্য শিকারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
নিজের রঙ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্যামেলিয়নরা রাজা। পরিবেশের সাথে যখন তখন রঙ পরিবর্তন করে পরিবেশের সাথে মিশে থাকে বা থাকতে পারে। তবে প্রকৃতিপ্রেমী বিজ্ঞানীরা বলেন, ক্যামেলিয়নদের চামড়ার নিচে চলমান কণা আছে। যে কণাগুলোর রঙ সাদা। সঙ্গে হলুদ অথবা কোন কোন সময় কালো বা বাদামি রঙ থাকে।
ক্যামেলিয়নদের শরীরে যখন আলো এবং তাপের মত শক্তিশালী কোনো প্রভাব পড়ে তখন এবং মনে ক্ষুধা ও কোন রকম ভয়ের আশঙ্কা করে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চামড়ার নিচে উপস্থিত থাকা নানা রঙের কণাগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশে তাদের শরীরের রঙ পরিবেশের রঙের সাথে মিলিয়ে ফেলে। ইহা একটি রঙের বহুরূপী মিশ্রণ। ছাই ধূসর থেকে বাদামি, কালো বা হলুদ। আসলে এই রঙের খেলা খুবই অস্থিতিশীল।
চিন্তাশীল বন্ধুরা! পৃথিবীতে প্রায় ১৬০ প্রজাতির ক্যামেলিয়ন রয়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেক প্রজাতি থাকে মাদাগাস্কার নামে এক দ্বীপে। কারণ উক্ত স্থানে তারা থাকতে বেশি পছন্দ করে। এদের চোখ বড়। চোখের পাতা দিয়ে চোখ ঢাকা থাকে। একটি ক্ষুদ্র খোলা অংশ দিয়ে আলো ঢুকতে পারে। এদের চোখের ব্যাপারে একটি মজার বিষয় আছে। সেটি হলো যখন এরা এক চোখ দিয়ে একদিকে দেখে তখন অন্য চোখ দিয়ে অন্যদিকে দেখতে পায়।
কৌতূহলের রাজমুকুট পরা বন্ধুরা, তোমরা জানলে তো ক্যামেলিয়ন তথা রঙ বদলকারী গিরগিটির কথা? আসলে এসবের মধ্যেই রয়েছে সৃষ্টিকর্তার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

SHARE

Leave a Reply