Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো শীতল ঝরনা

শীতল ঝরনা

ঝরনা! শব্দটি শুনলেই হৃদয়টা কেমন শীতল হয়ে আসে জাহিদের। মনে হয়, এই তো বুকের ভেতরই বয়ে চলছে এক মায়াবী ঝরনা। ঝরনা নিয়ে তার আগ্রহের শেষ নেই। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ঝরনাগুলো তার দেখা হয়ে গেছে। মাধবকুন্ড। হামহাম। জাদিপাই। বাকলাই। আর এবার সে দেখতে এসেছে খৈয়াছড়া ঝরনা- বাংলাদেশের ঝরনা-রানী। সাথে পাঁচ বন্ধু।
দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয় এখানে। পায়ে হেঁটে যেতে হয় বহুদূর। এসেই ওরা ঝরনার পানিতে ভিজিয়ে নিলো নিজেদের। জাহিদের মনে হলো, সে এখন ঝরনাধোয়া সবুজ পাহাড়ের মতোই সতেজ হয়ে উঠেছে! আলহামদুলিল্লাহ। বন্ধুদের কাছে ডেকে সে বলল- আচ্ছা বলো তো, ঝরনার পানিতে গোসল করার পর কেমন লাগছে তোমাদের? সবার উত্তর একই। সবাই সতেজ। জাহিদ বলল, আজ তোমাদের অন্যরকম এক ঝরনার গল্প শোনাব।
আল্লাহর নবী আইয়ুব আ:-এর নাম শুনেছো নিশ্চয়ই। কোনো কিছুরই অভাব ছিল না তার। ছিল ফলের বাগান। শস্য-শ্যামল ক্ষেত। আরও ছিল অনেক সন্তান-সন্ততি। আল্লাহ তাকে পরীক্ষায় ফেললেন। তার সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হলো। শরীরে বাসা বাঁধল দুরারোগ্য ব্যাধি। দেহের সামান্য জায়গাও বাকি ছিল না, যেখানে পচন ধরেনি। কাছের মানুষজন সব দূরে সরে গেল। তাকে রেখে আসল শহরের ময়লা ফেলার স্থানে। কেবল তার স্ত্রী-ই ছিলেন পাশে। এভাবে কেটে যায় আট বছর। কেউ কেউ বলেছেন আঠারো বছর। একদিন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, ‘আমি তো দুঃখ-কষ্টে পড়েছি। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সূরা আম্বিয়া : ৮৩)
এরপর আল্লাহ তাকে বললেন, ‘তুমি পা দ্বারা ভূমিতে আঘাত করো।’ (সূরা সাদ : ৪২) তিনি তা-ই করলেন। আর তখনই ভূমি থেকে প্রবাহিত হলো নির্মল ঝরনা। সে পানিতে গোসল করার সাথে সাথেই তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন। অন্য আরেকটি ঝরনার পানি পান করলেন তিনি। যেন হারানো প্রাণ পুনরায় ফিরে পেলেন আল্লাহর নবী। তার স্ত্রী বাইরে থেকে ফিরে এসে তো প্রথমে আইয়ুব আ:-কে চিনতেই পারলেন না! আল্লাহ একে একে তাকে সবকিছু ফিরিয়ে দিলেন। এমনকি মৃত সন্তানদেরও জীবন দান করলেন।
সবাই অবাক হলো। জাহিদ বলল, এই নদী-ঝরনা আল্লাহর অপার দান। পানি থেকেই তিনি সমগ্র জগৎ সৃষ্টি করেছেন। এই পানিতেই রয়েছে জীবন। চলো, এখন থেকে আমরা আর পানি অপচয় করব না।
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply