Home অফিস প্রোগ্রাম কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ প্রদান

কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ প্রদান

কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করেছে সর্বাধিক প্রচারিত শিশু-কিশোর পত্রিকা মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠ। এক বুক স্বপ্ন আর প্রত্যাশা নিয়ে খুবই সীমিত পরিসরে কিশোরকণ্ঠের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে কিশোরকণ্ঠ আজ বহু বাঁক পেরিয়ে এক জোছনাপ্লাবিত উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, লাখো কিশোর-তরুণ, যুবক ও সর্বস্তরের পাঠকের হৃদয়ে স্বপ্নের চারা বপনকারী কিশোরকণ্ঠ এখন পত্র-পল্লবে সমান বিস্তারিত।
২০০২ সাল থেকে প্রবর্তন করা হয়েছে কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার। দেশের খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিকদের ভূষিত করা হয়েছে এ পুরস্কারে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর চারটি ক্যাটাগরিতে চারজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সংস্কৃতি ও শিল্পকলায় এবনে গোলাম সামাদ, শিশুসাহিত্যে কবি কে জি মোস্তফা, প্রবন্ধ ও গবেষণায় অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যে শাহ আব্দুল হান্নান।
এবনে গোলাম সামাদ বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট। তার জন্ম ২৯ ডিসেম্বর ১৯২৯ সালে রাজশাহী শহরে। তিনি ১৯৬৩ সালে ফ্রান্স থেকে জীবাণুতত্ত্বে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৪-১৯৯৬ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি সংস্কৃতি ও শিল্পকলা বিষয়ে গবেষণাতে অনন্য অবদান রাখেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২০টি। ‘শিল্পকলার ইতিকথা’ এবং ‘মানুষ ও তার শিল্পকলা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি গ্রন্থ।
কবি কে জি মোস্তফা শিশু সাহিত্যসহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদান রাখেন। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। তার জন্ম ১ জুলাই ১৯৩৭ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানায়। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সম্পাদক ছিলেন। তিনি হাজার গানের গীতিকার হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত। ‘কন্যা তুমি অনন্যা’, ‘মজার ছড়া শিশুর পড়া’ তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ।
অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমানের জন্ম ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩৭ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার চর নরিনা গ্রামে। দীর্ঘদিন প্রবাসে জীবন যাপন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি ১৯৬২-৭৭ পর্যন্ত ঢাকাস্থ সিদ্ধেশ্বরী কলেজে অধ্যাপক, ১৯৭৭-৯৬ পর্যন্ত দুবাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রকাশনা বিভাগে স¤পাদক এবং পরবর্তীতে ২০০৩-০৯ পর্যন্ত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মৌলিক বিষয়সমূহে গবেষণা গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। সেই সাথে শিশু-কিশোরদের উপযোগী প্রবন্ধ সাহিত্য রচনায় তার বিশেষ অবদান রয়েছে। ‘মহৎ যাদের জীবনকথা’, ‘ছোটদের গল্প’ এবং ‘কিশোর গল্প’ তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশু সাহিত্য।
শাহ আব্দুল হান্নান ১৯৩৯ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক এবং ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর স¤পন্ন করেন। অবসরপ্রাপ্ত সচিব শাহ আব্দুল হান্নান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। ‘দেশ, সমাজ ও রাজনীতি’, ‘দর্শন ও কর্মকৌশল’, ‘ল’ ইকোনোমিক অ্যান্ড হিস্ট্রি’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
উল্লেখ্য, পুরস্কারে মনোনীত প্রত্যেককে নগদ অর্থ, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়েছে। ইতঃপূর্বে যারা কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁরা হলেন- ২০০২ সালে : কবি আল মাহমুদ, সাংবাদিক ও লেখক সানাউল্লাহ্ নূরী, কথাশিল্পী জুবাইদা গুলশান আরা, বিশিষ্ট লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ ও বিশিষ্ট গবেষক আবদুল মান্নান তালিব। ২০০৩ সালে পেয়েছিলেন- সৈয়দ আলী আহসান, কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলী, কবি গোলাম মোহাম্মদ, কবি মতিউর রহমান মল্লিক ও কবি মোশাররফ হোসেন খান। ২০০৪ সালে পেয়েছিলেন- ড. কাজী দীন মুহম্মদ, কবি আফজাল চৌধুরী ও কবি আসাদ বিন হাফিজ। ২০০৬ সালে পেয়েছিলেন- কথাশিল্পী প্রফেসর চেমন আরা, কবি আবদুল হাই শিকদার ও কথাশিল্পী মাহবুবুল হক। ২০০৭ সালে পেয়েছিলেন- আব্দুল মান্নান সৈয়দ, শাহাবুদ্দিন আহমদ, কবি সাজজাদ হোসাইন খান। ২০০৯ সালে পেয়েছিলেন ইসলামী রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ, কবি জাহানারা আরজু ও কবি আসাদ চৌধুরী। ২০১১ সালে পেয়েছিলেন- কথাশিল্পী আতা সরকার, কথাশিল্পী দিলারা মেসবাহ, কবি সোলায়মান আহসান। এই নিয়ে ২৯ জন লেখক কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

SHARE

Leave a Reply